ভাইরাল ভিডিয়োয় তোলপাড়, ভোটের মুখে হুমায়ুনকে ছেড়ে জোট ভাঙল AIMIM

বাংলাহান্ট ডেক্স: ভোটের আগেই বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হুমায়ুন কবীরের শিবিরে। বিতর্কিত একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই জোটসঙ্গী এআইএমআইএম (AIMIM) সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিল। শুক্রবার এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করে আসাউদ্দিন ওয়াইসির দল জানিয়ে দিল, হুমায়ুন কবীরের আমজনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে আর কোনও সম্পর্ক রাখছে না তারা। আসন্ন নির্বাচনে একাই লড়ার বার্তাও দিয়েছে মিম।

ঘটনাপ্রবাহে নাটকীয় মোড় আসে ইসলামপুরে নির্ধারিত যৌথ জনসভার ঠিক আগেই। হুমায়ুন কবীর ও আসাউদ্দিন ওয়াইসির এক মঞ্চে আসার কথা থাকলেও, তার আগেই জোট ভাঙার ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিয়োটিকেই মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

গতকাল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে প্রকাশ্যে আনা হয় হুমায়ুন কবীরের একটি কথোপকথনের ভিডিয়ো। সেখানে শোনা যায়, ১০০০ কোটি টাকার একটি ডিল নিয়ে আলোচনা করছেন তিনি। এমনকি সংখ্যালঘু ভোটারদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করতেও শোনা গিয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

এই ইস্যুতেই তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ধর্মকে হাতিয়ার করে রাজনীতি করা হচ্ছে এবং তা নৈতিকতার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে।

এরই মাঝে এআইএমআইএম-এর বিবৃতিতে স্পষ্ট বার্তা—এ ধরনের বিতর্কে তারা নিজেদের জড়াতে চায় না। দলের দাবি, সংখ্যালঘুদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, এমন কোনও রাজনৈতিক সমীকরণের অংশ হতে রাজি নয় তারা। সেই কারণেই অবিলম্বে জোট ভাঙার সিদ্ধান্ত।

একই সঙ্গে মিমের তরফে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘুদের জন্য একটি স্বাধীন রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই এবার একাই নির্বাচনী লড়াইয়ে নামবে দল।

ভোটের আগে এই জোটভাঙা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

বাবরি মসজিদ নিয়ে মুসলমানদের বোকা বানাচ্ছে হুমায়ুন, বিজেপির সঙ্গে ১০০০ কোটি টাকার ডিল

বাংলাহান্ট ডেক্সঃ হুমায়ুন কবীরের ভিডিও ‘ফাঁস’ করল তৃণমূল। হুমায়ুন ১০০০ কোটি টাকার ডিল করেন, যার মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা অ্যাডভান্স দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেই নিয়ে ইডি-র তদন্ত দাবি করল তৃণমূল।

তৃণমূলের তরফে যে ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে কোনও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গিয়েছে হুমায়ুনকে। সামনের জনের চেহারা দেখা যাচ্ছে না। শুধু হুমায়ুনকে দেখা যাচ্ছে। তবে দু’জনের কথোপকথন স্পষ্ট। (West Bengal Assembly Elections 2026) বাংলাহান্ট.ইন ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি। ভিডিওটি ইউটিউবেও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর এবং বিজেপি নেতৃত্বের কথোপকথন হচ্ছে। বাংলায় মমতা ব্যানার্জির সরকারকে উৎখাত করতে কীভাবে টাকা ছড়িয়ে ভোট ভাগাভাগি করা হবে, কীভাবে মুসলিম ভোটারদের বোকা বানাতে হবে, কীভাবে বিজেপিকে সমর্থন করবেন হুমায়ুন তা সামনে এসেছে। ভিডিওতে হুমায়ুনকে দাবি করতে শোনা গিয়েছে, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে তাঁর। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরও কথা বলেছে তাঁর সঙ্গে। যে কোনও মূল্যে মমতাকে হারাতে ১০০০ কোটি টাকা লাগবে বলেও দাবি করেছেন হুমায়ুন।

কথোপকথনের শুরুতে হুমায়ুনকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “আমি বাবরি মসজিদের যে ইস্যুটা তুলে ধরেছি তা হবে কি না হবে সেটা পরের কথা। গোটা দেশের মুসলিম আমার সঙ্গে আছে।”

তাঁর সঙ্গে থাকা বিজেপি নেতা প্রশ্ন করেন, “মুর্শিদাবাদের মানুষের সমর্থন পাচ্ছেন না পুরো রাজ্যের?”

হুমায়ুন বলেন, “গোটা রাজ্যের সমর্থন রয়েছে।” মসজিদ নিয়ে কথোপকথনের পরেই এক ব্যক্তি তাঁকে বলেন, “যদি তৃণমূলকে রাজ্যে ক্ষমতা থেকে সরাতে হয় তাহলে আপনাকে দু’টি কাজ করতে হবে। এক, হিন্দু ভোট বিজেপির কাছে যেতে হবে।” ওই ব্যক্তির কথা থামিয়ে হুমায়ুন বলেন, “ওটা তো হয়েই যাবে। আমি যতটা পারব মুসলিম ভোট টানব। তাহলে হিন্দু ভোট বিজেপির কাছে চলে যাবে। হিন্দুরা যাঁরা মমতা ব্যানার্জির উপর ভরসা করেন তাঁরা জানেন যে ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ মুসলিম মমতাকে সমর্থন করবেন। হিন্দুরা জানে যদি মুসলিম ভোট সরে যায় তাহলে মমতা ক্ষমতায় আসবে না। তাহলেই তারা বিজেপিকে ভোট দেবে। আমার একটাই কথা। আমার দলকে ভোট দাও। মুখ্যমন্ত্রী যেই হোক না কেন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আমার হাতে থাকবে। যিনি মুখ্যমন্ত্রী হবেন তাঁকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে আমার। ২৯৪টার মধ্যে ৮০-৯০টা আসন আমার কাছে থাকলেই সেই ক্ষমতা থাকবে। বিজেপি থেকে কেউ মুখ্যমন্ত্রী হলেও আমার সমস্যা নেই। পুরো সমর্থন থাকবে। মমতাকে কোনও ভাবেই ক্ষমতায় আসতে দেব না।” বিজেপি এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টি কীভাবে একে অপরের জন্য খেলবে সেই প্ল্যানও করেছেন হুমায়ুন।  তাঁর সঙ্গে যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ফেস টাইমে কথা হয় সেটাও জানিয়েছেন। হুমায়ুনকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “আমি যতটা তৃণমূলের বিরুদ্ধে কথা বলব, ততটা বিজেপির বিরুদ্ধেও বলব। নইলে ভোট পাব না। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি আমায় বলেছেন ২২ তারিখের পরে দিল্লির নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেবেন। বাংলার নির্বাচনী প্রধানের সঙ্গেও কথা বলিয়ে দেবেন।”  হুমায়ুনের কথায় উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের নাম। হুমায়ুন বলেছেন, “মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সঙ্গে কথা হয়েছে। পিএমও-র সঙ্গে কথা হয়েছে। সেখান থেকে বলা হয়েছে আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে।” হুমায়ুন ইঙ্গিত করেছেন, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গেও কথা হয়েছে তাঁর।

বিজেপি নেতার সঙ্গে কথোপকথনে হুমায়ুন বলছেন, “শুভেন্দুর সঙ্গে যতবার কথা হয়েছে ততবার বলেছি ১৪৮টা আসন বিজেপি পাবে না। ১০০ থেকে ১২০টি পেতে পারে সর্বোচ্চ। মোহন যাদব আমায় কথা দিয়েছেন, ৭০-৮০টি আসন পেলেই আমায় উপমুখ্যমন্ত্রী বানিয়ে দেবেন।” মুসলিম ভোটারদের বোকা বানিয়ে মুসলিম ভোট একত্রিত করা খুব সহজ বলে দাবি করেছেন হুমায়ুন। তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, “মুসলিমদের বোকা বানানো খুব সহজ। মুসলিম ভোটারদের বোকা বানাতে, মুসলিম ভোট একত্রিত করতে অনেক টাকা চাই। প্রতিটি আসনে ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা লাগবে। তৃণমূল বেশি টাকা দেয় না। ১০০০ কোটি টাকা পেলে কাজ হয়ে যাবে সব। ৩০০ কোট্ সরিয়ে রাখব। পুরো টাকা একসঙ্গে চাই না। ভাগে ভাগে দিলেও হবে। বিহারের মতো প্রতিটি পরিবারকে ১০ হাজার করে দিলেই তো পুরো ভোট কিনে নেওয়া যাবে। এভাবেই মানুষকে বোকা বানানো যাবে বলে আত্মবিশ্বাসী হুমায়ুন। এমনকি লিখিত কাগজে সই করতেও রাজি হুমায়ুন। ৭০-৮০টা আসন পেলে মমতা ১০০টার বেশি পাবে না। মানুষকে বোঝাবো যে তিন বার ক্ষমতায় থাকার পরেও কোনও উন্নয়ন হয়নি মুসলিমদের। সব মুসলিম আমায় ভরসা করে।

বিজেপিকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে কথোপকথনে। হুমায়ুনকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “যদি আপনাদের সমর্থন করতে কোনও অসুবিধা হত তাহলে তো এই আলোচনাই হত না। আমি কোনও দিন টাকা নিয়ে কোনও ঝামেলায় পড়িনি। কোনও দুর্নীতি করিনি।” ভিডিওতে হুমায়ুন বারবার দাবি করেছেন, যেই পরিস্থিতি যদি এমন হয় যে তৃণমূল বা বিজেপি কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল না, তিনিই কিংমেকার। সেক্ষেত্রেও তিনি  যে বিজেপিকেই সমর্থন করবেন সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এই ভিডিও সামনে এনে দিয়েছে রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ।

ভোটের আগে তৃণমূলের ‘স্পেশাল ৪০’, আগামী সপ্তাহ থেকেই জেলায় জেলায় প্রচার শুরু

কলকাতা: আসন্ন নির্বাচনকে পাখির চোখ করে সর্বাত্মক প্রচারে নামছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সাথে সাথেই কোমর বেঁধে ময়দানে নামার পরিকল্পনা নিয়েছে জোড়া-ফুল শিবির। সূত্রের খবর, একদিকে শীর্ষ নেতৃত্বের সভা ও মিছিল, অন্যদিকে প্রতিটি বিধানসভা ভিত্তিক বিশেষ কৌশল ও নিবিড় জনসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে চাইছে শাসকদল।

▪️মুখপাত্রদের ‘স্পেশাল ৪০’ ও আইটি সেল:
বিজেপির ‘মিথ্যা প্রচার’ রুখতে রাজ্য স্তরে ৪০ জন দক্ষ মুখপাত্রের একটি বিশেষ দল গঠন করেছে তৃণমূল। এই দলে সাংসদ, মন্ত্রী থেকে শুরু করে ছাত্র-যুব নেতা এবং আইটি সেলের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। জেলা ভিত্তিক আলাদা মুখপাত্রও থাকবেন। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর দাবি, বিজেপির ‘ভাড়টে সৈন্য’ ও ফেক নিউজের মোকাবিলা করতে তৃণমূলের ডেটা আর্কাইভ টিম সঠিক তথ্য ও যুক্তি নিয়ে সমাজমাধ্যমেও সক্রিয় থাকবে।

🔹প্রচারের মূল ৪ ইস্যু:
দলের পক্ষ থেকে মূলত চারটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে প্রচার চালানো হবে:
🔴 ভোটাধিকার রক্ষা: বিজেপির ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি লড়াই।
🔴কেন্দ্রীয় বঞ্চনা: ১০০ দিনের কাজ ও আবাস যোজনার টাকা আটকে রাখার প্রতিবাদ এবং রাজ্যের পক্ষ থেকে সেই অর্থ প্রদান।
🔴 জনকল্যাণ: প্রতিটি পরিবারে রাজ্য সরকারের প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছানো।
🔴বিজেপির বিরোধিতা: কেন্দ্রের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া।

🔹🔹তৃণমূল সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহ থেকেই জেলায় জেলায় এই জোরদার প্রচার শুরু হবে। উন্নয়নের খতিয়ান ও কেন্দ্রের বঞ্চনার ইস্যুকে হাতিয়ার করেই মানুষের দুয়ারে পৌঁছাবে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল।

দেশকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন, তবু ভোটার তালিকায় ‘বিচারাধীন’ রিচা ঘোষ! নড়েচড়ে বসল কমিশন

কলকাতা/শিলিগুড়ি: চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় ক্রিকেটার রিচা ঘোষের নামের পাশে লেখা— ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের ঝড় ওঠে। যিনি দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন, তাঁর নাগরিকত্ব বা ভোটার-পরিচয় নিয়ে সংশয় কেন? রবিবার এক্স-এ পোস্ট করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) দপ্তর জানাল, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং প্রশাসনিক স্তরে মামলার নিষ্পত্তিতে বিলম্ব— এই দু’য়ের জেরেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

প্রায় চার মাসের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শেষে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। সেখানে কয়েক জনের নাম ‘বিচারাধীন’ বা ‘অমীমাংসিত’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় বিস্ময় ছড়ায়। রিচার ক্ষেত্রেও তাই। সিইও দপ্তরের ব্যাখ্যা, ২০০২ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ী খসড়া তালিকায় রিচার তথ্য ‘অ্যানম্যাপড’ বা অসংলগ্ন অবস্থায় ছিল। ত্রুটি সংশোধনের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে শুনানিতে হাজিরা ও প্রয়োজনীয় নথি জমা পড়ে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে মামলা নিষ্পত্তি হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের জটিলতায় নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার অধীনে চলে যায়— রিচার ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটেছে।

এই বিলম্ব কেন, তা জানতে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আধিকারিকদের— ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও)— তলব করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

শিলিগুড়ির ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রিচা ও তাঁর পরিবার। খেলাধুলোর সূত্রে দেশ-বিদেশে যাতায়াত থাকলেও অন্য সময়ে তিনি সেখানেই থাকেন। তবু তাঁর ভোটার-পরিচয় ‘বিচারাধীন’— এই বৈপরীত্যেই জোরালো হয়েছে বিতর্ক। শোনা যাচ্ছে, রিচার দিদি সোমশ্রী ঘোষের নামের পাশেও একই মন্তব্য রয়েছে। তবে সিইও দপ্তরের ব্যাখ্যার পর প্রশাসনিক মহলের আশা, অচিরেই মিটবে জট।

ভোটার তালিকা নিয়ে সাম্প্রতিক কালে নানা অভিযোগ-আপত্তির প্রেক্ষিতে এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে তথ্য হালনাগাদের প্রক্রিয়া ও নজরদারি নিয়ে। কমিশনের তরফে দায় নির্ধারণ ও দ্রুত সমাধানের আশ্বাস— আপাতত সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে ক্রীড়াপ্রেমীদের।

SIR in Bengal : কাল ভোটার তালিকা প্রকাশ! কীভাবে খুঁজবেন আপনার নাম?

কলকাতা: রাজ্যের ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন শনিবার। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ২০২৬। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সূচি মেনেই অনলাইনে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তালিকা উপলব্ধ থাকবে। ফলে ভোটারদের এখনই দেখে নেওয়া জরুরি—তালিকায় আপনার নাম রয়েছে তো?

তবে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। কয়েকটি সহজ ধাপ অনুসরণ করলেই মিলিয়ে নেওয়া যাবে নিজের নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য।

কীভাবে খুঁজবেন নিজের নাম?

প্রথমেই লগ ইন করতে পারেন নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল পোর্টাল Election Commission of India-এর ওয়েবসাইট Voters’ Service Portal (voters.eci.gov.in)।

১) ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘পরিষেবা’ (Services) বিভাগে ক্লিক করুন।
২) সেখানে ‘ভোটার তালিকা ডাউনলোড করুন’ অপশন বেছে নিন।
৩) রাজ্যের জায়গায় ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নির্বাচন করুন।
৪) সংশোধনের বছর হিসেবে বেছে নিন ২০২৬।
৫) রোলের ধরন হিসেবে নির্বাচন করুন ‘SIR চূড়ান্ত রোল ২০২৬’।
৬) প্রয়োজন অনুযায়ী জেলা, বিধানসভা কেন্দ্র এবং ভাষা নির্বাচন করুন।
৭) ক্যাপচা কোড পূরণ করে তালিকা ডাউনলোড করুন।

এর পর সংশ্লিষ্ট পিডিএফ ফাইলে নিজের ভোটকেন্দ্র (Polling Station) অনুযায়ী নাম খুঁজে নিলেই মিলবে সমস্ত তথ্য।

মোবাইল অ্যাপেও সুবিধা

ভোটাররা চাইলে ECINET মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করেও নাম যাচাই করতে পারেন। পাশাপাশি Chief Electoral Officer West Bengal-এর সরকারি ওয়েবসাইট (ceowestbengal.wb.gov.in) থেকেও তথ্য মিলবে।

প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন BLO-র সঙ্গে

অনলাইনে সমস্যা হলে সরাসরি নিজের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে BLO (Booth Level Officer)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। নাম, ঠিকানা বা অন্যান্য তথ্য ভুল থাকলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় সংশোধনের আবেদনও করা যাবে।

নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় নাম সঠিক আছে কি না, তা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গণতন্ত্রের উৎসবে অংশ নিতে হলে প্রথম শর্ত—ভোটার তালিকায় নাম থাকা। তাই দেরি না করে আজই মিলিয়ে নিন নিজের তথ্য।

কাঁচরাপাড়া দিনবসু লেনের মুখে গভীর রাতে বাইক দুর্ঘটনা, গুরুতর জখম যুবক

কাঁচরাপাড়া: শনিবার গভীর রাতে কাঁচরাপাড়ার দিনবসু লেনের মুখে ঘটে গেল এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা। রাস্তার ওপর ঠিকমতো বসানো না হওয়া পাইপলাইনের মাটির ঢিবিতে ধাক্কা লেগে ছিটকে পড়েন এক মোটরসাইকেল আরোহী। গুরুতর মাথার চোটে জ্ঞান হারান তিনি। দ্রুত স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় আহতকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাত প্রায় ১২টা নাগাদ লক্ষ্মী সিনেমা হলের দিক থেকে গান্ধী মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন ওই বাইক আরোহী। শুক্রবার রাতে দিনবসু লেনের মুখে K.G.R পথে পাইপ বসানো হয়েছিল। অভিযোগ, কাজ শেষে মাটি ঠিকমতো চেপে বসানো হয়নি। ফলে রাস্তার একটি অংশ অস্বাভাবিকভাবে উঁচু হয়ে ছিল। রাতের অন্ধকারে তা বুঝতে না পেরে দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় ওই মাটির ঢিবিতে ধাক্কা লাগে বাইকের।

ধাক্কার জেরে বাইক থেকে ছিটকে পড়ে যান আরোহী। রাস্তায় পড়েই তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। নাক ও মুখ দিয়ে প্রচুর রক্তপাত শুরু হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি জ্ঞান হারান। দুর্ঘটনার শব্দ শুনে ছুটে আসেন কাঁচরাপাড়া মিলনী ক্লাবের সদস্যরা। তাঁদের তৎপরতায় প্রথমে আহত যুবককে কাঁচরাপাড়া পলি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার খবর দেওয়া হয় বিজপুর থানায়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় আহতকে দ্রুত কল্যাণী জে এন এম হাসপাতালে রেফার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আহত মোটরসাইকেল আরোহী কল্যাণীর বাসিন্দা। দুর্ঘটনার সময় তাঁর শরীরে আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার সোনার গয়না ছিল বলেও দাবি স্থানীয়দের। যদিও এই বিষয়ে পুলিশের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি মেলেনি।

এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাইপ বসানোর কাজ শেষ হওয়ার পর রাস্তা সুরক্ষিত করার কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রাতের বেলা কোনও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বা আলোও ছিল না। প্রশাসনের গাফিলতিতেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি তাঁদের।

ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে বিজপুর থানার পুলিশ।

Mamata Banerjee: “Labeled as Bangladeshi Just for Speaking Bengali” — Mamata Sharpens Her Arsenal to Defeat BJP in the 2026 Elections

BanglaHunt Dask: In the last assembly elections, one of the main slogans used by the Trinamool Congress against the BJP was “outsider.” The BJP was accused of being anti-Bengali. Slogans like “Bengal wants its own daughter” and issues like the NRC were at the forefront. This time, the Trinamool Congress has stepped into the battlefield with a fresh issue. The party claims that Bengalis are being oppressed in BJP-ruled states, and anyone speaking Bengali is being harassed and labeled as “Bangladeshi.” In some cases, people have even been deported to Bangladesh and had to be brought back. There is no doubt that this issue of Bengali identity and alleged anti-Bengali sentiment by the BJP will be a major weapon in Trinamool’s campaign for the 2026 elections.

Today, Wednesday, Trinamool supremo Mamata Banerjee and the party’s All India General Secretary Abhishek Banerjee will walk on the streets of Kolkata. This rally, starting from College Square and ending at Dorina Crossing in Dharmatala, is a protest against the BJP’s alleged hostility towards Bengalis. The Trinamool is set to intensify the narrative that BJP is anti-Bengali.

A delegation from the Trinamool Congress is currently stationed in Delhi’s Vasant Kunj. Rajya Sabha MP Sukhendu Sekhar Roy and others have staged a sit-in protest there. Trinamool alleges that in BJP-ruled states like Delhi, Gujarat, Maharashtra, Rajasthan, Odisha, and Chhattisgarh, there is clear hostility towards Bengalis. In some places, Bengali speakers are being detained. Chief Minister Mamata Banerjee herself has had to intervene. Trinamool wants to capitalize on this issue. The party is determined to launch a massive campaign with the slogan “BJP is anti-Bengali.” According to political observers, this is going to be one of the main weapons for Trinamool in the 2026 Assembly elections.

However, the BJP has given a clear statement on the issue of alleged anti-Bengali sentiment. The saffron camp claims that the BJP harbors no anti-Bengali stance. Action is being taken only against illegal Muslim immigrants from Bangladesh in other states. Incidentally, they speak Bengali. But no illegal infiltrator can stay in this country and hatch conspiracies. On the contrary, the BJP alleges that thousands of Rohingya and Bangladeshi Muslim infiltrators are living in West Bengal, and the Mamata Banerjee government is taking no action against them.

In the 2021 Assembly elections, words like “Bengali,” “Bengal’s daughter,” and “outsider” echoed repeatedly in Trinamool rallies. This time, the scale of that narrative is expected to grow even bigger — with the upcoming mega rally by the Trinamool Congress marking its beginning. Recently, former BJP president Asim Ghosh was appointed as Governor of Haryana — a move that many see as BJP’s effort to shed the anti-Bengali label.

তৃণমূলের শুদ্ধিকরণে অভিষেক, রিপোর্ট পেলেই ছাঁটাই!

বাংলাহান্ট ডেক্স: এবার তৃণমূলের ব্লক, টাউন সভাপতি, ছাত্র ও যুব শাখায় রদবদল হতে পারে। আইপ্যাক ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দপ্তর জেলায় জেলায় খোঁজ নিচ্ছে। তৃণমূল সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন নেতা সম্পর্কে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে গুরুতর অভিযোগ এসেছে—কাটমানি নেওয়া, স্বজনপোষণ, এবং দলীয় কর্মীদের প্রতি অহংকারপূর্ণ ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের।

এই পরিস্থিতিতে অভিষেক স্পষ্টত জানিয়ে দিয়েছেন, যেই হোক না কেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকে রেয়াত করা হবে না। প্রয়োজন হলে সাসপেন্ড কিংবা বহিষ্কার পর্যন্ত করা হতে পারে।

রাজনীতিতে শৃঙ্খলা ফেরানোর ডাক

তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছে, কিছু নেতা মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তাঁদের আচরণ ও কার্যকলাপ দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। তাই দলের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে জেলার বিভিন্ন স্তরে খোঁজখবর শুরু হয়েছে। আইপ্যাক ও অভিষেকের নিজস্ব টিম মাঠে নেমে এলাকায় এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করছে। পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলিতে সংগঠনের কার্যকারিতা নিয়েও বিশ্লেষণ চলছে। অভিষেকের মতে, যেখানে দল পিছিয়ে, সেখানে রদবদল অনিবার্য।

অভিষেক চান পিছিয়ে পড়া এলাকা মানেই সেই এলাকায় রদবদলের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ২১ জুলাই মিটলেই বড় সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে খবর তৃণমূল সুত্রে। এনিয়ে বিধায়ক ও জেলা নেতাদের তলব করা হতে পারে কলকাতায়।

দলীয় অনুশাসনের বার্তা

অভিষেক বারবার বুঝিয়ে দিয়েছেন—দল নয়, মানুষই শেষ কথা। দলের দায়িত্বশীল নেতৃত্ব যেন জনসংযোগে অগ্রাধিকার দেন, দলীয় কর্মীদের সম্মান করেন, এবং জনগণের সমস্যা নিষ্ঠার সঙ্গে সমাধানে উদ্যোগী হন—এই বার্তা তিনি বারবার দিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের তৃণমূল কংগ্রেস শৃঙ্খলা, জনসংযোগ ও দায়বদ্ধতাকে সামনে রেখেই আগামী লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

Khuti Puja 2025 | উল্টো রথে খুঁটি পুজোর মধ্যে দিয়ে পুজোর প্রস্তুতি শুরু কাঁচরাপাড়া আমরা সবাই ক্লাবের

বাংলাহান্ট ডেক্স: আজ উল্টো রথের দিন খুঁটি পুজোর (Khuti Puja) মধ্যে দিয়ে দুর্গা পুজোর প্রস্তুতি শুরু করে দিল কাঁচরাপাড়া আমরা সবাই ক্লাব (Amra Sabai Club) । এবছর ৫১ তম বর্ষে পদার্পণ করল পুজো, পুজোয় থিমের ছোঁয়া থাকলেও প্রতিবারের মতো এবারও প্রতিমায় থাকছে বিশেষ চমক।

প্রতি বছরের মত এ বছরও অভিনবত্ব থিমের আকর্ষন ও দুর্গা প্রতিমা দর্শকদের মন জয় করবে বলে আশাবাদী পুজো উদ্যোক্তারা। এই খুঁটি পূজোয় উপস্থিত ছিলেন কাঁচরাপাড়া ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শর্মিষ্ঠা মজুমদার সহ অন্যান্য পুজো কমিটির সদস্যরা।

পুজো কমিটির সেক্রেটারি ভোলা মজুমদার জানান, গত কয়েক বছর ধরে থিমের পুজো করছেন। থিমের পুজো দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে। এবারো থিমের পুজো হবে। গ্রাম বাংলার থিম তুলে ধরা হবে পুজোর মধ্যে দিয়ে । প্রতিমায় থাকছে বিশেষ আকর্ষণ।

পুজো কমিটির আরেক উদ্যোক্তা সুজু পালের কথায়, এ বছরে আমাদের পুজোর মূল আকর্ষণ থাকছে দেবী প্রতিমা। আগে আমরা সাধারণ পুজো করতাম। গত কয়েক বছর ধরে পুজোকে আমরা আরও ভালো করার চেষ্টা করছি। কম বাজেটে কিভাবে ভালো পুজো করা যায় সেটাই আমাদের চেষ্টা। আগামীতে দূরদূরান্তের দশনার্থিরা যাতে আরো বেশি করে আমাদের পুজো দেখতে আসেন তারই চেষ্টা চলছে।

পুজো কমিটির ক্যাশিয়ার প্রশান্ত দে জানান , রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুদানের কথা মাথায় রেখে এবারের পুজোয় আরও বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে৷ থাকছে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি ও ডেঙ্গু সচেতনতা শিবির এবং বিডিন্ন অনুষ্ঠান ৷

পুজো যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে উত্তেজনা এবং প্রত্যাশা। আমরা সবাই ক্লাবের এবারের ৫১তম বর্ষের দুর্গাপুজো যে শহরের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হবে, তা বলাই বাহুল্য।

ভাঙন পদ্ম শিবিরে, মালদায় তৃণমূলে যোগদান শতাধিক কর্মী সমর্থকের

মালদাঃ ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবার বিজেপিতে ভাঙন ধরালো তৃণমূল! প্রায় ২ শতাধিক কর্মী যোগদান করলেন তৃণমূলে। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরাতন মালদার মহিষবাথানি অঞ্চলের গোসাই মোড় এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে এই যোগদান পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়। এদিন এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পুরাতন মালদার পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি মৃণালিনী মাইতি মন্ডল এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য নাইকি হাসদা তৃণমূল নেতা ঝাপ্পু রাজবংশী আরো এক তৃণমূল নেতা সারাফত আলী সহ আরো অন্যান্যরা। এদিন ওই কর্মীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা এবং আগামী দিনে তৃণমূলের হয়েই দল করবেন বলে জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা ঝাপ্পু রাজবংশী। তিনি বলেন বিজেপির এখানে এমএলএ এমপি আছে কোন কাজ করে না তাই তারা দিদির কাছে অনুপ্রাণিত হয়ে আজকে আমাদের দলের যোগদান করেছেন। বিজেপির সমর্থকরা বলেন আমরা বিজেপি করছিলাম তবে কোন উন্নয়ন দেখতে পাইনি তাই দিদির কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা তৃণমূলে যোগদান করেছি। অন্যদিকে এ বিষয়ে মালদা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক গোপাল চন্দ্র সাহা কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন তৃণমূলের কেউ যায়নি। ওদেরই কর্মীরাই দলে যোগদান করেছে,তারা হাওয়া গরম করার চেষ্টা করছে।

গঙ্গায় স্নান করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হল এক নাবালিকার

মালদা: মানিকচকে গঙ্গায় স্নান করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হল এক নাবালিকার। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে মালদার মানিকচকের পশ্চিম নারায়নপুর এলাকায়। জানা গেছে মৃত নাবালিকার নাম খুশি মন্ডল(১১)।নারায়নপুর হাই স্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে পড়াশোনা করত সে। বাবা কৃষ্ণ মন্ডল। পেশায় দিনমজুর।

ঘটনা সম্পর্কে জানা গেছে,বৃহস্পতিবার গ্ৰামের অনান্য বন্ধুদের সাথে স্থানীয় গঙ্গানদীতে স্নান করতে যায় খুশি। জলে নামতেই পা ফসছে গভীর জলে তলিয়ে যায় সে। পুরো ঘটনা অনান্যদের নজরে আসতেই চাঞ্চল্য ছরিয়ে পরে এলাকা জুড়ে। এরপর উদ্ধারের কাজে ঝাপিয়ে পরেন এলাকার বাসিন্দারা। প্রায় আধ ঘন্টার প্রচেষ্টায় খুশি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তরিঘড়ি মানিকচক গ্ৰামীন হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে তরিঘড়ি ছুটে আসেন মানিকচক থানার পুলিশ। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে খবর।

Dilip Ghosh: আজ বিয়ের পিড়িতে দিলীপ ঘোষ! কিভাবে ফুটল বিয়ের ফুল?

বাংলাহান্ট ডেক্সঃ রাজনীতির মঞ্চে দীর্ঘ পথচলা। রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি, প্রাক্তন সাংসদ এবং প্রাক্তন বিধায়ক দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। রাজনৈতিক জীবনে তিনি যেমন দৃঢ় ও অনড়, ব্যক্তিগত জীবনেও এত দিন ছিলেন তেমনই একা। কিন্তু শুক্রবার সেই অধ্যায়ে আসছে এক নতুন মোড়। নিউ টাউনের নিজ বাসভবনে অত্যন্ত ঘরোয়া পরিসরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছেন দিলীপ ঘোষ এবং রিঙ্কু মজুমদার।

রাজনীতির সূত্রেই পরিচয়, জীবনের পথে একসাথে হাঁটার সিদ্ধান্ত

বিজেপি করার সূত্রেই আলাপ রিঙ্কুর সঙ্গে। রিঙ্কু মজুমদার একজন গৃহবধূ, বিবাহবিচ্ছিন্না ও এক পুত্র সন্তানের জননী। তাঁর ছেলে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত। গত লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরে একাকীত্বে ডুবে থাকা দিলীপের জীবনে রিঙ্কুই আনেন নতুন আলোর রেখা। তাঁর কাছ থেকেই আসে সংসার বাঁধার প্রথম প্রস্তাব। যদিও শুরুতে রাজি হননি দিলীপ, শেষমেশ মায়ের ইচ্ছায় এবং নিজস্ব উপলব্ধিতে সম্মতি দেন।

ইডেনের ক্লাব হাউসে ‘পাকা কথা’

গত ৩ এপ্রিল ইডেন গার্ডেন্সে কেকেআর বনাম সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদ ম্যাচ চলাকালীন ক্লাব হাউসের ১১ নম্বর বক্সে বসেই হয়ে যায় ‘পাকা কথা’। সেদিন রিঙ্কু, তাঁর পরিবার এবং রিঙ্কুর পুত্রও উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাচক্রে, দিলীপের মায়েরও দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল পুত্রের বিবাহ হোক এবং একটি পরিপূর্ণ পরিবারে তিনি দিন কাটাতে পারেন।

ঘরোয়া আয়োজন, নির্বাচিত অতিথিমন্ডলী

শুক্রবারের বিবাহ অনুষ্ঠানটি হবে অত্যন্ত ব্যক্তিগত পরিসরে। দিলীপ বরাবরই আড়ম্বরে বিশ্বাসী নন। তাই আমন্ত্রিতদের তালিকাও ছোট। দিলীপ ও রিঙ্কুর নিকটাত্মীয় এবং ঘনিষ্ঠরাই থাকবেন এই শুভক্ষণে। যদিও দলের একাংশ থেকে তাঁকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে এবং দিল্লি থেকে সুনীল বনসল ও সতীশ ধন্দ তাঁর বাড়িতে গিয়ে আগাম অভিনন্দন জানিয়েছেন।

শোনা যাচ্ছে, সঙ্ঘ পরিবারের একাংশ দিলীপের এই সিদ্ধান্তে খুশি নন। কেউ কেউ তাঁকে এই বিয়ে না করার পরামর্শও দেন। এমনকি বাড়িতেও গিয়ে তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা হয়। তবে দিলীপ নিজের সিদ্ধান্তে অনড়। বলেছেন, “এখন আর ফেরার পথ নেই।”

দিলীপ ঘোষ এখনও রাজনীতিতে সক্রিয়। আগামী বিধানসভা নির্বাচনেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে। বিজেপির তরফে তাঁকে আবার প্রার্থী করা হতে পারে। ফলে রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেই তাঁকে সামলাতে হবে সংসারের দায়িত্বও। বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গ, নিজের অনুপস্থিতিতে পরিবারের যত্ন, সব মিলিয়েই এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।