৮২টি কেমোও দমাতে পারেনি অদ্রিজাকে, উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যের দশম!

ক্যানসারকে হারিয়ে ৪৮৭ নম্বর, নিমতার মেয়ের লড়াই আজ বাংলার অনুপ্রেরণা

ক্যানসার মানেই যেন জীবনের সমস্ত রং হঠাৎ মুছে যাওয়া। বিশেষ করে সেই মারণরোগ যখন থাবা বসায় এক কিশোরীর শরীরে, তখন স্বপ্নগুলোও অনেক সময় হাসপাতালের সাদা দেওয়ালে আটকে পড়ে। কিন্তু উত্তর ২৪ পরগনার নিমতার মেয়ে অদ্রিজা গণ দেখিয়ে দিলেন, ইচ্ছাশক্তি আর লড়াই করার মানসিকতা থাকলে সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধও জেতা যায়।

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিকে ৫০০-র মধ্যে ৪৮৭ নম্বর পেয়ে রাজ্যের মেধাতালিকায় দশম স্থান অর্জন করেছেন অদ্রিজা। অথচ এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে এক দীর্ঘ, যন্ত্রণাভরা অধ্যায়—৮২টি কেমোথেরাপি, অসংখ্য হাসপাতালের দিনরাত আর মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার লড়াই।

অদ্রিজার অসুস্থতা ধরা পড়ে ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে। তখন তিনি ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়ে ‘টি-সেল লিম্ফোমা’, এক জটিল ধরনের ব্লাড ক্যানসার। যে বয়সে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে খেলাধুলা আর স্কুলের ব্যস্ততায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সেই তাঁর জীবন ঘিরে ফেলে হাসপাতাল, ওষুধ আর কেমোথেরাপির দীর্ঘ যন্ত্রণা।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, চিকিৎসার সময় তাঁকে ৮২টি কেমোথেরাপি এবং ১৮টি মেরুদণ্ডের ইনজেকশন নিতে হয়েছিল। প্রতিটি কেমোর পর অসহ্য শারীরিক কষ্ট সহ্য করেও হার মানেননি অদ্রিজা। বরং প্রতিবারই আরও দৃঢ়ভাবে ফিরে আসার চেষ্টা করেছেন।

এই কঠিন সময়ে তাঁর পাশে ছায়ার মতো থেকেছেন বাবা-মা। বাবা জয়মঙ্গল গণ পেশায় শিক্ষক। মা জ্যোতি গণও শিক্ষিকা। মেয়ের চিকিৎসার জন্য মুম্বইয়ের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে দিনের পর দিন কাটিয়েছেন তাঁরা। পরিবার ভেঙে না পড়ে বরং আরও শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিল অদ্রিজার পাশে।

দীর্ঘ চার বছরের চিকিৎসার পর ২০২১ সালের জুন মাসে চিকিৎসকেরা তাঁকে ক্যানসারমুক্ত ঘোষণা করেন। কিন্তু তাতেই লড়াই শেষ হয়নি। আবার নতুন করে পড়াশোনার মূল স্রোতে ফেরা, স্কুলের ছন্দে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া—সবটাই ছিল আর এক যুদ্ধ।

রামকৃষ্ণ সারদা মিশন সিস্টার নিবেদিতা গার্লস স্কুলের ছাত্রী অদ্রিজা ধীরে ধীরে ফিরে পান নিজের আত্মবিশ্বাস। উচ্চমাধ্যমিকে তাঁর বিষয় ছিল ভূগোল, অর্থনীতি, কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন এবং মনোবিদ্যা। অসুস্থতার কারণে কখনও রাত জেগে পড়তে পারেননি। কিন্তু যতটুকু সময় পেয়েছেন, সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করেছেন।

অদ্রিজা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র বই নয়, গান শোনা, গল্প পড়া এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোও তাঁকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছে। সেই জোরেই আজ তিনি রাজ্যের সেরাদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।

তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না অদ্রিজা। ভবিষ্যতে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি নিয়ে পড়াশোনা করতে চান তিনি। ক্যানসারের চিকিৎসার সময় কাছ থেকে দেখেছেন মানুষের মানসিক ভাঙন। তাই একজন মনোবিদ হয়ে ভবিষ্যতে অবসাদ ও মারণরোগে আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতেই চান তিনি।

নিমতার এই কিশোরীর সাফল্য আজ শুধু একটি ফলাফল নয়, এটি অদম্য মানসিক শক্তির প্রতীক। ৪৮৭ নম্বরের পিছনে লুকিয়ে রয়েছে অসংখ্য যন্ত্রণার রাত, চোখের জল আর হার না মানা জেদ। অদ্রিজা গণ তাই আজ শুধু একজন মেধাবী ছাত্রী নন, বাংলার অসংখ্য মানুষের কাছে তিনি এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা।

“দিল্লিতে ফের নির্ভয়ার স্মৃতি! চলন্ত বাসে তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ”

দিল্লিতে ফের নারকীয় ঘটনার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। চলন্ত বাসে এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগে বাসের চালক ও কন্ডাক্টরকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১১ মে রাতে উত্তর-পশ্চিম দিল্লির নাংলোই এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, তরুণী একটি প্রাইভেট বাসে ওঠার পর বাসের চালক ও কন্ডাক্টর তাঁকে নির্জন রাস্তায় নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন করে। পরে কোনওভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে তরুণী পুলিশের দ্বারস্থ হন।

তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত শুরু করে দিল্লি পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ ও বাসের তথ্য খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত চালক ও কন্ডাক্টরকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।

ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দিল্লিতে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের সরব হয়েছে বিভিন্ন মহল। ২০১২ সালের নির্ভয়া কাণ্ডের স্মৃতি উসকে দিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এত কড়া আইন থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ঘটনায় ব্যবহৃত বাসটিকেও আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী আধিকারিকরা।

​”দিল্লির স্কুলে ৩ বছরের ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন, কাঠগড়ায় স্কুলেরই কর্মী!”

রাজধানী দিল্লির জনকপুরী এলাকায় এক বেসরকারি স্কুলে তিন বছরের এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে স্কুলেরই এক কর্মীকে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

পরিবারের দাবি, ঘটনাটি ঘটে ২৮ এপ্রিল, ২০২৬। আর ১ মে তারিখে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হয়। তিন বছর বয়সী ওই শিশুটি প্রতিদিনের মতো স্কুলে গিয়েছিল, কিন্তু সেদিন স্কুল থেকে ফেরার পর তার আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন তার মা। শিশুটি অত্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছিল এবং শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। মায়ের সন্দেহ হওয়ায় তিনি শিশুটির সঙ্গে কথা বলেন এবং বুঝতে পারেন যে স্কুলের ভেতরেই কোনো এক পুরুষ কর্মী তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে শিশুটির মা তৎক্ষণাৎ জনকপুরী থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত শুরু করে দিল্লি পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং পকসো আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়। তদন্তকারীরা স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু করেন। পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদও চলে। তদন্তের এক পর্যায়ে শিশুটির বয়ান এবং প্রাথমিক মেডিক্যাল রিপোর্টের ভিত্তিতে স্কুলের এক অশিক্ষক কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। অভিভাবকদের একাংশের অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষ কর্মীদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই এবং নজরদারির ক্ষেত্রে গাফিলতি করেছে। যে প্রতিষ্ঠানে ছোট ছোট শিশুদের নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকে, সেখানে কীভাবে এমন অভিযোগ উঠল, তা নিয়েই ক্ষোভ বাড়ছে।

এদিকে মামলায় নতুন মোড় আসে আদালতে। বৃহস্পতিবার দ্বারকা আদালতে অভিযুক্তের জামিনের শুনানি হয়। সরকারি আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করে জানান, অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং অভিযুক্ত বাইরে থাকলে তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করে আদালত।

আদালতের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দিল্লি পুলিশের একাংশ সূত্রে খবর, জামিনের লিখিত নির্দেশ হাতে পাওয়ার পর উচ্চতর আদালতে যাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হতে পারে। তদন্ত এখনও চলছে। ফরেনসিক রিপোর্ট, ডিজিটাল প্রমাণ এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

শিশু সুরক্ষা নিয়ে আবারও বড় প্রশ্ন তুলে দিল জনকপুরীর এই ঘটনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সিসিটিভি বসালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। স্কুলের প্রতিটি কর্মীর চরিত্র যাচাই, শিশুদের ‘গুড টাচ’ ও ‘ব্যাড টাচ’ সম্পর্কে সচেতন করা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ—সবই সমান জরুরি।

তিন বছরের এক শিশুর উপর এমন অভিযোগ শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, সমাজের নিরাপত্তা কাঠামোর দিকেও আঙুল তুলছে। এখন নজর তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার দিকে—দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কত দ্রুত এবং কতটা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটাই দেখার।

“চাপ বাড়তেই ‘উধাও’ পার্থ! বিপদের দিনে নেতাকে না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন কর্মীরা”

বাংলাহান্ট ডেক্স: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই উত্তর ২৪ পরগনার দমদম-ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল শিবিরে বাড়ছে অস্বস্তি। দলের অন্দরেই এখন ঘুরছে একটাই প্রশ্ন—কোথায় পার্থ ভৌমিক? ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে কার্যত জনসমক্ষে দেখা মেলেনি জেলার এই প্রভাবশালী নেতার। অভিযোগ, উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কর্মীরা আক্রান্ত হলেও পাশে নেই নেতৃত্ব।

দমদম, ব্যারাকপুর, বীজপুর-সহ একাধিক এলাকায় ভোট-পরবর্তী উত্তেজনার আবহে বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক বাড়িছাড়া বলেও দাবি স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশের। তাঁদের অভিযোগ, এতদিন যাঁর নির্দেশেই চলত গোটা সাংগঠনিক জেলা, সেই পার্থ ভৌমিক এখন সম্পূর্ণ নীরব। ফোন ধরছেন না, কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন না বলেও অভিযোগ উঠছে।

দলের এক ব্লক স্তরের নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দলের এই বিপর্যয়ের পর এখন কর্মীদের বাড়িতে হামলা হচ্ছে, অনেকে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু জেলার সভাপতি কোথাও নেই। এই সময় নেতৃত্বের পাশে থাকা দরকার ছিল।”

যদিও তৃণমূলের অন্য একটি অংশ অবশ্য এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় পার্থ ভৌমিক প্রকাশ্যে না এলেও সাংগঠনিক স্তরে যোগাযোগ রাখছেন। দলের এক নেতা বলেন, “পরিস্থিতি সামাল দিতেই তিনি ব্যস্ত। বিরোধীরা ইচ্ছাকৃত ভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।”

তবে জেলাজুড়ে বাড়তে থাকা গুঞ্জন থামছে না। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে পার্থ ভৌমিককে নিয়ে কটাক্ষের সুর ক্রমশ চড়ছে। অনেক কর্মীই প্রশ্ন তুলছেন, “দলের সুসময়ে সামনে থাকলে দুঃসময়েও কি নেতাদের দায়িত্ব নেই?”

রাজ্যের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনা বরাবরই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই সংগঠনের ভিতেই যে চাপা অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, পার্থ ভৌমিককে ঘিরে জল্পনা যেন আরও একবার তা স্পষ্ট করে দিল।

ভরাডুবির পর কালীঘাটে মমতার জরুরি বৈঠক, গড়হাজির তৃণমূলের ১০ বিধায়ক

রাজ্যের ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার ধাক্কা এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই ঘর গোছাতে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার কালীঘাটে নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু প্রথম বৈঠকেই ৮০ জনের মধ্যে ১০ জন বিধায়কের অনুপস্থিতি ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক জল্পনা।

দলীয় সূত্রে খবর, বৈঠকের শুরুতেই মমতা স্পষ্ট বার্তা দেন— “কঠিন সময়েই সংগঠনের আসল পরীক্ষা।” কর্মীদের পাশে থাকার পাশাপাশি দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার উপর জোর দেন তিনি। ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে অনেক জায়গায় কর্মীদের উপর চাপ ও হামলার অভিযোগ উঠছে। সেই আবহে সংগঠনের মনোবল ধরে রাখাই ছিল বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য।

তবে রাজনৈতিক মহলের নজর কাড়ে অনুপস্থিতির বিষয়টি। দলীয়ভাবে জানানো হয়েছে, কয়েকজন বিধায়ক ব্যক্তিগত কারণ এবং শারীরিক অসুস্থতার জন্য উপস্থিত থাকতে পারেননি। কিন্তু বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই কটাক্ষ শুরু করেছে। প্রশ্ন উঠছে, ফলাফলের ধাক্কার পর দলের অন্দরে কি অসন্তোষ বাড়ছে? নাকি ভবিষ্যতের সমীকরণ সাজাতে কেউ কেউ এখন থেকেই দূরত্ব বজায় রাখতে চাইছেন?

বৈঠকে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। কে হবেন সরকারের বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রধান মুখ, তা নিয়ে দলের অন্দরে একাধিক নাম ঘুরছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেই জানা গিয়েছে।

একই সঙ্গে আগামী দিনে আন্দোলনের রূপরেখা নিয়েও আলোচনা হয়। ভোটে পরাজয়ের পরেও “গণতান্ত্রিক পথে মানুষের লড়াই” চালিয়ে যাওয়ার ডাক দেন মমতা। সংগঠনকে বুথস্তর থেকে নতুন করে শক্তিশালী করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি বলে দাবি দলীয় সূত্রের।

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রথম বৈঠকেই ১০ বিধায়কের অনুপস্থিতি নিছক কাকতালীয় নয় বলেই জল্পনা বাড়ছে। কারণ ক্ষমতা হারানোর পর যে কোনও দলের কাছেই প্রথম বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সেখানে এতজনের অনুপস্থিতি ভবিষ্যতে বড় কোনও ফাটলের ইঙ্গিত কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজ্য রাজনীতির।

অশান্ত বীজপুরে ‘গায়েব’ পৌর প্রধান! ক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মীরা

ভোট মিটতেই বীজপুরে ক্রমশ তীব্র হচ্ছে অশান্তির আবহ। আর সেই আবহের মধ্যেই সামনে উঠছে এক বিস্ফোরক অভিযোগ—তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের ছেড়ে কার্যত ‘অদৃশ্য’ হয়ে গিয়েছেন পৌর প্রধান কমল অধিকারী।

স্থানীয় সূত্রে খবর, একসময় এলাকার দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত কমল অধিকারীকে ভোটের পর আর এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। অভিযোগ, বিপদের মুখে পড়ে একাধিক কর্মী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন ধরছেন না তিনি, এমনকি মেসেজেরও কোনও উত্তর মিলছে না।

এদিকে, বীজপুরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে হিংসার খবর। অভিযোগ উঠছে, রাজনৈতিক সংঘর্ষে আক্রান্ত হচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা। কোথাও ভাঙচুর হচ্ছে বাড়িঘর, কোথাও আবার লুঠপাটের ঘটনাও সামনে আসছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এই পরিস্থিতিতে নেতৃত্বের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের একাংশের মধ্যে।

এক কর্মীর কথায়, “ভোটের সময় সবসময় পাশে ছিলেন, কিন্তু এখন যখন বিপদ, তখন তাঁকে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না।” আরেকজনের অভিযোগ, “আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, অথচ নেতৃত্বের কোনও খোঁজ নেই।”

তবে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পৌর প্রধানের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি। তিনি কোথায় আছেন, আদৌ এলাকায় ফিরবেন কি না—তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

সব মিলিয়ে, ভোট-পরবর্তী উত্তেজনার আবহে বীজপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেই তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্নচিহ্ন।

“দলটাকে তিলে তিলে শেষ করে দিয়েছেন অভিষেক, সরাসরি তোপ দাগলেন প্রাক্তন মন্ত্রী”

নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ: রাজ্যের ক্ষমতা হাতছাড়া হতেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ফাটলের ইঙ্গিত ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ এবার প্রকাশ্যে বিস্ফোরিত হল দলেরই এক প্রাক্তন মন্ত্রীর মুখে। ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী সরাসরি তোপ দাগলেন দলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে।

বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কার্যত ক্ষোভে ফেটে পড়েন কৃষ্ণেন্দু। দলের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের জন্য এককভাবে অভিষেককেই দায়ী করে তিনি বলেন, “একজন ব্যক্তি দলটাকে তিলে তিলে শেষ করে দিলেন, তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।” তাঁর এই মন্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণেই থেমে থাকেননি কৃষ্ণেন্দু। দলের কার্যপদ্ধতি নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তাঁর অভিযোগ, “যেভাবে কর্পোরেট হাউজের মতো দল চালানো হচ্ছিল, তা বাংলার মাটিতে চলে না।” তাঁর ইঙ্গিত, দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে সংগঠনের কাঠামো—সব ক্ষেত্রেই একক আধিপত্যের ছাপ ছিল, যা শেষ পর্যন্ত দলের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলের অন্দরে এই ধরনের প্রকাশ্য অসন্তোষ সামনে আসা তাৎপর্যপূর্ণ। এতদিন যা অন্তর্দ্বন্দ্ব হিসেবে চাপা ছিল, এখন তা প্রকাশ্যে চলে আসছে। যদিও এই মন্তব্য নিয়ে এখনও পর্যন্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

তবে প্রশ্ন উঠছে, এই ধরনের বিস্ফোরক মন্তব্য কি কেবল ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, নাকি দলের অন্দরে বৃহত্তর অসন্তোষেরই প্রতিফলন? উত্তর খুঁজছে রাজনৈতিক মহল।

ভোট মিটতেই রক্তাক্ত বেলেঘাটা, ডেকে নিয়ে খুন তৃণমূল কর্মী

বাংলা হান্টডেক্স: ভোট গণনার উত্তেজনা তখনও পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। তারই মাঝে মঙ্গলবার গভীর রাতে হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে উঠল বেলেঘাটা। বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করা হল বলে অভিযোগ উঠল বিশ্বজিৎ পট্টনায়ক (৪৫) নামে এক তৃণমূল কর্মীকে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় শেফ বিশ্বজিৎবাবু ভোট গণনার দিন এজেন্টের দায়িত্বও সামলাচ্ছিলেন। মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে তাঁর মোবাইলে বারবার অজ্ঞাতপরিচয় নম্বর থেকে ফোন আসতে থাকে। অভিযোগ, তাঁকে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ তিনি বাড়ি থেকে বেরোন। পরিবারের দাবি, এরপরই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ প্রায় ২০-২৫ জন দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়। বাড়ির প্রধান লোহার গেট হিঁচড়ে উপড়ে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ।

এর কিছু ক্ষণের মধ্যেই, রাত প্রায় ১১টা নাগাদ বাড়ি থেকে মাত্র ২০ মিটার দূরে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বিশ্বজিৎবাবুকে। তড়িঘড়ি তাঁকে Nil Ratan Sircar Medical College and Hospital-এ নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

বুধবার তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা। পুলিশ সূত্রে খবর, এটি নিছক দুর্ঘটনা, না কি পরিকল্পিত খুন—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে মৃতের মোবাইলের কল লিস্ট ও ঘটনার সময়কার গতিবিধি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ বাহিনী। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতির জেরেই এই হামলা। যদিও পুলিশ এখনও কোনও সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দিচ্ছে না।

রাতের অন্ধকারে ঘটে যাওয়া এই মৃত্যু—দুর্ঘটনা, না কি রাজনৈতিক প্রতিশোধ—তার উত্তর খুঁজছে বেলেঘাটা।

ভাইরাল ভিডিয়োয় তোলপাড়, ভোটের মুখে হুমায়ুনকে ছেড়ে জোট ভাঙল AIMIM

বাংলাহান্ট ডেক্স: ভোটের আগেই বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হুমায়ুন কবীরের শিবিরে। বিতর্কিত একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই জোটসঙ্গী এআইএমআইএম (AIMIM) সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিল। শুক্রবার এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করে আসাউদ্দিন ওয়াইসির দল জানিয়ে দিল, হুমায়ুন কবীরের আমজনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে আর কোনও সম্পর্ক রাখছে না তারা। আসন্ন নির্বাচনে একাই লড়ার বার্তাও দিয়েছে মিম।

ঘটনাপ্রবাহে নাটকীয় মোড় আসে ইসলামপুরে নির্ধারিত যৌথ জনসভার ঠিক আগেই। হুমায়ুন কবীর ও আসাউদ্দিন ওয়াইসির এক মঞ্চে আসার কথা থাকলেও, তার আগেই জোট ভাঙার ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিয়োটিকেই মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

গতকাল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে প্রকাশ্যে আনা হয় হুমায়ুন কবীরের একটি কথোপকথনের ভিডিয়ো। সেখানে শোনা যায়, ১০০০ কোটি টাকার একটি ডিল নিয়ে আলোচনা করছেন তিনি। এমনকি সংখ্যালঘু ভোটারদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করতেও শোনা গিয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

এই ইস্যুতেই তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ধর্মকে হাতিয়ার করে রাজনীতি করা হচ্ছে এবং তা নৈতিকতার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে।

এরই মাঝে এআইএমআইএম-এর বিবৃতিতে স্পষ্ট বার্তা—এ ধরনের বিতর্কে তারা নিজেদের জড়াতে চায় না। দলের দাবি, সংখ্যালঘুদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, এমন কোনও রাজনৈতিক সমীকরণের অংশ হতে রাজি নয় তারা। সেই কারণেই অবিলম্বে জোট ভাঙার সিদ্ধান্ত।

একই সঙ্গে মিমের তরফে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘুদের জন্য একটি স্বাধীন রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই এবার একাই নির্বাচনী লড়াইয়ে নামবে দল।

ভোটের আগে এই জোটভাঙা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

বাবরি মসজিদ নিয়ে মুসলমানদের বোকা বানাচ্ছে হুমায়ুন, বিজেপির সঙ্গে ১০০০ কোটি টাকার ডিল

বাংলাহান্ট ডেক্সঃ হুমায়ুন কবীরের ভিডিও ‘ফাঁস’ করল তৃণমূল। হুমায়ুন ১০০০ কোটি টাকার ডিল করেন, যার মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা অ্যাডভান্স দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেই নিয়ে ইডি-র তদন্ত দাবি করল তৃণমূল।

তৃণমূলের তরফে যে ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে কোনও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গিয়েছে হুমায়ুনকে। সামনের জনের চেহারা দেখা যাচ্ছে না। শুধু হুমায়ুনকে দেখা যাচ্ছে। তবে দু’জনের কথোপকথন স্পষ্ট। (West Bengal Assembly Elections 2026) বাংলাহান্ট.ইন ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি। ভিডিওটি ইউটিউবেও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর এবং বিজেপি নেতৃত্বের কথোপকথন হচ্ছে। বাংলায় মমতা ব্যানার্জির সরকারকে উৎখাত করতে কীভাবে টাকা ছড়িয়ে ভোট ভাগাভাগি করা হবে, কীভাবে মুসলিম ভোটারদের বোকা বানাতে হবে, কীভাবে বিজেপিকে সমর্থন করবেন হুমায়ুন তা সামনে এসেছে। ভিডিওতে হুমায়ুনকে দাবি করতে শোনা গিয়েছে, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে তাঁর। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরও কথা বলেছে তাঁর সঙ্গে। যে কোনও মূল্যে মমতাকে হারাতে ১০০০ কোটি টাকা লাগবে বলেও দাবি করেছেন হুমায়ুন।

কথোপকথনের শুরুতে হুমায়ুনকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “আমি বাবরি মসজিদের যে ইস্যুটা তুলে ধরেছি তা হবে কি না হবে সেটা পরের কথা। গোটা দেশের মুসলিম আমার সঙ্গে আছে।”

তাঁর সঙ্গে থাকা বিজেপি নেতা প্রশ্ন করেন, “মুর্শিদাবাদের মানুষের সমর্থন পাচ্ছেন না পুরো রাজ্যের?”

হুমায়ুন বলেন, “গোটা রাজ্যের সমর্থন রয়েছে।” মসজিদ নিয়ে কথোপকথনের পরেই এক ব্যক্তি তাঁকে বলেন, “যদি তৃণমূলকে রাজ্যে ক্ষমতা থেকে সরাতে হয় তাহলে আপনাকে দু’টি কাজ করতে হবে। এক, হিন্দু ভোট বিজেপির কাছে যেতে হবে।” ওই ব্যক্তির কথা থামিয়ে হুমায়ুন বলেন, “ওটা তো হয়েই যাবে। আমি যতটা পারব মুসলিম ভোট টানব। তাহলে হিন্দু ভোট বিজেপির কাছে চলে যাবে। হিন্দুরা যাঁরা মমতা ব্যানার্জির উপর ভরসা করেন তাঁরা জানেন যে ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ মুসলিম মমতাকে সমর্থন করবেন। হিন্দুরা জানে যদি মুসলিম ভোট সরে যায় তাহলে মমতা ক্ষমতায় আসবে না। তাহলেই তারা বিজেপিকে ভোট দেবে। আমার একটাই কথা। আমার দলকে ভোট দাও। মুখ্যমন্ত্রী যেই হোক না কেন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আমার হাতে থাকবে। যিনি মুখ্যমন্ত্রী হবেন তাঁকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে আমার। ২৯৪টার মধ্যে ৮০-৯০টা আসন আমার কাছে থাকলেই সেই ক্ষমতা থাকবে। বিজেপি থেকে কেউ মুখ্যমন্ত্রী হলেও আমার সমস্যা নেই। পুরো সমর্থন থাকবে। মমতাকে কোনও ভাবেই ক্ষমতায় আসতে দেব না।” বিজেপি এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টি কীভাবে একে অপরের জন্য খেলবে সেই প্ল্যানও করেছেন হুমায়ুন।  তাঁর সঙ্গে যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ফেস টাইমে কথা হয় সেটাও জানিয়েছেন। হুমায়ুনকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “আমি যতটা তৃণমূলের বিরুদ্ধে কথা বলব, ততটা বিজেপির বিরুদ্ধেও বলব। নইলে ভোট পাব না। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি আমায় বলেছেন ২২ তারিখের পরে দিল্লির নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেবেন। বাংলার নির্বাচনী প্রধানের সঙ্গেও কথা বলিয়ে দেবেন।”  হুমায়ুনের কথায় উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের নাম। হুমায়ুন বলেছেন, “মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সঙ্গে কথা হয়েছে। পিএমও-র সঙ্গে কথা হয়েছে। সেখান থেকে বলা হয়েছে আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে।” হুমায়ুন ইঙ্গিত করেছেন, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গেও কথা হয়েছে তাঁর।

বিজেপি নেতার সঙ্গে কথোপকথনে হুমায়ুন বলছেন, “শুভেন্দুর সঙ্গে যতবার কথা হয়েছে ততবার বলেছি ১৪৮টা আসন বিজেপি পাবে না। ১০০ থেকে ১২০টি পেতে পারে সর্বোচ্চ। মোহন যাদব আমায় কথা দিয়েছেন, ৭০-৮০টি আসন পেলেই আমায় উপমুখ্যমন্ত্রী বানিয়ে দেবেন।” মুসলিম ভোটারদের বোকা বানিয়ে মুসলিম ভোট একত্রিত করা খুব সহজ বলে দাবি করেছেন হুমায়ুন। তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, “মুসলিমদের বোকা বানানো খুব সহজ। মুসলিম ভোটারদের বোকা বানাতে, মুসলিম ভোট একত্রিত করতে অনেক টাকা চাই। প্রতিটি আসনে ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা লাগবে। তৃণমূল বেশি টাকা দেয় না। ১০০০ কোটি টাকা পেলে কাজ হয়ে যাবে সব। ৩০০ কোট্ সরিয়ে রাখব। পুরো টাকা একসঙ্গে চাই না। ভাগে ভাগে দিলেও হবে। বিহারের মতো প্রতিটি পরিবারকে ১০ হাজার করে দিলেই তো পুরো ভোট কিনে নেওয়া যাবে। এভাবেই মানুষকে বোকা বানানো যাবে বলে আত্মবিশ্বাসী হুমায়ুন। এমনকি লিখিত কাগজে সই করতেও রাজি হুমায়ুন। ৭০-৮০টা আসন পেলে মমতা ১০০টার বেশি পাবে না। মানুষকে বোঝাবো যে তিন বার ক্ষমতায় থাকার পরেও কোনও উন্নয়ন হয়নি মুসলিমদের। সব মুসলিম আমায় ভরসা করে।

বিজেপিকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে কথোপকথনে। হুমায়ুনকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “যদি আপনাদের সমর্থন করতে কোনও অসুবিধা হত তাহলে তো এই আলোচনাই হত না। আমি কোনও দিন টাকা নিয়ে কোনও ঝামেলায় পড়িনি। কোনও দুর্নীতি করিনি।” ভিডিওতে হুমায়ুন বারবার দাবি করেছেন, যেই পরিস্থিতি যদি এমন হয় যে তৃণমূল বা বিজেপি কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল না, তিনিই কিংমেকার। সেক্ষেত্রেও তিনি  যে বিজেপিকেই সমর্থন করবেন সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এই ভিডিও সামনে এনে দিয়েছে রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ।

ভোটের আগে তৃণমূলের ‘স্পেশাল ৪০’, আগামী সপ্তাহ থেকেই জেলায় জেলায় প্রচার শুরু

কলকাতা: আসন্ন নির্বাচনকে পাখির চোখ করে সর্বাত্মক প্রচারে নামছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সাথে সাথেই কোমর বেঁধে ময়দানে নামার পরিকল্পনা নিয়েছে জোড়া-ফুল শিবির। সূত্রের খবর, একদিকে শীর্ষ নেতৃত্বের সভা ও মিছিল, অন্যদিকে প্রতিটি বিধানসভা ভিত্তিক বিশেষ কৌশল ও নিবিড় জনসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে চাইছে শাসকদল।

▪️মুখপাত্রদের ‘স্পেশাল ৪০’ ও আইটি সেল:
বিজেপির ‘মিথ্যা প্রচার’ রুখতে রাজ্য স্তরে ৪০ জন দক্ষ মুখপাত্রের একটি বিশেষ দল গঠন করেছে তৃণমূল। এই দলে সাংসদ, মন্ত্রী থেকে শুরু করে ছাত্র-যুব নেতা এবং আইটি সেলের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। জেলা ভিত্তিক আলাদা মুখপাত্রও থাকবেন। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর দাবি, বিজেপির ‘ভাড়টে সৈন্য’ ও ফেক নিউজের মোকাবিলা করতে তৃণমূলের ডেটা আর্কাইভ টিম সঠিক তথ্য ও যুক্তি নিয়ে সমাজমাধ্যমেও সক্রিয় থাকবে।

🔹প্রচারের মূল ৪ ইস্যু:
দলের পক্ষ থেকে মূলত চারটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে প্রচার চালানো হবে:
🔴 ভোটাধিকার রক্ষা: বিজেপির ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি লড়াই।
🔴কেন্দ্রীয় বঞ্চনা: ১০০ দিনের কাজ ও আবাস যোজনার টাকা আটকে রাখার প্রতিবাদ এবং রাজ্যের পক্ষ থেকে সেই অর্থ প্রদান।
🔴 জনকল্যাণ: প্রতিটি পরিবারে রাজ্য সরকারের প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছানো।
🔴বিজেপির বিরোধিতা: কেন্দ্রের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া।

🔹🔹তৃণমূল সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহ থেকেই জেলায় জেলায় এই জোরদার প্রচার শুরু হবে। উন্নয়নের খতিয়ান ও কেন্দ্রের বঞ্চনার ইস্যুকে হাতিয়ার করেই মানুষের দুয়ারে পৌঁছাবে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল।

দেশকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন, তবু ভোটার তালিকায় ‘বিচারাধীন’ রিচা ঘোষ! নড়েচড়ে বসল কমিশন

কলকাতা/শিলিগুড়ি: চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় ক্রিকেটার রিচা ঘোষের নামের পাশে লেখা— ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের ঝড় ওঠে। যিনি দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন, তাঁর নাগরিকত্ব বা ভোটার-পরিচয় নিয়ে সংশয় কেন? রবিবার এক্স-এ পোস্ট করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) দপ্তর জানাল, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং প্রশাসনিক স্তরে মামলার নিষ্পত্তিতে বিলম্ব— এই দু’য়ের জেরেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

প্রায় চার মাসের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শেষে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। সেখানে কয়েক জনের নাম ‘বিচারাধীন’ বা ‘অমীমাংসিত’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় বিস্ময় ছড়ায়। রিচার ক্ষেত্রেও তাই। সিইও দপ্তরের ব্যাখ্যা, ২০০২ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ী খসড়া তালিকায় রিচার তথ্য ‘অ্যানম্যাপড’ বা অসংলগ্ন অবস্থায় ছিল। ত্রুটি সংশোধনের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে শুনানিতে হাজিরা ও প্রয়োজনীয় নথি জমা পড়ে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে মামলা নিষ্পত্তি হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের জটিলতায় নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার অধীনে চলে যায়— রিচার ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটেছে।

এই বিলম্ব কেন, তা জানতে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আধিকারিকদের— ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও)— তলব করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

শিলিগুড়ির ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রিচা ও তাঁর পরিবার। খেলাধুলোর সূত্রে দেশ-বিদেশে যাতায়াত থাকলেও অন্য সময়ে তিনি সেখানেই থাকেন। তবু তাঁর ভোটার-পরিচয় ‘বিচারাধীন’— এই বৈপরীত্যেই জোরালো হয়েছে বিতর্ক। শোনা যাচ্ছে, রিচার দিদি সোমশ্রী ঘোষের নামের পাশেও একই মন্তব্য রয়েছে। তবে সিইও দপ্তরের ব্যাখ্যার পর প্রশাসনিক মহলের আশা, অচিরেই মিটবে জট।

ভোটার তালিকা নিয়ে সাম্প্রতিক কালে নানা অভিযোগ-আপত্তির প্রেক্ষিতে এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে তথ্য হালনাগাদের প্রক্রিয়া ও নজরদারি নিয়ে। কমিশনের তরফে দায় নির্ধারণ ও দ্রুত সমাধানের আশ্বাস— আপাতত সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে ক্রীড়াপ্রেমীদের।