ভাটপাড়া পুরসভায় গণইস্তফার হিড়িক, পদ ছাড়লেন ২৯ জন কাউন্সিলার - Bangla Hunt

ভাটপাড়া পুরসভায় গণইস্তফার হিড়িক, পদ ছাড়লেন ২৯ জন কাউন্সিলার

By Bangla Hunt Desk - May 21, 2026

কাঁচরাপাড়া, হালিশহরের পর এ বার ভাটপাড়া। বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে তৃণমূল পরিচালিত পুরসভাগুলিতে গণইস্তফার ধাক্কা ক্রমেই তীব্র আকার নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার ভাটপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান-সহ একযোগে পদত্যাগ করলেন ২৯ জন কাউন্সিলর। ঘটনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুরসভার ক্ষমতার সমীকরণ থেকে নাগরিক পরিষেবা— সব ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তার মেঘ ঘনিয়েছে।

সূত্রের খবর, শুক্রবার গারুলিয়া পুরসভাতেও একাধিক কাউন্সিলর পদত্যাগ করতে পারেন। সেই সম্ভাবনা ঘিরে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে।

একসময় ভাটপাড়া পুরসভা মানেই ছিল ‘বাহুবলী’ নেতা অর্জুন সিংয়ের প্রভাব বলয়। তিনি নিজেও ছিলেন পুরচেয়ারম্যান। বর্তমানে তাঁর পুত্র পবন সিং ভাটপাড়ার বিধায়ক। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই পুরসভার অন্দরে জটিলতা বাড়ছিল। চেয়ারম্যানের দীর্ঘ অনুপস্থিতি, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং নাগরিক পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছিল কাউন্সিলরদের একাংশের মধ্যে।

জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরেই অসন্তুষ্ট কাউন্সিলরদের মধ্যে একাধিক বৈঠক চলছিল। বৃহস্পতিবার সেই ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসে। ভাটপাড়া পুরসভার মোট ৩৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে দুই কাউন্সিলরের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ৩৩ জনের মধ্যে চেয়ারম্যান-সহ ২৯ জনের একযোগে পদত্যাগ কার্যত পুর প্রশাসনকে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

পুরসভার বিদায়ী ভাইস চেয়ারম্যান দেবজ্যোতি ঘোষ বলেন, “ভাটপাড়া পুরসভার অন্তর্গত ভাটপাড়া ও জগদ্দল— এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রেই তৃণমূলের পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল পুরসভার নাগরিক পরিষেবার ব্যর্থতা। এলাকায় একাধিক পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। নেতৃত্বের ঔদ্ধত্য ও অহংকারও মানুষের ক্ষোভ বাড়িয়েছে। তার উপর ফল ঘোষণার দিন থেকেই চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে পুরপরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে। সেই কারণেই আমরা ইস্তফা দিয়েছি।”

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার কাঁচরাপাড়া পুরসভায় ১৫ জন এবং বুধবার হালিশহর পুরসভায় ১৬ জন কাউন্সিলরের গণইস্তফার ঘটনায় ইতিমধ্যেই অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্যের শাসকদল। তার মধ্যেই ভাটপাড়ায় আরও বড় ভাঙন শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিল।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বারাকপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে পুর প্রশাসনের ভিত নড়ে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে এই ধারাবাহিক ঘটনায়। আগামী দিনে গারুলিয়া পুরসভাতেও যদি একই ছবি দেখা যায়, তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং বলেন, “নাগরিক পরিষেবা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।”

সব খবর পড়তে আমাদের WhatsApp গ্রুপে যুক্ত হোনএখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


প্রাসঙ্গিক খবর