লাইভের পরেই চরম সিদ্ধান্তের চেষ্টা, কেমন আছেন দেবলীনা? জানালেন বন্ধু সায়ক

কলকাতা, ৫ জানুয়ারি: মুখে লেগে থাকা চিরচেনা হাসি। গান আর ভ্লগে ভরা সোশাল মিডিয়া প্রোফাইল। বাইরে থেকে দেখে কে বলবে, ভিতরে ভিতরে এমন যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই চলছিল! জনপ্রিয় গায়িকা ও ভ্লগার দেবলীনা নন্দীকে ঘিরে এখন উদ্বেগে নেটপাড়া। সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় একটি লাইভের পরেই নিজেকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দেবলীনা। তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা জানালেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও অভিনেতা সায়ক।

লাইভেই ভেঙে পড়েছিলেন

ঘটনার ঠিক আগে সোশাল মিডিয়ায় লাইভে এসে নিজের মনের কথা উজাড় করে দেন দেবলীনা। জানান, পেশাগত জীবন থেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক—সব দিক থেকেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ভুগছিলেন। বিয়ের পর থেকেই তাঁর কাজ ও মাকে ঘিরে সমস্যা শুরু হয় বলে অভিযোগ করেন গায়িকা।

লাইভে দেবলীনা বলেন, বিয়ের পর তাঁকে বারবার শুনতে হয়েছে—মাকে আলাদা করে রাখতে হবে।
“ছেলেদের ক্ষেত্রে তো এমন নিয়ম নেই, তাহলে মেয়েদের ক্ষেত্রে কেন?”—প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। আবেগভাঙা গলায় জানান, নিজের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা সেই মাকে কোনওভাবেই ছেড়ে দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

সোশাল মিডিয়ায় সব সময় জীবনের সুখের মুহূর্ত ভাগ করে নিলেও, ভিতরের যন্ত্রণা তিনি চেপে রেখেছিলেন বলেই জানান দেবলীনা।
“আমি সারাক্ষণ অভিনয় করি—আমি ভালো আছি। কিন্তু আসলে আমি ভালো নেই,”—লাইভে এমনই স্বীকারোক্তি ছিল তাঁর।

তারপরেই চরম সিদ্ধান্ত

এই লাইভের কিছু সময় পরেই জানা যায়, দেবলীনা নিজেকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের তৎপরতায় আপাতত তিনি বিপদমুক্ত।

কী বললেন বন্ধু সায়ক

দেবলীনাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তাঁর বন্ধু অভিনেতা সায়ক। লাইভে এসে তিনি জানান,
“এখন ও ভালো আছে। চিকিৎসকরা সময়মতো ওকে বিপদ থেকে বের করে আনতে পেরেছেন।”

সায়ক বলেন,
“কোনও সম্পর্ক বা ভালোবাসা জীবনের থেকে বড় হতে পারে না। আগে নিজেকে ভালোবাসতে হবে। নিজেকে শেষ করে দেওয়া কোনও সমস্যার সমাধান নয়।”

এক বছরের দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন চলছিল বলেও জানান তিনি।
“যখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, তখন মানুষ এমন সিদ্ধান্ত নেয়। আমি ওকে বারবার বলেছি—যদি সম্পর্ক এতটাই কষ্টের হয়, তাহলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। জোর করে কিছু ঠিক করা যায় না,”—মন্তব্য সায়কের।

অনুরাগীদের উদ্দেশে বার্তা

দেবলীনাকে ঘিরে যাঁরা উদ্বিগ্ন, তাঁদের আশ্বস্ত করে সায়ক বলেন,
“ও এখন ভালো আছে। এটা ওর জীবনের দ্বিতীয় সুযোগ। ওর প্রপার কাউন্সেলিং দরকার। আমরা সবাই চাই, ও তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুক।”

এই ঘটনার পর সোশাল মিডিয়ায় দেবলীনাকে ঘিরে প্রার্থনা ও শুভকামনার বন্যা বইছে।

জিৎ, প্রসেনজিৎ নাকি দেব, এই তিন নায়কের মধ্যে সবথেকে বেঁটে কে? নাকি দেব, এই তিন নায়কের মধ্যে সবথেকে বেঁটে কে?

টলিউডের সুপারস্টার বলতেই প্রথমেই যাদের নাম মাথায় আসে তারা হলেন প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জী, জিৎ, দেব। এছাড়াও রয়েছেন অন্য আরও অনেক তারকা। পর্দায় নায়িকাদের সঙ্গে তাদের রোমান্স হোক কিংবা অ্যাকশন, জমিয়ে উপভোগ করেন দর্শকরা। টলিউডের এই সেরা অভিনেতাদের উচ্চতা (Tollywood Heroes Height) সম্পর্কে কোনও ধারণা আছে কি? প্রসেনজিৎ, দেব, জিৎ থেকে শুরু করে যিশু, আবিরদের প্রকৃত উচ্চতা কত? জেনে নিন আজকের এই প্রতিবেদন থেকে।

আবির চ্যাটার্জি (Abir Chatterjee) : এই প্রজন্মের কাছে টলিউডের অন্যতম হ্যান্ডসাম অভিনেতা হলেন আবির। বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করে তিনি এখন টলিউডের প্রথম সারির অভিনেতা। বাঙালি মহিলাদের হার্টথ্রব তিনি, তার উচ্চতা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি।

দেব (Dev) : টলিউডের এই সুপারস্টার অভিনেতার উচ্চতা কিন্তু কিছু কম নয়। শুরুটা কমার্শিয়াল ছবি দিয়ে হলেও এখন ভিন্ন ভিন্ন ধারার ছবিতে নিজেকে মেলে ধরছেন দেব। ‘টনিক’ থেকে ‘কিশমিশ’, তার ছবিগুলো দর্শকদের থেকে আলাদাভাবে সাড়া পাচ্ছে। দেবের উচ্চতা ৬ ফুট ১ ইঞ্চি।

মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty) : ৯০ এর দশকে বলিউড এবং টলিউডের অ্যাকশন সুপার হিরো ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। ফাটাকেষ্ট থেকে মহাগুরু, আবার বলিউডের ডিস্কো ড্যান্সার! মিঠুনের রয়েছে অনেক নাম। তার উচ্চতা ৬ ফুট।

যিশু সেনগুপ্ত (Jishu Sengupta) : কেরিয়ারের শুরুতে বলিউডে সেভাবে জায়গা পাননি যিশু। তবে আজ সারা দেশ জুড়েই তার বিস্তৃতি। বাংলা ছবির পাশাপাশি বলিউডের বিভিন্ন ছবি এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ও সাউথ ইন্ডিয়ান ছবিতেও তাকে দেখা যাচ্ছে। যিশুর উচ্চতাও ৬ ফুট।

যশ দাশগুপ্ত (Yash Dasgupta) : সিরিয়াল দিয়ে কেরিয়ারের শুরুটা হলেও আজ টলিউডের জনপ্রিয় নায়কে পরিণত হয়েছেন যশ দাশগুপ্ত। যশের উচ্চতাও ৬ ফুট।

সোহম চক্রবর্তী (Soham Chakraborty) : একেবারে তিন বছর বয়স থেকে অভিনয় করছেন সোহম চক্রবর্তী। তিনিও আজ টলিউডের একজন সুপারস্টার। অন্যান্য অভিনেতাদের তুলনায় তার উচ্চতা কিছুটা কম। তার উচ্চতা হল ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি।

জিৎ (Jeet) : প্রসেনজিতের পর জিৎ বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছিলেন। ‘সাথী’, ‘নাটের গুরু’ সিনেমা থেকে শুরু করে আজকের ‘রাবণ’, ‘রংবাজ’, একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়েছেন টলিউডকে। তার বাস্তব উচ্চতা ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি।

প্রসেনজিৎ (Prasenjit Chatterjee) : টলিউডের ইন্ডাস্ট্রি নামে পরিচিত প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জির নামটা বিনোদনের দুনিয়াতে অনেক বড় নাম। শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। বাস্তবে তার উচ্চতা হল ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি।

অঙ্কুশ হাজরা (Ankush Hazra) : অঙ্কুশ হাজরা ঝুলিতেও রয়েছে টলিউডের অনেক সুপারহিট ছবির নাম। যদিও তাকে পর্দায় দেখলে বেশ লম্বা বলেই মনে হয় তবে তার আসল উচ্চতা হল ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি থেকে একটু বেশি।

শ্রাবন্তীকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়ার চেষ্টা, কষিয়ে চড় মারলেন অভিনেত্রী

টলিউডের অন্যতম ব্যস্ত নায়িকা শ্রাবন্তী। তিনি যা করেন, যা বলেন সবই ভাইরাল হয়। ক্যামেরার সামনে থেকে ক্যামেরার আড়াল, সবকিছু নিয়েই চর্চা হয়। ফোটোশ্যুট থেকে এক্সারসাইজ, ঘুরতে যাওয়ার ছবি– নিজের জীবনের নানা মুহূর্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় সকলের সামনে তুলে ধরেন তিনি। তবে হঠাৎ দেখা গেল নিজের এক অনুরাগীকে কষিয়ে চড় মারছেন। হঠাৎ কী হল?

মুক্তির অপেক্ষায় শ্রাবন্তীর পরের সিনেমা ‘কাবেরী অন্তর্ধান’। প্রথমবার কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের পরিচালনায় অভিনয় করছেন তিনি। সঙ্গে বিপরীতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। প্রসেনজিৎ-শ্রাবন্তীকে একসঙ্গে বড় পরদায় দেখবে সবাই প্রায় বছর ২৫ পর। এর আগে ‘মায়ার বাঁধন’ ছবিতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন ছোট্ট শ্রাবন্তী। তবে জুটি হিসেবে প্রথমবার পর্দায় দেখা মিলবে তাঁদের কাবেরী অন্তর্ধানেই।

সে যাই হোক, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে শ্রাবন্তীকে জোর করে জরিয়ে ধরে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করছেন একজন। আর তাতেই কষিয়ে থাপ্পড় মারছেন অভিনেত্রী। মুখে বলছেন, ‘আমার সঙ্গে এরকম ব্যবহার করার চেষ্টা একদম করবে না’। তবে এই ভিডিয়োটি আসলেই মজার ছলে তৈরি করা হয়েছে। বন্ধু মৌমিতার সঙ্গে বানিয়েছেন শ্রাবন্তী এটা। ইনস্টাগ্রামে দুজনেই তা শেয়ার করে নিয়েছেন। যা দেখে হাসি ফুটেছে মুখে নেট-নাগরিকদেরও। শেয়ার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা নিমেষে ভাইরাল। আরও পড়ুন: অক্ষয়-ইমরানের সেলফির মোশন পোস্টার প্রকাশ্য়ে! কবে মুক্তি পাচ্ছে ছবিখানা?

https://www.instagram.com/reel/CnU6w9dK4Pv/?utm_source=ig_web_copy_link

সাতের দশকের এমার্জেন্সির প্রেক্ষাপটে লেখা হয়েছে এই ছবির গল্প। থ্রিলার ঘরনার এই ছবিতে একদম নতুনভাবে দর্শক দেখতে পাবেন শ্রাবন্তীকে। করোনার কারণে পিছিয়ে গিয়েছিল কাবেরী অন্তর্ধানের কাজ। অবশেষে তা মুক্তি পাচ্ছে ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি। ট্রেলারে ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছেন। শ্রাবন্তী জানিয়েছেন, খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল এই কাজ তাঁর কাছে। জানিয়েছেন, এতদিন তাঁকে ঠিক করে ব্যবহার করতে পারেনি টলিউড, যা কৌশিক করেছেন। ফের কাজ করতে চান পরিচালক কৌশিকের সঙ্গে।

শ্রাবন্তীর কথায়, ‘আমাকে টাইপকাস্ট করা হয়েছিল অতীতে। এখন ভালো কাজ পাচ্ছি।’ প্রসঙ্গত উমা, গয়নার বাক্স, বুনো হাঁসের মতো সিনেমায় অ্য ধারার চরিত্রে দেখা মিলেছে শ্রাবন্তীর।

Johnny Lever: একসময় লোক হাসিয়ে মুম্বাইয়ের রাস্তায় পেন বিক্রি করতেন, আজ ৩৫০ কোটি টাকার মালিক জনি লিভার

হিন্দি বিনোদন জগতের বিখ্যাত একজন কমেডিয়ান হলেন জনি লিভার (Johnny Lever)। মুম্বাই ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর মত বড় মাপের অভিনেতা অনেক কমই দেখা যায়। অন্ধ্রপ্রদেশের এক হিসাই পরিবারে জন্মগ্রহণ করা এই অভিনেতা ৮০-৯০ এর দশকে খ‍্যাতনামা একজন কমেডিয়ান ছিলেন। বতর্মান সময়ে তাঁর মত অভিনেতা খুঁজে পাওয়া দুস্কর।

১৯৫৭ সালে জন্মগ্রহণকারী এই অভিনেতা নিজের বাবা মাকে খুব ভালোবাসেন। সেই কারণেই তিনি আজও গোটা পরিবারের মধ‍্যমণি হয়ে রয়েছেন। একসময় বাবার হাত ধরেই মুম্বাই মায়ানগরীতে পা দিয়েছিলেন জনি লিভার। সেই সময় কোন সিনেমার প্রয়োজনে না এলেও হিন্দুস্তান লিভার কোম্পানিতে কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন জনি লিভার (Johnny Lever)।

এই স্থানে কাজের মাঝে তিনি বিভিন্ন মানুষের নকল করতেন। আর তা খুবই পছন্দ করতেন বাকি কর্মচারীরা। এখানেই থেমে যাননি জনি লিভার। এইভাবে ধীরে ধীরে স্টেজ পারফরম্যান্স শুরু করেন তিনি। তাঁর কাজের ধরণ দেখে তাঁকে সিনেমায় অভিনয় করার কথাও বলেন অনেকে। সাহস করে বুক বাঁধা স্বপ্ন নিয়ে সিনেমায় অভিনয় করলেন জনি লিভার। তাঁর অভিনয় মন ছুঁয়ে গেল প্রতিটি দর্শকের। সকলের মুখ থেকেই প্রশংসা পেলেন এই অভিনেতা। পাশাপাশি হিন্দুস্তান লিভারে কাজ করার সুবাদে তাঁর নাম বদলে হয়ে গেল জনি লিভার।

পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকার কারণে সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনার পর একটা সময় কাজের অভাবে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ঘুরে কলম বিক্রি করতেন তিনি। সেইসঙ্গে নামী দামী শিল্পীদের নকল করে কিছু পয়সা উপার্জন করতেন। এইসময় মানুষ তাঁর কমেডি বেশি পছন্দ করায় দৈনিক ৫ টাকা করে উপার্জন করতেন তিনি। সেইসময় ৫ টাকা অনেক ছিল তাঁদের পরিবারের কাছে।

জানিয়ে রাখি, একসময় জনি লিভারের একটি শো চলাকালীন সেখানে উপস্থিত ছিলেন সুনীল দত্ত। আর সেখানে জনি লিভারের অনুষ্ঠান দেখে তাঁকে ভীষণই খুশি হন তিনি। এমনকি তাঁকে একটি ছবির অফারও দিয়ে দেন। এইভাবে চলচ্চিত্র জগতে প্রথম ছবি ‘দর্দ কা রিশতা’তে অভিনয় করে অনেক ভালোবাসা পান জনি লিভার।

বলিউডে প্রায় ৩৫০ টি সিনেমায় অভিনয় করে ফেলেছেন এই অভিনেতা। সেইসঙ্গে প্রায় ১৪ বার ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছেন তিনি। আজকের দিনে সকলের ভালোবাসার পাত্রে পরিণত হয়েছেন জনি লিভার (Johnny Lever)।