ভারতীয় পুরতত্ত্বের পাল্লা কি হিন্দু পক্ষের দিকে ঝুঁকছে? জ্ঞানবাপীতে এএসআই সমীক্ষার রির্পোট প্রকাশ

বাংলাহান্ট ডেস্কঃ বারানসীর জ্ঞানবাপী মসজিদের (Gyanvapi Mosque) নীচে বিশাল একটি বড় মন্দির ছিল। আর সেই মন্দিরের বেশ কিছু নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে। এমনটাই চাঞ্চল্যকর দাবি আর্কিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার (ASI)। আদালতের নির্দেশে জ্ঞানবাপী মসজিদে সমীক্ষা চালায় গবেষকরা। আদালতের নির্দেশে ৮৩৯ পাতার রিপোর্টের কপি পাওয়ার পরে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করেন হিন্দু পক্ষের আইনজীবী বিষ্ণুশঙ্কর জৈন।

হিন্দুদের পক্ষের আইনজীবী বিষ্ণু শংকর জৈন জানান, ASI রিপোর্ট বলছে জ্ঞানবাপী মসজিদের নীচে হিন্দু মন্দির ছিল। আর সেই মন্দিরের কাঠামোও পাওয়া গিয়েছে বলে সমিক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। আর তার পরেই প্রশ্ন উঠেছে এএসআই-এর ‘বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার’ পদ্ধতি নিয়ে। মুসলিম পক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ রিপোর্টটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে খতিয়ে দেখে তারা প্রতিক্রিয়া জানাবে।

এএসআই রিপোর্ট উদ্ধৃত করে হিন্দু পক্ষের দাবি, মুঘল সম্রাট অওরঙ্গজেব ১৬৬৯ সালের ২ নভেম্বর মন্দির ভেঙে জ্ঞানবাপী মসজিদ নির্মাণের ফরমান দিয়েছিলেন। বিষ্ণুশঙ্কর জানিয়েছেন, সেই ফরমান সংক্রান্ত শিলালিপির সন্ধান মিলেছে সমীক্ষায়। রিপোর্টে ‘হিন্দু মন্দিরের অস্তিত্ব’ সম্পর্কে এ ধরনের মোট ৩২টি প্রমাণ মিলেছে বলে তাঁর দাবি। তবে তিনি বলেছেন, ‘‘হিন্দু মন্দির ভাঙার চেষ্টার কথা রয়েছে এএসআই রিপোর্টে।’’ তাঁর কথায়, ‘‘এএসআই-এর রিপোর্ট বলছে, মসজিদ তৈরির সময় কিছু বদল আনা হয়েছিল কাঠামোয়। সামান্য বদল এনে মন্দিরের স্তম্ভ এবং অন্যান্য অংশ ব্যবহার করা হয়েছে। নতুন কাঠামো তৈরি করতে হিন্দু মন্দিরের পিলারের চরিত্রে সামান্য বদল আনা হয়েছিল।’’

আরো পড়ুন- ভাটপাড়া উৎসবে মর্মান্তিক কান্ড! মঞ্চ থেকে পড়ে মৃত্যু নৃত্যশিল্পীর

সংগৃহীত ভাস্কর্য, মাটির পাত্র, টেরাকোটার নমুনা, মুদ্রা, ধাতু এবং কাচ থেকে হিন্দু মনন্দিরের অস্তিত্বের ‘প্রমাণ’ মিলেছে বলে বিষ্ণুশঙ্করের দাবি। তবে এএসআই রিপোর্টে কোথাও ‘মসজিদ’ শব্দটির উল্লেখ নেই। পরিবর্তে রয়েছে ‘বর্তমান কাঠামো’ শব্দবন্ধটি। বিষ্ণুশঙ্কর দাবি করেছেন মোট ৩৪টি লিপি উদ্ধার হয়েছে জ্ঞানবাপী থেকে। তার অনেকগুলিই প্রাক্‌-ইসলামি যুগের। দেবনগরী, তেলুগু, কন্নড় ভাষায় লেখা সেই সব লিপি সাধারণ প্রাচীন হিন্দু মন্দিরেই দেখা যায়। জৈনের কথায়, ‘‘এএসআই রিপোর্ট বলছে, বর্তমান ও প্রাচীন কাঠামোয় বেশ কয়েকটি লিপি নজরে এসেছে। প্রাচীন হিন্দু মন্দিরের গায়ে সেই সব লিপি খোদাই করা হয়েছিল। পরে সেই সব পাথর নতুন কাঠামো তৈরিতে কাজে লাগানো হয়।

উদ্ধার হওয়া লিপিতে জনার্দন, রুদ্র এবং উমেশ্বর এই দেবতার নাম পাওয়া গিয়েছে। পাওয়া গিয়েছে ‘ত্রিশূল’ চিহ্ন।’’ জ্ঞানবাপী মসজিদের ২১৫০.৫ বর্গমিটার এলাকার সমীক্ষা ক্ষেত্রের মধ্যে পশ্চিমের দেওয়াল, তহখানা এবং মূল কাঠামোর একাংশ থাকলেও ছিল না বিতর্কিত ওজুখানা। সেখানেই তথাকথিত শিবলিঙ্গের অস্তিত্ব রয়েছে বলে হিন্দু পক্ষের দাবি। তাদের মতে, সেখানেই ছিল ‘স্বয়ম্ভূ বিশ্বেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ’। মুসলিম পক্ষের মতে সেটি পুরনো একটি ফোয়ারার অংশ। ওজুখানা অঞ্চলের সমীক্ষার জন্য হিন্দু পক্ষের একটি আবেদন এখন শীর্ষ আদালতের বিচারাধীন। তহখানা এবং পশ্চিমের দেওয়ালে হিন্দু দেবদেবীর মূর্তির অস্তিত্ব এএসআইয়ের বিশেষজ্ঞেরা রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন বলে জানিয়েছেন বিষ্ণুশঙ্কর।

এএসআই রিপোর্টে ‘গ্রাউন্ড পেনিট্রেটিং রাডার’ ব্যবহার করে মাটির নীচের নানা স্তরে বিন্যস্ত বিভিন্ন যুগের কাঠামোর পরীক্ষার কথা রিপোর্টে উল্লিখিত হয়েছে বলে হিন্দু পক্ষের তরফে দাবি। বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে লিপি পাঠ, মুদ্রা, মূর্তি এবং অন্য ভাস্কর্যের প্রকৃতি দেখে তা কোন যুগের নির্মাণ, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু প্রাপ্ত নমুনাগুলির কার্বন ডেটিং পরীক্ষা করেনি এএসআই। সেই পরীক্ষার জন্যও পৃথক আবেদন হয়েছে আদালতে। পুরাতত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই পরীক্ষা হয়ে ‘ধ্বংস হওয়া বড় হিন্দু মন্দিরের’ বয়স চিহ্নিত করা যেতে পারে।

তবে কোনও শিলাখণ্ডের বয়স নির্ধারণে কার্বন ডেটিং পদ্ধতির প্রয়োগ নিয়ে সংশয়ে বিশেষজ্ঞদের আর এক অংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, কার্বন ডেটিংয়ের মাধ্যমে মূলত জীবাশ্ম বা দেহাবশেষের বয়স নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু শিলার বয়স নির্ধারণ করা কঠিন। প্রসঙ্গ, প্রাকৃতিক পরিবেশে কার্বনের সবচেয়ে বেশি যে আইসোটোপ পাওয়া যায় তা হল কার্বন-১২। সেই সঙ্গে খুব অল্প পরিমাণ কার্বন-১৪-ও পাওয়া যায়। পরিবেশে এই দুই আইসোটোপের অনুপাত প্রায় স্থির।

বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, পরিবেশ থেকে এই দুই ধরনের কার্বন আইসোটোপই গ্রহণ এবং ত্যাগ করে প্রাণী বা উদ্ভিদ। মৃত্যুর পরে সেই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়। কার্বন-১২ আইসোটোপের ক্ষয় হয় না। কিন্তু কার্বন-১৪ আইসোটোপ তেজস্ক্রিয়। ৫,৭৩০ বছর পরে কার্বন-১৪-এর পরিমাণ অর্ধেক হয়ে যায়। একেই বিজ্ঞানীরা বলেন ‘হাফ লাইফ’। ফলে প্রাণী বা উদ্ভিদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর পরে কার্বনের এই দুই আইসোটোপের অনুপাত বদলায়। কার্বন ডেটিং পদ্ধতিতে সেই পরিবর্তনের হিসেব করে ওই প্রাণী বা উদ্ভিদের মৃত্যুর আনুমানিক সময় নির্ধারণ করা সম্ভব। কিন্তু শিলার মতো বস্তুর ক্ষেত্রে এ ভাবে বয়স নির্ধারণ কঠিন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। এ ক্ষেত্রে মূলত শিলাখণ্ডের নীচে চাপা পড়া কোনও জৈব বস্তুর উপস্থিতির উপর নির্ভর করতে হয়।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগেই অয্যোধ্যায় রামমন্দিরের উদ্বোধন হয়েছে। আবেগে ভাসছে গোটা দেশ। আর এর মধ্যেই প্রকাশ্যে এল আর্কিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার এই রিপোর্ট।

উপচে পড়ছে প্রণামী বাক্স! প্রথম দিনেই কোটি কোটি টাকা ‘পেলেন’ রামলালা

বাংলাহান্ট ডেস্কঃ ২২ জানুয়ারি উদ্বোধনের পর থেকেই আলোচনার শিরোনামে রয়েছে অযোধ্যার রামলালার মন্দির। রামলালাকে একবার দর্শনের জন্য দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভিড় জমিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ, উদ্বোধনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কোটি কোটি টাকা জমা পড়ল সেখানে! প্রথম দিনেই রেকর্ড অনুদান পেল রাম মন্দির কর্তৃপক্ষ। বুধবার যা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র টাস্ট। রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর প্রথম দিনেই ৩ কোটির বেশি টাকা অনুদান জমা পড়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। যা পরে অস্বীকার করেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।

মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে খালি হাতে দর্শন নয়, দানবাক্স উপচে পড়ছে ভক্তদের দানে। মোট ১০টি কাউন্টার খোলা হয়েছিল দান গ্রহণ করার জন্য। পাশাপাশি ব্যবস্থা করা হয়েছিল ‘অনলাইন ডোনেশনের’। অযোধ্যার রামের ভক্তেরা সেখানে দু’হাত ভরে দান করেছেন বলে জানাল রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্রের অছি পর্ষদ।

আরো পড়ুন- পর্যটকদের জন্য সুখবর! দীঘা যাওয়া নিয়ে বড় খবর দিল রেল

সোমবারই উদ্বোধন হয়েছে অযোধ্যার রামমন্দিরের। তার পরের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকে ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে দরজা। মন্দিরের এক অছি সদস্য অনিল মিশ্র জানিয়েছেন, মঙ্গল এবং বুধ দু’দিনেই অন্তত ৫ লক্ষ (দিন প্রতি) ভক্তের সমাগম হয়েছে রামমন্দিরে। আর প্রথম দিনেই কয়েক কোটি টাকা জমা পড়েছে মন্দিরের দানবাক্সে।

আপাতত শুধু মঙ্গলবারের দানের হিসাব করে উঠতে পেরেছেন তাঁরা। তাতেই জানা গিয়েছে রামলালার জন্য প্রথম দিন সব মিলিয়ে ৩ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা দান করেছেন ভক্তরা।

অনলাইন এবং মন্দিরের ১০টি কাউন্টারে জমা পড়া অর্থ মিলিয়ে এই হিসাব। প্রথম দিনেই এই পরিমাণ অর্থ দান তহবিলে জমা পড়ায় চমৎকৃত মন্দির কর্তৃপক্ষ।

অবশ্য কেন্দ্র আগেই জানিয়েছে, অযোধ্যার রামমন্দির তৈরি হয়েছে গোটা দেশ থেকে আসা দানের অর্থে। কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে মন্দির তৈরি করতে।

উদ্বোধনের আগে বিভিন্ন রাজ্য থেকে রামলালার বিগ্রেহর জন্যও এসেছে নানা দানসামগ্রী। ফলে প্রথম দিনে কোটি টাকার দান আসবে সেটাই স্বাভাবিক— এমনও বলছেন কেউ কেউ।

Makar Sankranti 2024: মকর সংক্রান্তি উৎসব! জেনে নিন এই বছর শাহি স্নানের সময় এবং পূর্ণ স্নানের স্থান

বাংলাহান্ট ডেস্কঃ আগামী সোমবার ১৫ জানুয়ারি দেশজুড়ে পালিত হবে মকর সংক্রান্তি (Makar Sankranti) উৎসব। এই উৎসব হিন্দুদের অন্যতম প্রধান উৎসব। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মকর সংক্রান্তি বিভিন্ন নামে পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি পৌষ পার্বণ হিসেবে পালিত হয়। এ ছাড়াও গুজরাটে উত্তরায়ণ, উত্তরপ্রদেশে খিচুড়ি, দক্ষিণ ভারতে পোঙ্গাল, পঞ্জাবে লোহড়ি নামে পালিত হয় মকর সংক্রান্তি। জ্যোতিষ অনুযায়ী সূর্য যখন ধনু রাশি থেকে বেরিয়ে মকর রাশিতে প্রবেশ করে, তখন মকর সংক্রান্তি পালিত হয়। এই তিথিতে গঙ্গা স্নানের বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। এ ছাড়াও এই তিথিতে সূর্য পুজো করা হয়ে থাকে

পঞ্চাং অনুসারে, এই বছর শাহি স্নানের সময়-

১৫ জানুয়ারি সোমবার মকর সংক্রান্তির উৎসব পালিত হবে

এদিন সকাল ৭ টা ১০ মিনিটে সূর্য ধনু রাশি ছেড়ে মকর রাশিতে প্রবেশ করবে

মকর সংক্রান্তির পুণ্যকাল মুহুর্ত হবে সকাল ৭ টা ১৫ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৫ টা ৪৫ মিনিট

মহাপুণ্য কাল মহা মুহুর্ত হবে সকাল ৭ টা ১০ মিনিট থেকে রাত ৮ টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত

সোমবার রাতে ৭ টা ১০ মিনিটে ধনু রাশি ত্যাগ করে মকর রাশিতে প্রবেশ করবে। শাস্ত্রে দান ও স্নানের শুভ সময়কে উদয় তিথি বলে মনে করা হয়েছে। সেজন্য উদয় তিথি অনুসারে, ১৫ জানুয়ারি সোমবার মকর সংক্রান্তি উৎসব পালিত হবে। দান, দান এবং স্নানের শুভ সময়ও ১৫ জানুয়ারি হবে।

একটি ধর্মীয় বিশ্বাস আছে যে এই দিনে গঙ্গা নদীতে স্নান করলে সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এই সম্পর্কে একটি জনপ্রিয় পৌরাণিক কাহিনীও রয়েছে, যা নিয়ে লোকেরা গঙ্গা স্নানের পরে দান করে। মকর সংক্রান্তির দিনেও ব্যাপকভাবে ঘুড়ি ওড়ানো হয়। একই সময়ে, এই দিনে লোকেরাও বেড়াতে যায় এবং তাদের প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটায়।

জেনে নিন কোথায় গঙ্গা স্নান করা যায়-

এই দিনে লোকেরা ত্রিবেণী সঙ্গমে রাজকীয় স্নান করতে পারে। এই নদীটি সবচেয়ে পবিত্র স্থানের অন্তর্ভুক্ত। এখানে গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী তিনটি নদী মিলিত হয়েছে, তাই একে ত্রিবেণী সঙ্গম বলা হয়। মকর সংক্রান্তির দিন এখানে রাজকীয় স্নানের আয়োজন করা হয় যাতে প্রচুর সংখ্যক ভক্ত আসেন।

গঙ্গা সাগর-

মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে গঙ্গা সাগরে রাজকীয় স্নান করতে মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। এখানে গঙ্গা নদী সাগরে মিলিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত এই স্থানটি হিন্দুদের জন্য একটি পবিত্র স্থান। এই স্থানে স্নান করা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয় কারণ পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে, যে ব্যক্তি গঙ্গা সাগরে স্নান করেন তিনি ১০ টি অশ্বমেধ যজ্ঞ করার সমান পুণ্য লাভ করেন। কথিত আছে যে এখানে ডোবানোর ফলে এক হাজার গরু দান করার সমান ফল পাওয়া যায়।

কাশী-

কাশীকে শিবের শহরও বলা হয়। মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে দেশ-বিদেশের মানুষ এখানে এসে রাজকীয় স্নান করেন। এই দিনে, কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরেও খিঁচুড়ি মহোৎসবের আয়োজন করা হয় যাতে বিপুল সংখ্যক ভক্ত অংশগ্রহণ করে।

হরিদ্বার-

হরিদ্বারও একটি ধর্মীয় শহর। এই উত্সব উপলক্ষে, গঙ্গা নদীর তীরে অনেক ঘাটে বিশ্বাস জড়ো হয়, তবে হর কি পৌড়িতে স্নানের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে বলে মনে করা হয়। সংক্রান্তি উপলক্ষে এখানে মেলার আয়োজন করা হয় এবং এটাও বলা হয় যে গঙ্গায় ডুব দিলে সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

স্নান এবং দান করার জন্য শুভ সময়-

পুণ্যকাল – মকর সংক্রান্তির পুণ্যকাল মুহুর্ত হবে সকাল ৭ টা ১৫ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৫ টা ৪৫ মিনিট

মহাপুণ্য কাল মহা মুহুর্ত হবে সকাল ৭ টা ১০ মিনিট থেকে রাত ৮ টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।

এই রামমন্দির উদ্বোধন সনাতন ধর্ম বিরোধী! উদ্বোধনে নেই ৪ শঙ্করাচার্য

বাংলাহান্ট ডেস্কঃ আমন্ত্রণ পেয়েও ২২ জানুয়ারির অযোধ্যায় রামমন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না ৪ শঙ্করাচার্য। তাঁদের মতে এই উদ্বোধন সনাতন ধর্মের নিয়মের লঙ্ঘন। শঙ্করাচার্যদের মতে, মন্দির সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠা না করেই দেবতার প্রাণ প্রতিষ্ঠা উৎসব সঠিক নয়। এই ঘটনা হিন্দু শাস্ত্রের বিধি বিরুদ্ধ। শঙ্করাচার্য বলছেন,’এত তাড়াহুড়োর দরকার ছিল না’।

চলতি মাসের গোড়াতেই ওড়িশায় পুরী গোবর্ধনপীঠের শঙ্করাচার্য স্বামী নিশ্চলানন্দ সরস্বতী জানিয়েছিলেন, তিনি অযোধ্যার অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না। বৃহস্পতিবার উত্তরাখণ্ডের জোশীমঠের জ্যোতির্মঠপীঠের শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী জানান, দেশের চার পীঠের চার শঙ্করাচার্যই ঠিক করেছেন ওই অনুষ্ঠানে না যাওয়ার। হরিদ্বারে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘২২ জানুয়ারি অযোধ্যায় সনাতন ধর্মের লঙ্ঘন হতে চলেছে। চার শঙ্করাচার্যের কেউই তাই সেখানে উপস্থিত থাকবেন না।’’

আরো পড়ুন- মোদীকে নিয়ে কুমন্তব্য, চটেছে ভারত! মুখে ভাত জুটবে কোথা থেকে? চিন্তায় মলদ্বীপবাসী

রামমন্দির উদ্বোধনের আগে হিন্দুধর্মের চার শীর্ষস্থানীয় সন্তের এই সিদ্ধান্ত বিজেপি তথা সঙ্ঘ পরিবারকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংহ বলেন, রামমন্দির নির্মাণের কাজ এখনও পুরো শেষ হয়নি। তার আগেই ভোটের দিকে নজর করে আগামী ২২ জানুয়ারি তা উদ্বোধন করা হচ্ছে। বিজেপি এবং সঙ্ঘ পরিবারের এই পদক্ষেপ হিন্দুদের ধর্মীয় রীতির বিরোধী। সে কারণেই শঙ্করাচার্যেরাও ২২ জানুয়ারি অযোধ্যায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না।’’ এর পরেই সাংবাদিকদের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন— ‘‘তা হলে আমরা কেন যাব? আমাদের কি যাওয়া উচিত হবে।’’

যদিও রামমন্দির উদ্বোধন এড়িয়ে যাওয়া নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরের ‘ভিন্নমত’ বৃহস্পতিবারই প্রকাশ্যে এসেছে। উত্তরাখণ্ডের কংগ্রেস সরকারের মন্ত্রী তথা প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বীরভদ্র সিংহের ছেলে বিক্রমাদিত্য বলেছেন, ‘‘এক জন সনাতন ধর্মাবলম্বী হিসাবে রামমন্দির উদ্বোধনের ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পেয়ে আমি গর্বিত। অবশ্যই ২২ তারিখে আমি অযোধ্যায় যাব।’’

মোদীকে নিয়ে কুমন্তব্য, চটেছে ভারত! মুখে ভাত জুটবে কোথা থেকে? চিন্তায় মলদ্বীপবাসী

বাংলাহান্ট ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লাক্ষাদ্বীপ সফর নিয়ে কুমন্তব্য করেছিলেন মলদ্বীপের তিন মন্ত্রী! তার জেরে ভারত এবং মালদ্বীপের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। বিষয়টিকে মলদ্বীপের নতুন সরকার খুব একটা আমল দিতে না চাইলেও সাধারণ মানুষ কিন্তু উদ্বিগ্ন। ভারতের আচমকা চটে যাওয়ায় মাথায় হাত মলদ্বীপবাসীর। তাঁদের আশঙ্কা, দ্বীপরাষ্ট্রের মূল রোজগারের উৎস পর্যটন শিল্প এ বার মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। বেশ কিছু খাবারের জন্য তারা নির্ভরশীল ভারতের উপর। সেই খাবারের জোগান বন্ধ হতে পারে বলেও আশঙ্কা সাধারণ মানুষের।

মলদ্বীপের এই কর্মকাণ্ডে শুধু দেশের বাইরেই নয়, দেশের অন্দরেও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিরোধী নেতাদের দাবি, খাবার থেকে শুরু করে চিকিৎসা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের উপরে নির্ভরশীল মলদ্বীপ। সেখানেই ভারতের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে নিজের পায়ে কুড়ুল মেরেছে মলদ্বীপ। পাশাপাশি ভারতীয় পর্যটকরা মলদ্বীপ বয়কটের ডাক দেওয়ায় আয়ের অন্যতম উৎসই ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

আরো পড়ুন- মুম্বাইয়ে দেশের দীর্ঘতম সমুদ্রসেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

গত বছরের পরিসংখ্যান বলছে, মলদ্বীপে সবথেকে বেশি ঘুরতে গিয়েছিলেন ভারতীয় পর্যটকরাই। কিন্তু সম্প্রতিই মলদ্বীপের মন্ত্রীরা ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ‘ক্লাউন’ ও ‘ইজরায়েলের হাতের পুতুল’ বলে কটাক্ষ করেছেন। এরপরই মলদ্বীপ বয়কটের ডাক ওঠে। পর্যটকরা মলদ্বীপ থেকে মুখ ফিরিয়ে লাক্ষাদ্বীপে যাচ্ছেন। মলদ্বীপের বাসিন্দাদের এখন উদ্বেগ, ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক চাপানউতরের কারণে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ধাক্কা খেতে পারে খাদ্য আমদানি।

মলদ্বীপের এক আইনজীবী আয়িক আহমেদ ইসা মনে করেন, যে তিন মন্ত্রী ভারতের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা উচিত ছিল মুইজ্জু সরকারের। ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার উপরই জোর দিয়েছেন তিনি। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘‘তিন মন্ত্রীকে বহিষ্কার করা উচিত ছিল। ভারত এই নিয়ে কী প্রতিক্রিয়া দেয়, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছি। খাবারের জন্য আমরা ভারতের উপর নির্ভর করি অনেকটাই।’’

ভারত মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপ মলদ্বীপ। সেখানের জনসংখ্যা মাত্র ৫ লক্ষ ২০ হাজার। সেখানেই ভারতের জনসংখ্যা ১.৪ বিলিয়ন বা ১৪০ কোটি। খাবার থেকে শুরু করে পরিকাঠামো, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, চিকিৎসা ব্যবস্থা- অত্যাবশ্যকীয় জিনিসগুলির মলদ্বীপ পড়শি দেশ ভারতের উপরই নির্ভরশীল। করোনাকালেও মলদ্বীপকে সবার আগে ১ লক্ষ করোনা টিকা দিয়ে সাহায্য করেছিল ভারত। নতুন প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জু এই উপকার ভুলে গেলেও, মলদ্বীপের বাসিন্দারা তা ভোলেননি। এই কারণেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে চিড় ধরতেই নিজের দেশের সরকারের উপরে ক্ষুব্ধ মলদ্বীপের বাসিন্দারা।

বিরোধী নেতারা যেমন মলদ্বীপের প্রেসিডেন্টের ইস্তফার দাবি তুলেছেন, তেমনই দেশের নাগরিকরাও সরকারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। তাদের কথায়, “সরকার অবিবেচকের মতো কাজ করেছে। ভারত বয়কটের ডাক দেওয়ায় আমরা অত্যন্ত দুঃখিত। কিন্তু আমরা তার থেকেও বেশি অসন্তুষ্ট ও হতাশ আমাদের সরকারের উপরে।।

মুম্বাইয়ে দেশের দীর্ঘতম সমুদ্রসেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

বাংলাহান্ট ডেস্কঃ মুম্বাইয়ে দেশের দীর্ঘতম সমুদ্রসেতুর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর নামে এই সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে— ‘অটলবিহারী বাজপেয়ী সেওয়ারি-নভ সেবা অটল সেতু’। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ৩টে নাগাদ এই সেতুর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ২১.৮ কিলোমিটার লম্বা এই সেতুতে যান চলাচল শুরু হয়ে যাবে বলে খবর। প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছে এই সমুদ্রসেতু। এই সেতুর ফলে ২ ঘণ্টার পথ পাড়ি দেওয়া যাবে মাত্র ২০ মিনিটে।

আরো পড়ুন- চাকরি প্রার্থীদের জন্য বিরাট সুখবর! হাজার হাজার শূন্য পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত মমতার মন্ত্রিসভার

সেতুর দৈর্ঘ্য ২১.৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৬.৫ কিলোমিটার সমুদ্রের উপর দিয়ে। বাকি ৫.৫ কিলোমিটার স্থলভাগের উপর দিয়ে প্রসারিত। সমুদ্রের উপর এত দীর্ঘ সেতু এ দেশে আর নেই। সেতুতে রয়েছে ছ’টি লেন। দীর্ঘ এই সেতুটি তৈরিতে খরচ হয়েছে ১৭ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বড় অংশ ঋণ নেওয়া হয়েছে।

এই সেতুর কারণে এবার মুম্বই থেকে আরও কম সময়ে পুণে, গোয়া, দক্ষিণ ভারতে পৌঁছনো যাবে। এর ফলে পর্যটন শিল্পের আরও উন্নতি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আগে মুম্বই থেকে নভি মুম্বই যেতে সময় লাগত দু’ঘণ্টা। রাস্তায় থাকত তীব্র যানজট। নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ত। দাবি করা হয়েছে, এর পর ২০ মিনিটে মুম্বই থেকে নভি মু্ম্বই পৌঁছনো যাবে।

তবে এই সেতুতে যাতায়াতে বড় অঙ্কের টোলও দিতে হবে। একটি গাড়িকে সেতু দিয়ে এক বার যেতে ২৫০ টাকা টোল দিতে হবে। ওই একই দিনে ফিরতে গেলে আরও কিছুটা বেশি টোল দিতে হবে। মহারাষ্ট্র সরকার এই প্রস্তাব পাশ করেছে।

বুধবার পুলিশ জানিয়েছে, অটল সেতুর উপর চার চাকার গাড়ি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার গতিতে চালানো যাবে। গতিবেগ এর থেকে বেশি বৃদ্ধি করা যাবে না। সেতুতে ওঠা এবং নামার সময় গতি ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার রাখতে হবে। তবে এই সেতুতে মোটরবাইক, অটো বা ট্রাক্টর চলাচল করবে না। গাড়ি, বাস, মিনিবাস, ট্যাক্সি চলবে।

বাংলার প্রাপ্য বকেয়া চাইতে এবার মোদির সঙ্গে বৈঠক মমতার

বাংলার প্রাপ্য বকেয়া চাইতে এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), আজ, বুধবার দিল্লির নয়া সংসদ ভবনে মোদির (PM Modi) সঙ্গে সকাল ১১টায় বৈঠক শুরু। বৈঠকে মমতার সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও রয়েছেন আরও ১০ তৃণমূল সাংসদ।

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দি রায়দের নিয়ে বুধবার মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মমতা। সূত্রের খবর, বৈঠকের জন্য নির্ধারিত কক্ষে ঢুকতেই মমতাকে দেখে এগিয়ে আসেন মোদি। প্রশ্ন করেন, “দু’মাস তো হয়ে গেল পায়ে আঘাত লেগেছিল। এখন কেমন আছে আপনার পা?” উত্তরে মমতা বলেন, “আমি ভাল আছি, আপনি ভাল তো?”

১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা-সহ একাধিক প্রকল্পে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগ নিয়ে দিল্লি গিয়েছিলেন মমতা। বকেয়ার দাবিতে মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, জমা দেন মেমোরেন্ডামও।

বৈঠক শেষে বেরিয়ে মমতা জানান, ১০০ দিনের কাজ, প্রধান মন্ত্রী আবাস যোজনা, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা, ন্য়াশনাল হেলথ মিশন-সহ একাধিক প্রকল্পে কেন্দ্রের থেকে রাজ্যের পাওনা প্রায় ১ কোটি ১৬ লক্ষ কোটি টাকা।

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এদিনই তৃণমূল সরকারের বিরুদধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

শুধু তাই নয়, মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের পর মমতা যখন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন, প্রায় ওই একই সময়ে নবান্নে হাজির হন শুভেন্দু। সেখানে মুখ্যসচিবের সঙ্গে দেখা করেন। কেন্দ্রের দেওয়া টাকা রাজ্য নয়ছয় করেছে, বাংলার মানুষকে বঞ্চিত করা হচ্ছে লেখা পোস্টারও ছিল শুভেন্দুর হাতে।

নবান্ন থেকে বেরিয়ে শুভেন্দু বলেন, “এই নাটুকে, মিথ্যাবাদী, পরিবাবাদী, তোষণবাদী এবং দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের কোনও অধিকার নেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে বঞ্চনার দাবি তোলার।” কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে নবান্নে ঢোকার প্রশ্নে শুভেন্দু জানান, ১৪৪ ধারা জারি থাকে সব সময়। আগে জানালে ঘেঁষতে দেওয়া হতো না তাঁদের।

Ram Temple: রাম মন্দির উদ্বোধনের প্রস্তুতি তুঙ্গে! সাজ সাজ রব অযোধ্যা জুড়ে

বাংলাহান্ট ডেস্কঃ শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। সাজ সাজ রব অযোধ্যা জুড়ে। আগামী ২২ জানুয়ারি রাম মন্দিরের (Ram Temple) উদ্বোধনের কথা। রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, রাম মন্দিরের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেশ ও বিদেশ থেকে প্রায় ৪ হাজার সাধুকে আমন্ত্রণ জানান হয়েছে। আমন্ত্রিতের তালিকায় রয়েছে, আড়াই থেকে তিন হাজার বিশিষ্ট ব্যক্তি। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। থাকবেন দেশের শীর্ষস্তরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তরা।

তালিকায় কারা রয়েছেন?

শোনা যাচ্ছে, রাম মন্দিরের উদ্বোধনে আমন্ত্রিত কিংবদন্তি ক্রিকেটার সচিন তেন্ডুলকর, বিরাট কোহলিরা। পাশাপাশি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি, গৌতম আদানি, রতন টাটাদের ও। সেই তালিকা থেকে বাদ যাবেন না বলিউডের কিংবদন্তিরাও। ২২ তারিখ অযোধ্যায় উপস্থিত থাকার কথা বলিউডের একঝাঁক তারকারও। সেই তালিকায় থাকছেন কে কে?

শোনা যাচ্ছে, বলিউডের প্রবাদপ্রতিম অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন, রামানন্দ সাগরের ‘রামায়ণে’ রামের চরিত্রে অভিনয় করা অরুণ গোভিল এবং সীতা দীপিকা চিখিলিয়াদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এই অনুষ্ঠানে। এছাড়াও তালিকায় রয়েছেন, মাধুরী দিক্ষীত, অক্ষয় কুমার, অনুপম খের, রাজকুমার হিরানি, সঞ্জয় লীলা ভনশালী, রোহিত শেট্টি। দক্ষিণী তারকাদের মধ্যে থাকছেন, রজনীকান্ত , চিরঞ্জিবী , ধনুশ, মোহনলাল, ঋষভ শেট্টি-ও। সুতরাং আশা করাই যায়… ২২ জানুয়ারি চাঁদের হাট বসবে অযোধ্যায়। উপলক্ষ্য রাম মন্দিরে উদ্বোধন।

এছড়াও ২২ জানুয়ারি অযোধ্যার নবনির্মিত মন্দিরে উপস্থিত থাকবেন সংঘপ্রধান মোহন ভাগবত, যোগগুরু রামদেব, ভিন্ন গোষ্ঠীর ৪ হাজার সন্ন্যাসী, লেখক, সাংবাদিক, বিজ্ঞানী-সহ বিশিষ্টজনেরা।

আমন্ত্রণ পত্রের প্রোটোকল-

শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রধান সম্পাদক চম্পত রাই বলেছেন, আমন্ত্রণ পত্রগুলিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট যোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, পবিক্রকরণ কর্মসূচিতে প্রবেশের জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রোটোকলের উপর জোর দিয়েছেন। অনুষ্ঠান পর্ব যাতে মসৃণভাবে চলে তার জন্য সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমন্ত্রিতরাও যাতে সমস্ত প্রোটোকল মেনে চলেন তারও আহ্বান জানিয়েছেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নির্দেশিকা

ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই উপস্থিতদের অসুবিধে এড়াতে প্রোটোকল মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন। আমন্ত্রণপত্রেই বলা হয়েছে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের আধার কার্ড সঙ্গে আনতে হবে। তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে অনুষ্ঠান স্থলে ঢুকতে দেওয়া হবে। ক্যামেরা নিয়েও অনুষ্ঠান স্থলে ঢোকা যাবে না।

আমন্ত্রণপত্রের নির্দেশিকা

উপাদানের বিধিনিষেধ- দর্শনার্থীরা মন্দির প্রাঙ্গনে মোবাইল ফোন, ক্যামেরার মত গেজেট নিয়ে যেতে পারেবে না। স্পষ্ট করে তার নির্দেশ জারি করা রয়েছে।

ভক্তিমূলক পথ-অংশগ্রহণকারীদের একটি ভক্তিমূলক পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। তাদের সফরের সময় একাধিক আধ্যাত্মিক বার্তা গ্রহণ করতে হবে।

লজিস্টিক বিষয়-আমন্ত্রণপত্রে লজিস্টিক বিশদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যেমন অযোধ্যায় প্রস্তাবিত আগমনের সময়, মসৃণ প্রবেশ এবং ব্যবস্থার সুবিধার্থে তাড়াতাড়ি আগমনের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া।

মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনুষ্ঠানমঞ্চে বেলা ১১টার মধ্যে প্রবেশ করতে হবে। এই সময়ই প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এই অনুষ্ঠান চলবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। তাঁর অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগের পরই বাকিরা সেখানে প্রবেশের অধিকার পাবেন। তবে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ ও আমন্ত্রিত অতিথিদের একটি বিশেষ ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন আমন্ত্রণপত্র দেওয়া হয়েছে। আমন্ত্রণপত্রের সঙ্গে একটি লিঙ্ক দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকেই আমন্ত্রিতরা নিজের তথ্য দিয়ে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন পত্র পাওয়া যাবে।

সংসদে হানার ঘটনায় মোদি সরকারই দায়ী, তোপ রাহুল গান্ধীর

বাংলাহান্ট ডেস্কঃ সংসদে হানা নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী! এই ঘটনায় তিনি মোদি সরকারকেই সরাসরি দায়ী করেছেন।

শনিবার রাহুল দাবি করেন, মোদীর নীতির জন্য দেশের মানুষ কাজ পাচ্ছেন না। দেশে বেকারত্বের সংখ্যা বাড়ছে। এই বেকারত্বের জন্যই সংসদে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের মতো ঘটেছে। ঘটনাচক্রে, দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সংসদে হানা দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, বেকারত্ব, মণিপুর হিংসা, কৃষক বিক্ষোভ নিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তাঁরা ক্যানিস্টার বা রংবোমা নিয়ে সংসদে গিয়েছিলেন।

অন্য দিকে, সংসদে রংবোমা নিয়ে হানা দেওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শুক্রবারও বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলের সাংসদেরা। বিক্ষোভরত সাংসদেরা এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি দাবি করেন। দফায় দফায় অশান্তির জেরে সোমবার পর্যন্ত মুলতুবি হয়ে গেছে লোকসভা এবং রাজ্যসভার অধিবেশন।

গত ২৮ মে বিপুল সমারোহে নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেপ্টেম্বরে গণেশ চতুর্থী তিথিতে অধিবেশন শুরু হয়েছিল নতুন ভবনে। কিন্তু তার তিন মাসের মধ্যেই সুরক্ষার গুরুতর গাফিলতি দেখা গেল সেখানে। বুধবার তিন স্তরের সুরক্ষা বলয় টপকে কী ভাবে চার বিক্ষোভকারী গ্যাস-ক্যানিস্টার নিয়ে ভবনের সংরক্ষিত এলাকায় পৌঁছে গেলেন, এমনকি তাঁদের মধ্যে দু’জন লোকসভার অধিবেশনে ঢুকে দর্শক আসন থেকে ফ্লোরে ঝাঁপ মারার সুযোগ পেলেন, তা নিয়ে বৃহস্পতিবার লোকসভা এবং রাজ্যসভায় সরব হন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সাংসদেরা।

Ram Temple: ভূমিকম্পেও নড়বে না মন্দির! আগামী ১০০০ বছরেও মন্দির সংস্কারের প্রয়োজন হবেনা

বাংলাহান্ট ডেস্কঃ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণের দোরগোড়ায় গোটা দেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে উদ্বোধনীর অপেক্ষায় রাম মন্দির (Ram Temple)। আগামী ২২শে জানুয়ারি উদ্বোধন হতে চলেছে রাম মন্দিরের। নাগারা স্টাইলে গোলাপি স্যান্ড দিয়ে তৈরি হয়েছে এই ঐতিহাসিক মন্দিরটি। খোদাই করা হয়েছে রাজস্থানের মির্জাপুর ও বাঁশি-পাহাড়পুর থেকে আনা মার্বেল পাথর। ১৭ হাজার গ্রানাইট পাথরও ব্যবহার করা হয়েছে মন্দির নির্মাণে। শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই বলেন, “এ পর্যন্ত ২১ লক্ষ কিউবিক ফিট গ্রানাইট, স্যান্ডস্টোন এবং মার্বেল পাথর ব্যবহার করা হয়েছে মন্দির নির্মাণে।”

জানা গিয়েছে ১০০০ বছরেও এই মন্দিরের গায়ে কোন আঁচড় লাগবে না। কারন মন্দির নির্মাণে স্টিল এবং সাধারণ সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি। চেন্নাই আইআইটির পরামর্শে মন্দিরের ভিত ১২ মিটার গভীর। ভিত ভরতে যে মাটি ব্যবহার করা হয়েছে, আঠাশ দিনের মধ্যেই তা পাথরে পরিণত হতে পারে। রাই জানান, যেভাবে মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছে, তাতে অন্ততপক্ষে হাজার বছর মন্দির সংস্কারের প্রয়োজন হবে না। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৬.৫ হলেও, ভিত নড়বে না মন্দিরের।

ট্রাস্ট-এর তরফে চম্পত রায় দাবি করেন, আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে মন্দিরের ভিত নির্মাণ করা হচ্ছে যাতে তা কমপক্ষে ১,৫০০ বছর টিকে থাকে এবং মন্দিরের কাঠামো যাতে অন্তত ১,০০০ বছর অটুট থাকে, সে ভাবেই নির্মাণ করা হচ্ছে।

ঋতুস্রাবে মহিলাদের ছুটির প্রয়োজন নেই! ঋতুকালীন ছুটির ঘোর বিরোধি স্মৃতি ইরানি

বাংহাহান্ট ডেক্সঃ ঋতুস্রাব সাধারণ বিষয়, তাই ঋতুকালীন মহিলাদের ছুটির কোন প্রয়োজন নেই এমনটাই মনে করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। বুধবার রাজ্যসভায় সাংসদ মনোজ কুমার ঝায়ের একটি প্রশ্নের জবাবে স্মৃতি বলেন, ঋতুস্রাব মহিলাদের জীবনের একটি স্বাভাবিক অংশ, এটি কোনও প্রতিবন্ধকতা নয়। ঋতুস্রাবের জন্য বিশেষ ছুটি মঞ্জুর করার করা উচিত নয়।

মহিলাদের ঋতুস্রাব নিয়ে সংসদে অকপট স্মৃতি। তাঁর মতে, ঋতুস্রাবের সময় মহিলাদের সবেতন ছুটি তাঁদের প্রতি বৈষম্য হতে পারে। এই বিষয়ে সংসদে সকলকে সতর্ক করেন স্মৃতি। বলেন, ‘সংসদে এমন কোনও প্রস্তাব রাখা উচিত নয় যেখানে মহিলাদের সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হয়। যে সকল মহিলার ঋতুস্রাব হয় না মাসিকের প্রতি তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গিতে এক্ষেত্রে আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়ার কোনও অর্থ হয় না।’

নিজের বক্তব্যে স্মৃতি ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত সচেতনতার গুরুত্বের কথাও বলেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক কর্তৃক এই বিষয়ে একটি খসড়া জাতীয় নীতি প্রনয়ণের কথাও বলেন। স্মৃতির কথায়, ‘কিছু সামাজিক নিষেধাজ্ঞা জড়িয়ে রয়েছে মহিলাদের ঋতুস্রাবের সঙ্গে। মহিলার স্বাধীন ঘোরাফেরাও বন্ধ করা হয়। বহু ক্ষেত্রে মহিলারা ঋতুস্রাবের সময় হেনস্থার শিকারও হন। সামাজিক ছুৎমার্গের কারণে স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয় তাঁদের। যখন কোনও কিশোরী শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যায় এবং এই পরিবর্তন সম্পর্কে অবগতই না হয়, তখন বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে।’

প্রসঙ্গত, কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর গত ৮ ডিসেম্বর ঋতুস্রাবকালীন সবেতন ছুটির প্রসঙ্গে তুলেছিলেন সংসদে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি বুধবার এই বিষযে জানান, ভারত সরকার এখনও পর্যন্ত ঋতুস্রাবকালীন সবেতন ছুটির কোনও প্রস্তাব করেনি। সংসদে সোমবার একটি রিপোর্ট জমা দেওয়া হয় যেখানে মহিলাদের ঋতুস্রাবের সমস্যাকে গুরুতর স্বাস্থ্যসমস্যা হিসাবে বিবেচনা করে সেই সময় ছুটির অধিকারের দাবি করা হয়। বুধবার সংসদে সেই দাবি ঘিরেই সংসদে সওয়াল-জবাব পর্ব চলে।

ছত্তিশগড়ের কুর্সিতে নতুন মুখ! আদিবাসী নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী করে বিরাট চমক বিজেপির

সব জল্পনার অবসান। রবিবার সামনে এল ছত্তিসগড়ের মুখ্যমন্ত্রীর নাম। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিষ্ণুদেও সাইকে বেছে নিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বিষ্ণুদেও সাই হতে চলেছেন ছত্তিশগড়ের প্রথম আদিবাসী মুখ্যমন্ত্রী।

সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে থাকলেও মূলত বয়সের কারণে এবং রাজনৈতিক ভারসাম্যের অভাবে পিছিয়ে পড়তে হয়েছে ছত্তীসগঢ়ের তিন বারের মুখ্যমন্ত্রী রমন সিংহকে। বিষ্ণুর নাম চূড়ান্ত হওয়ার পরে স্পষ্ট যে, আদিবাসী অধ্যুষিত এই রাজ্যে প্রথম বারের জন্য কোনও আদিবাসী মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসবেন।

নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণেও দেখা গিয়েছে, ছত্তীসগঢ়ের তফসিলি জাতি এবং তফসিলি জনজাতিদের সিংহভাগ ভোট এ বার বিজেপির অনুকূলে গিয়েছে। অথচ ২০১৮ সালের বিধানসভা ভোটে এই ভোটই গিয়েছিল কংগ্রেসের ঝুলিতে। মনে করা হচ্ছে, লোকসভা ভোটের আগে আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক অক্ষুণ্ণ রাখতেই বিষ্ণুকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বেছে নিল পদ্মশিবির। রবিবার রায়পুরে দলের নবনির্বাচিত ৫৪ জন বিধায়ককে নিয়ে বৈঠকে বসেন পর্যবেক্ষকেরা। সেই বৈঠকেই বিষ্ণুর নামে সম্মতি জানান অধিকাংশ বিধায়ক।

বিষ্ণু ছত্তীসগঢ়ের রায়গড় লোকসভা কেন্দ্রের চার বারের সাংসদ। ১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এক টানা ২০ বছর সাংসদ ছিলেন তিনি। ২০১৪ সালে কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে প্রথম মোদী মন্ত্রিসভায় ইস্পাত প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলান তিনি। ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ছিলেন ছত্তীসগঢ়ের বিজেপি সভাপতি। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে কুঁকুড়ি বিধানসভা আসন থেকে জয়ী হন তিনি। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত দু’দফায় বিধায়ক হিসাবেও নির্বাচিত হন বিষ্ণু।