“২০০ পারের পথে তৃণমূল? সমীক্ষায় বড় ধাক্কার মুখে বিজেপি” - Bangla Hunt

“২০০ পারের পথে তৃণমূল? সমীক্ষায় বড় ধাক্কার মুখে বিজেপি”

By Bangla Hunt Desk - May 02, 2026

নিজস্ব সংবাদদাতা: ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বুথফেরত সমীক্ষা ইঙ্গিত দিচ্ছে একতরফা ফলাফলের দিকে। সমীক্ষা অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস আবারও বিপুল ব্যবধানে ক্ষমতায় ফিরতে পারে, অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি-র আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সমীক্ষার পূর্বাভাস বলছে, তৃণমূলের ঝুলিতে যেতে পারে ২০০-র কাছাকাছি বা তার বেশি আসন। ফলে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফের নবান্নে ফিরতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে বিজেপি ৫০-এর আশেপাশে আটকে যেতে পারে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে। বাম-কংগ্রেস জোট কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় লড়াই দিলেও বড়সড় উত্থানের লক্ষণ আপাতত স্পষ্ট নয়।

কেন এগিয়ে তৃণমূল?
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প—বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’—এই ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। মহিলা ভোটব্যাঙ্কের একটি বড় অংশ তৃণমূলের দিকে ঝুঁকেছে বলেই সমীক্ষার ইঙ্গিত।

এর পাশাপাশি, ‘বাংলার নিজের মেয়ে’ ইমেজকে সামনে রেখে মমতার লাগাতার জনসংযোগ এবং প্রশাসনিক লড়াই বিজেপির হাই-ভোল্টেজ প্রচারের মোকাবিলা করেছে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

গ্রামীণ সড়ক, পানীয় জল এবং বিদ্যুৎ পরিষেবার উন্নয়নও ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

চাপে বিজেপি, কোথায় সমস্যা?
২০২১ সালে ৭৭টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসা বিজেপির জন্য এবারের সমীক্ষা অশনি সংকেত বলেই মনে করা হচ্ছে।

রাজ্যে শক্তিশালী মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী না তুলে ধরা, স্থানীয় নেতৃত্বের ঘাটতি এবং সংগঠনের ভাঙন—এই তিন কারণকে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

এছাড়া পেট্রোল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধি ও রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিও সাধারণ মানুষের একাংশকে প্রভাবিত করেছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।

উত্তরবঙ্গে বদলাচ্ছে সমীকরণ?
যে উত্তরবঙ্গ একসময় বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানেও সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত মিলছে। আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার-সহ একাধিক জেলায় তৃণমূলের আগ্রাসী অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে দাবি সমীক্ষার।

শেষ কথা: সমীক্ষা বনাম বাস্তব
তবে রাজনৈতিক মহল মনে করিয়ে দিচ্ছে, বুথফেরত সমীক্ষা কখনোই চূড়ান্ত ফলাফল নয়। অতীতেও বহুবার দেখা গিয়েছে, সমীক্ষার পূর্বাভাসের সঙ্গে বাস্তব ফলের বিস্তর ফারাক থাকে।

এখন নজর গণনার দিনের দিকে। সেখানেই ঠিক হবে আগামী পাঁচ বছর বাংলার শাসনভার কার হাতে থাকবে—ঘাসফুল না গেরুয়া শিবির।

সব খবর পড়তে আমাদের WhatsApp গ্রুপে যুক্ত হোনএখানে ক্লিক করুন


প্রাসঙ্গিক খবর