দিল্লিতে টানা ৩ দিনের অটো-ট্যাক্সি ধর্মঘট, চরম ভোগান্তিতে নিত্যযাত্রীরা

দেশজুড়ে পেট্রল-ডিজেলের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেই এবার আন্দোলনের আগুন জ্বলে উঠল রাজধানী দিল্লিতে। সিএনজি-র দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হল তিন দিনের পরিবহণ ধর্মঘট। আগামী ২৩ মে পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি। ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ‘অল ইন্ডিয়া মোটর ট্রান্সপোর্ট কংগ্রেস’ (AIMTC)। তাদের সঙ্গে সামিল হয়েছে প্রায় ৬৮টি ছোট-বড় পরিবহণ সংগঠন। ট্রাক, প্রাইভেট বাস, ট্যাক্সি থেকে শুরু করে একাংশ অটোচালকরাও নেমেছেন আন্দোলনে।

ধর্মঘটের জেরে সকাল থেকেই কার্যত স্তব্ধ রাজধানীর পরিবহণ ব্যবস্থা। রেলস্টেশন, বিমানবন্দর কিংবা অফিসপাড়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বহু জায়গায় অ্যাপ-ক্যাবের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কম গাড়ির সুযোগে বাড়তি ভাড়া বা ‘সার্জ প্রাইসিং’-এর অভিযোগও উঠেছে ওলা, উবার ও র‍্যাপিডোর বিরুদ্ধে।

কেন এই ধর্মঘট?

আন্দোলনকারীদের মূল অভিযোগ, দিল্লি সরকার পরিবেশ রক্ষার নামে মালবাহী গাড়ির উপর অতিরিক্ত ‘এনভায়রনমেন্ট কমপেনসেশন সেস’ চাপিয়েছে। পরিবহণ সংগঠনগুলির দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল—যে সব গাড়ি দিল্লিকে শুধু ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে, তাদের ক্ষেত্রেই এই কর প্রযোজ্য হবে। কিন্তু বাস্তবে দিল্লিতে প্রবেশ করা প্রায় সব মালবাহী গাড়ির উপরই এই সেস বসানো হয়েছে।

এছাড়াও আগামী ১ নভেম্বর থেকে দিল্লির বাইরে রেজিস্টার্ড BS-IV বাণিজ্যিক গাড়ির রাজধানীতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করছেন চালকেরা। তাঁদের বক্তব্য, এই নিয়ম কার্যকর হলে হাজার হাজার চালকের রুজি-রুটিতে টান পড়বে।

অ্যাপ-ক্যাব সংস্থার বিরুদ্ধেও ক্ষোভ

চালকদের একাংশের অভিযোগ, ওলা, উবার ও র‍্যাপিডোর মতো সংস্থাগুলি চালকদের উপার্জন ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে। কিলোমিটার-পিছু আয় ও ইনসেনটিভ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। অথচ জ্বালানির দাম, বিমা, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ লাগাতার বেড়েই চলেছে।

‘চালক শক্তি ইউনিয়ন’-এর সহ-সভাপতি অনুজ কুমার রাঠোর জানিয়েছেন, গত ১৫ বছরে দিল্লিতে ট্যাক্সি ভাড়া বাড়েনি। সরকারের কাছে দ্রুত নতুন ভাড়ার কাঠামো ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন তিনি। হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আগামী এক-দু’সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত না হলে আরও বড় আন্দোলনে নামবেন চালকেরা।

সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

ধর্মঘটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে নিত্যযাত্রীদের উপর। নতুন দিল্লি, পুরনো দিল্লি ও নিজামুদ্দিন স্টেশনের বাইরে বহু যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা গিয়েছে। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও একই ছবি। অনেক অটো ও ট্যাক্সি রাস্তায় না নামায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।

রাজধানীর বৃহত্তম পণ্য পরিবহণ কেন্দ্র ‘সঞ্জয় গান্ধী ট্রান্সপোর্ট নগর’-এ সকাল থেকেই কার্যত কাজ বন্ধ। সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ট্রাক।

অটোচালকদের মধ্যে বিভাজন

যদিও সব অটো ইউনিয়ন এই ধর্মঘটে সামিল হয়নি। ‘অটো রিকশ সঙ্ঘ’-এর সাধারণ সম্পাদক রাজেন্দ্র সোনির দাবি, এই সমস্যা মূলত ট্রাক ও মালবাহী গাড়ির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই তাঁদের সংগঠনের অটো ও ট্যাক্সি পরিষেবা চালু থাকবে। তবুও রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা কম থাকায় রাজধানীর বহু অংশে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।

জ্বালানির আগুনে বাড়ছে চাপ

এই ধর্মঘটের আবহেই এক সপ্তাহের মধ্যে দু’দফা বেড়েছে পেট্রল ও ডিজেলের দাম। শেষবার লিটার-পিছু ৯০ পয়সা বৃদ্ধি হয়েছে। বর্তমানে দিল্লিতে পেট্রলের দাম লিটার প্রতি ৯৮.৬৪ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৯১.৫৮ টাকা। কলকাতায় পেট্রলের দাম পৌঁছেছে ১০৯.৭০ টাকায়, যা দেশের বড় শহরগুলির মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে চেন্নাইয়ে ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৯৬.১১ টাকা।

তেলের আগুনে যখন নাজেহাল সাধারণ মানুষ, তখন নিজেদের অস্তিত্বের লড়াইয়ে রাস্তায় নেমেছেন চালকেরা। এই অচলাবস্থা কাটাতে সরকার কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজধানী।

“দিল্লিতে ফের নির্ভয়ার স্মৃতি! চলন্ত বাসে তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ”

দিল্লিতে ফের নারকীয় ঘটনার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। চলন্ত বাসে এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগে বাসের চালক ও কন্ডাক্টরকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১১ মে রাতে উত্তর-পশ্চিম দিল্লির নাংলোই এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, তরুণী একটি প্রাইভেট বাসে ওঠার পর বাসের চালক ও কন্ডাক্টর তাঁকে নির্জন রাস্তায় নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন করে। পরে কোনওভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে তরুণী পুলিশের দ্বারস্থ হন।

তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত শুরু করে দিল্লি পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ ও বাসের তথ্য খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত চালক ও কন্ডাক্টরকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।

ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দিল্লিতে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের সরব হয়েছে বিভিন্ন মহল। ২০১২ সালের নির্ভয়া কাণ্ডের স্মৃতি উসকে দিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এত কড়া আইন থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ঘটনায় ব্যবহৃত বাসটিকেও আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী আধিকারিকরা।

​”দিল্লির স্কুলে ৩ বছরের ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন, কাঠগড়ায় স্কুলেরই কর্মী!”

রাজধানী দিল্লির জনকপুরী এলাকায় এক বেসরকারি স্কুলে তিন বছরের এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে স্কুলেরই এক কর্মীকে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

পরিবারের দাবি, ঘটনাটি ঘটে ২৮ এপ্রিল, ২০২৬। আর ১ মে তারিখে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হয়। তিন বছর বয়সী ওই শিশুটি প্রতিদিনের মতো স্কুলে গিয়েছিল, কিন্তু সেদিন স্কুল থেকে ফেরার পর তার আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন তার মা। শিশুটি অত্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছিল এবং শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। মায়ের সন্দেহ হওয়ায় তিনি শিশুটির সঙ্গে কথা বলেন এবং বুঝতে পারেন যে স্কুলের ভেতরেই কোনো এক পুরুষ কর্মী তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে শিশুটির মা তৎক্ষণাৎ জনকপুরী থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত শুরু করে দিল্লি পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং পকসো আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়। তদন্তকারীরা স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু করেন। পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদও চলে। তদন্তের এক পর্যায়ে শিশুটির বয়ান এবং প্রাথমিক মেডিক্যাল রিপোর্টের ভিত্তিতে স্কুলের এক অশিক্ষক কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। অভিভাবকদের একাংশের অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষ কর্মীদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই এবং নজরদারির ক্ষেত্রে গাফিলতি করেছে। যে প্রতিষ্ঠানে ছোট ছোট শিশুদের নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকে, সেখানে কীভাবে এমন অভিযোগ উঠল, তা নিয়েই ক্ষোভ বাড়ছে।

এদিকে মামলায় নতুন মোড় আসে আদালতে। বৃহস্পতিবার দ্বারকা আদালতে অভিযুক্তের জামিনের শুনানি হয়। সরকারি আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করে জানান, অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং অভিযুক্ত বাইরে থাকলে তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করে আদালত।

আদালতের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দিল্লি পুলিশের একাংশ সূত্রে খবর, জামিনের লিখিত নির্দেশ হাতে পাওয়ার পর উচ্চতর আদালতে যাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হতে পারে। তদন্ত এখনও চলছে। ফরেনসিক রিপোর্ট, ডিজিটাল প্রমাণ এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

শিশু সুরক্ষা নিয়ে আবারও বড় প্রশ্ন তুলে দিল জনকপুরীর এই ঘটনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সিসিটিভি বসালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। স্কুলের প্রতিটি কর্মীর চরিত্র যাচাই, শিশুদের ‘গুড টাচ’ ও ‘ব্যাড টাচ’ সম্পর্কে সচেতন করা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ—সবই সমান জরুরি।

তিন বছরের এক শিশুর উপর এমন অভিযোগ শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, সমাজের নিরাপত্তা কাঠামোর দিকেও আঙুল তুলছে। এখন নজর তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার দিকে—দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কত দ্রুত এবং কতটা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটাই দেখার।

৫৪,২৮২ কোটি টাকার হিসেব নেই মোদী সরকারের! ক্যাগের রিপোর্টে বড় কেলেঙ্কারির ইঙ্গিত!

বাংলা হান্টডেক্স: ‘না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা’— দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘ধর্মযুদ্ধ’ ঘোষণার দাবি প্রতিনিয়ত করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অথচ, চলতি মাসে সংসদে পেশ হওয়া রিপোর্টে তাঁর সরকারের স্বচ্ছতা নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে দেশের শীর্ষ অডিট সংস্থা কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা ক্যাগ। মোদি সরকারের দেওয়া হিসাবে ৫৪ হাজার ২৮২ কোটি ৩২ লক্ষ টাকার গরমিল ধরা পড়েছে সেই রিপোর্টে।

ক্যাগের দাবি, একের পর এক মন্ত্রক ও দপ্তর বিভিন্ন খাতে টাকা বরাদ্দ করেছে। অথচ সেই টাকার খরচ সংক্রান্ত ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট নেই! তাহলে খরচ হওয়া ওই বিপুল অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে গেল কোথায়? সেটা জানেই না মোদি সরকার! ক্যাগ এভাবে খোদ কেন্দ্রের দিকে আঙুল তোলায় তোলপাড় শুরু হয়েছে দেশজুড়ে।এর আগেও মোদি সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে এনেছে দেশের শীর্ষ অডিট সংস্থা।

সেগুলির মধ্যে অন্যতম—দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়েতে প্রতি কিলোমিটার রাস্তা তৈরির খরচ ১৮.২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২৫০ কোটি টাকা হয়ে যাওয়া, ভারতমালা প্রকল্পে অনুমোদিত খরচের তুলনায় নির্মাণের ব্যয় ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে একই মোবাইল নম্বরে প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষ সুবিধাপ্রাপক! আর এবার ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ শেষ হওয়া অর্থবর্ষে সরকারি কোষাগার থেকে ৫৪ হাজার কোটি টাকা কার্যত উবে যাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হল ক্যাগের অডিট রিপোর্টে। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সেখানে হিসাবে অনিয়ম ও পদ্ধতিগত ব্যর্থতার অভিযোগ তোলা হয়েছে। রিপোর্টে জানানো হয়েছে, মোট ১৫টি মন্ত্রক ও দপ্তর থেকে ছাড়া হয়েছে ওই ৫৪ হাজার কোটি টাকা। সবথেকে বেশি গরমিল ধরা পড়েছে আবাসন ও নগরোন্নয়ন (১৮ হাজার ২৭২ কোটি ৯১ লক্ষ টাকা) ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরে (১৪ হাজার ৩৫৯ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা)। যদিও তা কোথায় কীভাবে খরচ হয়েছে, সেই ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট (ইউসি) সরকারের কাছে নেই। নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও সব মিলিয়ে এরকম ৩৩ হাজার ৯৭৩টি ইউসি সরকারের ঘরে জমাই পড়েনি। ‘বেহদিশ’ ওই বিপুল পরিমাণ অর্থের মধ্যে ৩৮ হাজার ২৮৭ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে বিগত তিনটি অর্থবর্ষে, ২০২১-২২ থেকে ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে। এক্ষেত্রে ২০১৭ সালের জেনারেল ফিন্যান্সিয়াল রুলস (জিএফআর)-এর ২৩৮ বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে। কারণ ওই বিধি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার ১২ মাসের মধ্যে ইউসি পেশ করতে হয়।

চিন-আমেরিকা ছাড়া সবাই পিছনে! ২০৪৭-এ ২৬ লক্ষ কোটি ডলারের অর্থনীতির চূড়ায় ভারত

নয়াদিল্লি: এক দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্কসংঘাত। অন্য দিকে চিনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ঘাটতি। তার উপর ঘরোয়া উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও আয়ের বৈষম্য— সব মিলিয়ে চ্যালেঞ্জের তালিকা ছোট নয়। তবু সেই সব বাধা পেরিয়েই বিশ্বের অর্থনৈতিক দৌড়ে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে ভারত। নতুন বছরের শুরুতেই সেই ছবিই তুলে ধরল আন্তর্জাতিক সমীক্ষা সংস্থা ‘আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং’ (EY)।

তাদের সদ্য প্রকাশিত রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, স্বাধীনতার ১০০ বছরে— অর্থাৎ ২০৪৭-’৪৮ অর্থবর্ষে— ভারতের অর্থনীতির আকার পৌঁছোতে পারে ২৬ লক্ষ কোটি ডলারে। গড়ে বছরে ছ’শতাংশ হারে আর্থিক বৃদ্ধি বজায় রাখতে পারলেই সেই ঐতিহাসিক সাফল্য সম্ভব বলে মনে করছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, মাথাপিছু গড় আয় বেড়ে একলাফে ১৫ হাজার ডলার বা তারও বেশি হতে পারে, যা বর্তমানের প্রায় ছ’গুণ।

EY-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যেই চিন ও আমেরিকার পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে ভারত। বর্তমান প্রবণতা বজায় থাকলে খুব শিগগিরই জার্মানিকেও ছাপিয়ে যেতে পারে নয়াদিল্লি। চলতি আর্থিক বছরের শেষে (২০২৫-’২৬) ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি পৌঁছোতে পারে ৪.১ থেকে ৪.৩ লক্ষ কোটি ডলারে— যা গত দশ বছরে প্রায় দ্বিগুণ। উল্লেখযোগ্য ভাবে, ২০১৫ সালে ভারতের জিডিপি ছিল মাত্র ২.১ লক্ষ কোটি ডলার।

ভারতীয় অর্থনীতির এই উত্থান নিয়ে আশাবাদী আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডার (IMF)-ও। তাদের মতে, নানা বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার ৬.৫ শতাংশের নীচে নামার সম্ভাবনা কম। গত বছরই জাপানকে ছাপিয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হয়েছে ভারত। আইএমএফের অনুমান, ২০২৮ সালের মধ্যেই পিছিয়ে পড়তে পারে জার্মানি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘পারস্পরিক শুল্কনীতি’ ভারতের রফতানির উপর চাপ সৃষ্টি করলেও, অর্থনীতিতে তার বড় কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি বলেই দাবি কেন্দ্রের। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.২ শতাংশ— যা অধিকাংশ আর্থিক সংস্থার পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের শক্তির মূল উৎস তার বিপুল অভ্যন্তরীণ বাজার। জনসংখ্যার জোরে চাহিদা তৈরি হচ্ছে ভোগ্যপণ্য ও পরিষেবা খাতে। সরকারি তথ্য বলছে, ব্যক্তিগত চূড়ান্ত খরচ (PFCE) বেড়েছে প্রায় ৭.৯ শতাংশ। অর্থাৎ, দেশের অধিকাংশ পরিবারই এখন খরচ করার মতো আর্থিক স্বচ্ছলতা অর্জন করেছে।

উৎপাদন ও নির্মাণ খাতেও রেকর্ড গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই দুই খাতে বৃদ্ধির হার যথাক্রমে ৯.১ ও ৮.১ শতাংশ। ফলে বাড়ছে বেসরকারি বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান। পাশাপাশি, পরিষেবা খাত তো বরাবরই ভারতের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। সেখানে বৃদ্ধির হার ৯ শতাংশেরও বেশি। তথ্যপ্রযুক্তি ও রিয়্যাল এস্টেটের মতো পেশাদার পরিষেবায় বৃদ্ধি ১০ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

বিশ্বব্যাপী পরিষেবা রফতানিতেও শক্ত অবস্থান গড়েছে ভারত। বর্তমানে দেশে রয়েছে প্রায় ১,৫০০ গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার— যা গোটা বিশ্বের মোট সংখ্যার প্রায় ৪৫ শতাংশ। মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২০ কোটি এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রায় ৮৩.৭ কোটি— ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত যে কতটা শক্ত, তার স্পষ্ট প্রমাণ মিলছে এখানেই।

পরিকাঠামো উন্নয়নেও জোর দিয়েছে কেন্দ্র। ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষের বাজেটে ১১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে হাইওয়ে, রেল, বন্দর ও নগর উন্নয়নে। পাশাপাশি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও পিএলআই স্কিমের মতো নীতিগত সিদ্ধান্ত উৎপাদন ক্ষেত্রকে চাঙ্গা করেছে।

তবে সব কিছু যে মসৃণ, তা নয়। বেকারত্ব, আয়-বৈষম্য, ভূ-রাজনৈতিক অশান্তি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ঝুঁকি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। মোট আয়ের বড় অংশ মাত্র ১০ শতাংশ মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত— এই বৈষম্য দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

তবু সামগ্রিক ছবি আশাব্যঞ্জক। সব বাধা পেরিয়ে চিন ও আমেরিকার পর বিশ্বের অর্থনৈতিক মঞ্চে নিজের জায়গা পোক্ত করছে ভারত— এমনই বার্তা দিচ্ছে আন্তর্জাতিক সমীক্ষা সংস্থাগুলির রিপোর্ট। স্বাধীনতার শতবর্ষে ২৬ লক্ষ কোটি ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন যে আর কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ নয়, তা-ই স্পষ্ট হচ্ছে ধীরে ধীরে।

মার্চ থেকে বন্ধ রেলের ইউটিএস অ্যাপ, অসংরক্ষিত টিকিট কাটবেন কী ভাবে?

বাংলাহান্ট ডেক্স: মার্চ থেকে বন্ধ হচ্ছে রেলের ইউটিএস অ্যাপ

অনলাইনে অসংরক্ষিত টিকিট কাটবেন কী ভাবে? জানুন নতুন নিয়ম

ট্রেন, মেট্রো বা বিমান— অনলাইনে টিকিট কাটার অভ্যাস এখন প্রায় সকল যাত্রীর। সেই ডিজিটাল যাত্রাপথেই বড় পরিবর্তন আনল ভারতীয় রেল। আগামী ১ মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে রেলের জনপ্রিয় মোবাইল অ্যাপ ‘ইউটিএস’ (UTS on Mobile)। অসংরক্ষিত টিকিট কাটতে যাঁরা এই অ্যাপের উপর নির্ভর করতেন, তাঁদের জন্য চালু হচ্ছে এক নতুন ব্যবস্থা।

এক অ্যাপেই সব পরিষেবা, জানাল রেল

বছরের প্রথম দিনেই রেল বোর্ডের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যাত্রী সুবিধার কথা মাথায় রেখে একাধিক অ্যাপের বদলে একটি মাত্র অ্যাপেই সব ধরনের টিকিট পরিষেবা আনা হচ্ছে। সেই কারণেই ইউটিএস অ্যাপ ধাপে ধাপে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

রেলের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে

  • সংরক্ষিত টিকিট
  • অসংরক্ষিত টিকিট
  • প্ল্যাটফর্ম টিকিট

সবই কাটা যাবে একটিমাত্র অ্যাপের মাধ্যমে— ‘রেলওয়ান’ (RailOne)

ইউটিএস কেন বন্ধ করা হচ্ছে?

যদিও অসংরক্ষিত টিকিট কাটার ক্ষেত্রে ইউটিএস অ্যাপ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, তবুও রেল চায় না আলাদা আলাদা অ্যাপে পরিষেবা দিতে। আধুনিক ও সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার লক্ষ্যে ‘রেলওয়ান’ অ্যাপকেই একমাত্র অফিসিয়াল রেল অ্যাপ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে রেল কর্তৃপক্ষ

ইউটিএস ব্যবহারকারীদের জন্য বড় স্বস্তি

ইউটিএস অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা করে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন নেই।

  • ইউটিএস-এ যাঁদের আগে থেকেই অ্যাকাউন্ট রয়েছে
  • তাঁরা একই ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়েই ‘রেলওয়ান’ অ্যাপে লগ-ইন করতে পারবেন

বর্তমানে ইউটিএস অ্যাপ খুললেই যাত্রীদের ‘রেলওয়ান’ অ্যাপ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কোন পরিষেবা মিলবে ‘রেলওয়ান’ অ্যাপে?

রেল সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই অ্যাপে যাত্রীরা পাবেন—

  • অসংরক্ষিত ও সংরক্ষিত টিকিট বুকিং
  • ট্রেনের লাইভ স্ট্যাটাস
  • পিএনআর স্টেটাস চেক
  • প্ল্যাটফর্ম টিকিট
  • মাসিক ও সিজন টিকিট

সব কিছুই এক ছাদের নীচে

কবে থেকে পুরোপুরি বন্ধ ইউটিএস?

  • ইতিমধ্যেই ইউটিএস অ্যাপ থেকে মাসিক টিকিট বুকিং বন্ধ
  • ১ মার্চ ২০২৬ থেকে আর কোনও অসংরক্ষিত টিকিট কাটা যাবে না ইউটিএস অ্যাপের মাধ্যমে

রেলের দাবি

রেলের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি যাত্রীস্বার্থে। আলাদা আলাদা অ্যাপ ব্যবহারের ঝঞ্ঝাট কমিয়ে একটি সহজ, দ্রুত ও আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাই লক্ষ্য

 

‘ট্রাম্পের থেকে শিখুন মোদি’, মার্কিন ডেল্টা ফোর্সের অভিযানের দৃষ্টান্ত টেনে পাকিস্তানে গোপন অপারেশনের দাবি ওয়েইসির

বাংলাহান্ট ডেক্সঃ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় উত্তাল আন্তর্জাতিক রাজনীতি। মার্কিন বিশেষ বাহিনী ডেল্টা ফোর্সের সেই দুঃসাহসিক অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করলেন এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকা যদি গোপন অপারেশনে অন্য দেশের প্রেসিডেন্টকে তুলে আনতে পারে, তবে ভারতেরও উচিত পাকিস্তানের মাটিতে একই রকম অভিযান চালানো।

শনিবার ভোররাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একযোগে বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ চালায় মার্কিন সেনা। মিরান্ডা, আরাগুয়া ও লা গুয়াইরা প্রদেশে কার্যত অন্ধকার নেমে আসে। সেই সুযোগেই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয় ভেঙে নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে নিউ ইয়র্কের একটি ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে তাঁদের।

এই ঘটনার পরেই মুম্বই পুর নির্বাচনের প্রচারে নেমে ওয়েইসি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেভাবেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও উচিত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।” তাঁর দাবি, মুম্বই হামলার অভিযুক্ত মাসুদ আজহার ও লস্কর-ই-তইবার জঙ্গিদের পাকিস্তান থেকে গোপন অভিযানে ভারতে নিয়ে আসা উচিত।

ওয়েইসি এই প্রসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আরব দেশগুলির সামরিক অভিযানের উদাহরণও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এমন দৃষ্টান্ত নতুন নয়।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয়তাবাদ ইস্যুতে বিজেপিকে কোণঠাসা করতে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিচ্ছেন ওয়েইসি। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়েও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্যের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের পর সেই কৌশলই ফের সামনে আনলেন হায়দরাবাদের সাংসদ—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

‘Bangladesh Should Be Broken Apart,’ Says Tripura’s ‘King’ in Response to Yunus’ Comments

Banglahunt Desk: During his visit to China, Muhammad Yunus claimed that Bangladesh is the sole maritime guardian for India’s northeastern states. He further stated that there is an opportunity for Chinese economic expansion in that region. Yunus, who served as the chief advisor of Bangladesh’s interim government, made these remarks, which have not been well received by Indian politicians and diplomatic experts. Both the BJP and the Congress have strongly criticized his statement. Now, Tipra Motha’s chief and ‘King of Tripura,’ Pradyot Manikya, has suggested that Bangladesh should be broken into two pieces.

Pradyot Manikya said, “Spending crores on technological advancements and planning is unnecessary. Instead, Bangladesh should be broken apart, and India should take control of the maritime routes.”

He further added, “The Chittagong Hill Tracts are home to many indigenous people who wanted to be part of India in 1947. Millions of Tripuri, Garo, Khasi, and Chakma communities are living there under severe conditions. For our national interest and their welfare, we should take action.” He also mocked Yunus, calling him an “85-year-old interim leader.” Manikya pointed out that the port mentioned by Yunus is only a few miles away from Tripura.

Last week, Yunus visited China, where he was heard stating that India’s seven northeastern states—known as the Seven Sisters—are landlocked and surrounded by mountains, with no direct access to the sea. “We are the maritime guardian of that region, so Chinese economic trade can easily expand there,” Yunus said. His remarks have caused an uproar in political and diplomatic circles.

Notably, the Seven Sisters comprise Assam, Nagaland, Manipur, Arunachal Pradesh, Tripura, Meghalaya, and Mizoram.

পাকিস্তানি অভিনেতা ফাওয়াদ খানের বলিউড প্রত্যাবর্তন ঘিরে উত্তাল মহারাষ্ট্র!

বাংলাহান্ট ডেক্সঃ আট বছরের দীর্ঘ বিরতির পর বলিউডে ফিরছেন জনপ্রিয় পাকিস্তানি অভিনেতা ফাওয়াদ খান। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে তাঁর নতুন ছবি ‘আবির গুলাল’-এর ঝলক, যেখানে তিনি বাণী কাপুরের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন। তাঁর প্রত্যাবর্তনের খবরে অনুরাগীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস থাকলেও, সমানতালে উঠেছে বিরোধিতার সুর। মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস) কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে—এই সিনেমা মহারাষ্ট্রে মুক্তি পেলে আগুন জ্বলবে!

এমএনএস-এর কড়া অবস্থান

এমএনএস দলের মুখপাত্র অমেয় খোপকার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, মহারাষ্ট্রে ‘আবির গুলাল’ মুক্তি পেতে দেওয়া হবে না। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “নির্মাতাদের ঘোষণার পর আমরা জানতে পেরেছি যে এই সিনেমায় একজন পাকিস্তানি অভিনেতা রয়েছেন। তাই কোনও পরিস্থিতিতেই আমরা মহারাষ্ট্রে এই ছবি মুক্তি পেতে দেব না। আপাতত আমরা আরও তথ্য সংগ্রহ করছি এবং শীঘ্রই এই বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি দেব।”

https://www.instagram.com/reel/DH5KNa8yYGc/?igsh=aWN1ajZidXppbjRm

শিবসেনার আপত্তি

শুধু এমএনএস-ই নয়, পাকিস্তানি অভিনেতার বলিউডে প্রত্যাবর্তন নিয়ে আপত্তি তুলেছেন শিবসেনার নেতা সঞ্জয় নিরুপম-ও। তিনি পরোক্ষভাবে ফাওয়াদ খানকে কটাক্ষ করে বলেন, “ভারতীয়দের মনে পাকিস্তানের প্রতি প্রবল ঘৃণা রয়েছে। পাকিস্তানি ছবি ভারতীয় দর্শকরা সাধারণত দেখতে চান না। যদিও কৌতূহলবশত কেউ কেউ দেখেন, তবুও পাকিস্তানি শিল্পীরা ভারতে কখনোই বড় সাফল্য পাননি। তাই তাঁদের উচিত নিজেদের সিনে ইন্ডাস্ট্রিতেই মনোযোগ দেওয়া।”

শিবসেনা নেতা আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত এ বিষয়ে স্পষ্ট নিয়ম চালু করা—পাকিস্তানি ছবি ভারতে মুক্তি পাবে কি না এবং সেখানকার শিল্পীরা এখানে কাজের সুযোগ পাবেন কি না, তা সরকারকেই স্থির করতে হবে।

আট বছর পর ফাওয়াদ খানের প্রত্যাবর্তন

ফাওয়াদ খান তাঁর সুদর্শন চেহারা ও অভিনয় দক্ষতার জন্য ভারতীয় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়। এর আগে তিনি ‘খুবসুরত’, ‘কাপুর অ্যান্ড সনস’ এবং ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’-এর মতো বলিউড ছবিতে অভিনয় করেছেন। কিন্তু ২০১৬ সালে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে পাক শিল্পীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হলে, বলিউড থেকে কার্যত হারিয়ে যান ফাওয়াদ। দীর্ঘ আট বছর পর তিনি আবারও বলিউডের রঙিন দুনিয়ায় পা রাখতে চলেছেন ‘আবির গুলাল’-এর মাধ্যমে।

তবে রাজ ঠাকরের দলের এই হুঁশিয়ারির পর এখন দেখার বিষয়—এই সিনেমা আদৌ মহারাষ্ট্রে মুক্তি পায় কি না, নাকি বিরোধিতার কারণে বাধার মুখে পড়ে!

চন্দবাবুর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে কেনো এলেন না নীতিশ? খোঁচা বিরোধীদের, নীতিশকে ঘিরে জল্পনা

বুদবার অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন তেলুগু দেশমের (টিডিপি) প্রধান চন্দ্রবাবু নায়ডু। এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপি এবং তাদের সহযোগী নেতাদের অনেকেই হাজির ছিলেন। কিন্তু এই অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তথা জেডিইউ নেতা নিতীশ কুমারকে। আর তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।

বিরোধীদের ইঙ্গিত মোদীর মন্ত্রিসভায় নীতীশের দল দাবি মতো প্রতিনিধিত্ব পায়নি বলেই চন্দ্রবাবুর শপথ এড়িয়ে গিয়েছেন নীতীশ। আরজেডি মুখপাত্র ইজাজ আহমেদ বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘আমাদের নেতা তেজস্বী যাদব ভোটের আগেই এনডিএ-র অন্দরে মতবিরোধের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ওদের শরিকি সম্পর্কে যে টানাপড়েন চলছে, তা এখন স্পষ্ট।’’

আরো পড়ুন- একী কাণ্ড? বাংলায় ৩ বিজেপি সাংসদ যোগাযোগ করছেন তৃণমূলের সঙ্গে!

সূত্রের খবর, নীতীশ এ বার তাঁর দলের জন্য মোদী সরকারে রেলমন্ত্রীর পদ চেয়েছিলেন। কিন্তু মোদীর মন্ত্রিসভায় জেডিইউর একমাত্র পূর্ণমন্ত্রী রাজীবরঞ্জন ওরফে লল্লন সিংহ পেয়েছেন অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চায়েতি রাজ এবং মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রক। আর একমাত্র প্রতিমন্ত্রী রামনাথ ঠাকুরের বরাতে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ।

এই পরিস্থিতিতে বিজেপি নেতৃত্বের উপর চাপ বাড়াতেই নীতীশ বুধবার বিজয়ওয়াড়ায় গরহাজির ছিলেন বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা। বিহার কংগ্রেসের মুখপাত্র জ্ঞান রঞ্জন বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় পদ বণ্টন নিয়ে অসন্তোষের কারণেই অন্ধ্রপ্রদেশে গিয়ে মোদীর মুখোমুখি হননি নীতীশ।’’

চলন্ত বাসে নাবালিকাকে ধর্ষণ!

চলন্ত বাসে নাবালিকাকে ধর্ষণ। নির্যাতিতা অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তের নাম অনিল মেঘওয়াল বলে জানা গিয়েছে। চুরুর ধাধরিয়া বনরোতন গ্রামের বাসিন্দা অলিল। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রায় দেড় বছর আগে ওই গ্রামেরই এক নাবালিকাকে নেশাজাতীয় দ্রব্যে জুস মিশিয়ে খাইয়েছিল অভিযুক্ত ও তার বন্ধুরা।

এরপর নির্যাতিতার গোপন ছবি নিয়েও ব্ল্যাকমেলও করে অভিযুক্তরা।

জানা গিয়েছে, গত ২৮ এপ্রিল স্থানীয় দোকানে যাচ্ছিলেন নাবালিকা। তখন ফের তাকে তার অশ্লীল ছবি ভাইরাল করে দেওয়া হবে বলে ভয় দেখান হয়। এরপর তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় অনিল ও তার বন্ধুরা।

এরপর নাবালিকাকে নিয়ে একটি স্লিপার বাসে ওঠে অভিযুক্ত। চলন্ত বাসেই ধর্ষণ করা হয় নাবালিকাকে। গত ২৬ মে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান নির্যাতিতা। নির্যাতিতা অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী বলে জানা গিয়েছে। মাত্র ১২ বছর বয়সে প্রথম তাকে ধর্ষণ করা হয়।

তবে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তকে। ইতিমধ্যেই তাকে আদালতে তোলা হলে তাকে ২ দিনের জেল হেফাজত দেওয়া হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে অনিলকে।

নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী জানা যায়,প্রথমে তার এফআইআর নেয়নি পুলিশ। পরে এসপি অফিসে গিয়ে পুরো ঘটনা খুলে বলে নির্যাতিতা ও তার বাবা। এরপর এসপির নির্দেশে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়।

কেজরিওয়ালের গ্রেফতারের প্রতিবাদে, মোদীর বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচি আপের, সরগরম দিল্লি

বাংলাহান্ট ডেস্কঃ বৃহস্পতিবার রাতে আবগারি দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। আপ সমর্থকদের বিক্ষোভ-প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসছে দিল্লি। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী মোদীর বাসভবন ঘেরাও করার কর্মসূচি নিয়েছে আম আদমি পার্টি (আপ)। সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন দিল্লির মন্ত্রী গোপাল রাই।

আজকের কর্মসূচির জন্য সকাল ১০টার সময় দলের সমর্থকদের পটেল চক এলাকায় জড়ো হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল আপ নেতৃত্বের তরফ থেকে। এই আবহে জমায়েত বাড়তেই পটেল চক মেট্রো থেকে শুরু করে আশেপাশএর জায়গা থেকে আম আদমি পার্টি কর্মী-সমর্থকদের আটক করে দিল্লি পুলিশ।

দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার দেবেশ কুমার মাহলা জানান যে, আপকে (প্রতিবাদ কর্মসূচির) কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি। অশান্তি এবং কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মোকাবিলায় দিল্লি পুলিশ কী পদক্ষেপ করছে, সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে এবং পটেল চকের সামনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক বাহিনী রাখছি। কোনও অবস্থান বিক্ষোভ বা মিছিলের অনুমতি দেওয়া হবে না।”

দিল্লির ৭, লোককল্যাণ মার্গেই রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন। মঙ্গলবার সকাল থেকেই লোককল্যাণ মার্গ মেট্রো স্টেশনের সামনে প্রচুর সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পটেল চক এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট মেট্রো স্টেশনে ঢোকা-বেরোনোর কিছু গেট ‘নিরাপত্তার কারণে’ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে স্বাভাবিক রয়েছে মেট্রো পরিষেবা। দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, রাজধানী এলাকায় টহল দিচ্ছে তাদের ৫০টি টহলদার গাড়ি।

আপের কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিজেপিও। তারা মঙ্গলবার ফিরোজ় শাহ কোটলা স্টেডিয়াম থেকে দিল্লি সেক্রেটারিয়েট পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছে। এই মিছিলের নেতৃত্বে থাকবেন দিল্লির বিজেপি সভাপতি বীরেন্দ্র সচদেব।

এদিকে জেল থেকেই দিল্লির সরকার চালিয়ে যাচ্ছেন কেজরিওয়াল। গতকাল ইডি হেফাজতে থাকাকালীন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের দ্বিতীয় নির্দেশিকা জারি করেন কেজরিওয়াল। দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সৌরভ ভরদ্বাজকে তিনি নির্দেশ দেন যাতে দিল্লির কোনও মহল্লা ক্লিনিকে ফ্রি ওষুধের ঘাটতি না দেখা দেয়। পরে সৌরভ সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, ‘দিল্লির মানুষের জন্য কেজরিওয়াল খুবই চিন্তিত’। এদিকে বিজেপি পালটা অভিযোগ করেছে, সহানুভূতি পেতে কেজরিওয়াল ‘নাটক’ করছেন। এই সবের মাঝেই আজ দিল্লির রাজনৈতির পারদ ক্রমেই চড়ছে। লোকসভা ভোট পর্যন্ত এই পারদ ঊর্ধ্বমুখী থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।