আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই

তেহরান/ওয়াশিংটন/জেরুজালেম: দীর্ঘ উত্তেজনার পর শনিবার ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানে ভয়ংকর মিসাইল হামলা। দাবি, আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানে নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই (Ali Khamenei)। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu জানিয়েছেন, ‘অপারেশন লায়ান্স রোর’-এর লক্ষ্য ছিল খামেনেইয়ের নিরাপত্তা বলয়ের কেন্দ্রবিন্দু। হামলায় সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে তেহরানের সেই সুরক্ষিত কম্পাউন্ড।

সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, শনিবার সকালে ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা ছিল খামেনেইয়ের। গোয়েন্দা সূত্রে সেই তথ্য পেয়ে সময় নষ্ট করেনি ইজরায়েল। আশঙ্কা ছিল, বৈঠকের পরেই তিনি নিরাপদ বাঙ্কারে চলে যেতে পারেন। সেই কারণেই দ্রুত প্রথম স্ট্রাইক। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছে, বিস্ফোরণে গুঁড়িয়ে গিয়েছে পুরো এলাকা।

কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই নিহত। পরে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট Donald Trump সমাজমাধ্যমে লেখেন, “ইতিহাসের অন্যতম কুখ্যাত ব্যক্তির অবসান হল।” ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থাও পরে মৃত্যুর খবর স্বীকার করে নেয় বলে দাবি।

শুধু খামেনেই নন, হামলায় নিহত হয়েছেন তাঁর মেয়ে, জামাই ও নাতনি—এমনই খবর ইরান-ঘনিষ্ঠ সূত্রের। পাশাপাশি ইরানের সেনাপ্রধান আব্দুল রহিম মৌসাভি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদার মৃত্যুর কথাও শোনা যাচ্ছে। ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) শোকবার্তায় বলেছে, “আমরা এক মহান নেতাকে হারালাম।”

ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “এই অপরাধের জবাব দেওয়া হবে। ইসলামিক বিশ্বের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় শুরু হবে।” ইতিমধ্যেই তেহরানে পাল্টা সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলেছে। ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে ইরান সরকার।

বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কোথাও উল্লাস, কোথাও শোক। শ্রীনগরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের খবর মিলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আবহ ঘনিয়েছে। কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা, এই ঘটনা পশ্চিম এশিয়ায় বৃহত্তর সংঘাতের সূচনা করতে পারে।

পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। রাষ্ট্রসংঘ এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে বিশ্বশক্তিগুলির কূটনৈতিক তৎপরতা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

বাঙ্কার বাস্টার–টমাহকের আঘাতে কাঁপল ইরান, হামলার ফুটেজ প্রকাশ ইজরায়েলের

দীর্ঘ কূটনৈতিক টানাপোড়েন, লাগাতার হুঁশিয়ারি আর যুদ্ধের আবহের পর অবশেষে শনিবার ভোরে বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল ইরানের আকাশ। সরাসরি ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালাল আমেরিকা ও ইজরায়েল। ক্ষেপণাস্ত্রের পর ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ল একাধিক স্থাপনায়। বহু সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হামলার প্রথম ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে Israel Defense Forces (আইডিএফ)। যদিও সেই ভিডিওর স্বতন্ত্র যাচাই এখনও সম্ভব হয়নি। তবু ফুটেজে দেখা গিয়েছে—একটির পর একটি বিস্ফোরণে ধসে পড়ছে বহুতল ইমারত, কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যাচ্ছে চারপাশ, আতঙ্কে রাস্তায় ছুটছেন সাধারণ মানুষ।

সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দপ্তর ছিল টার্গেট?

হামলার পর আইডিএফের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei এবং প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian-এর দপ্তর লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। যদিও তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, গত ১২ ঘণ্টায় ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় আছড়ে পড়েছে আমেরিকার দূরপাল্লার ‘টমাহক’ ক্ষেপণাস্ত্র। সমুদ্রপথে অবস্থান নেওয়া মার্কিন রণতরী থেকেই নিক্ষেপ করা হয় সেগুলি। অত্যন্ত কম উচ্চতায়—মাটি থেকে মাত্র ৩০-৩৫ মিটার উপরে—উড়ে গিয়ে রাডার এড়িয়ে লক্ষ্যভেদ করে এই ক্ষেপণাস্ত্র। প্রায় ৮০০ কিলোমিটার গতিতে ধেয়ে যাওয়া, ১৬০০ কেজি ওজনের এই অস্ত্র নিখুঁত আঘাতে বিধ্বস্ত করেছে একাধিক স্থাপনা।

২০০ যুদ্ধবিমান, ৫০০ লক্ষ্যবস্তু

শুধু ক্ষেপণাস্ত্র নয়, আকাশপথেও ছিল জোরদার হামলা। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ইজরায়েলের প্রায় ২০০ যুদ্ধবিমান একযোগে আক্রমণ চালায় ইরানে। অন্তত ৫০০টি জায়গা ছিল তাদের লক্ষ্যবস্তু। সামরিক ঘাঁটি থেকে প্রশাসনিক ভবন—কোথাও রেহাই মেলেনি।

প্রাথমিক হিসেব বলছে, এই হামলায় প্রায় ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।

ব্যবহৃত হয়েছে ‘বাঙ্কার বাস্টার’?

খবর মিলছে, ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে জিবিইউ-২৮ ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমাও। ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার ধ্বংসে বিশেষভাবে তৈরি এই শক্তিশালী বোমা প্রায় ২০০ ফুট গভীরে লুকিয়ে থাকা লক্ষ্যবস্তুকেও নিশ্চিহ্ন করতে সক্ষম। প্রায় ১৩,৬০৭ কেজি ওজনের এই বোমা ইস্পাতের মোড়কে আবদ্ধ এবং প্রায় ২৪০০ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বোমা সাধারণত স্টেলথ বোমারু বিমান দ্বারা বহন করা হয়, যা রাডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। যদি সত্যিই এই অস্ত্র ব্যবহার হয়ে থাকে, তা হলে হামলার লক্ষ্য ছিল গভীর সুরক্ষিত সামরিক বা কৌশলগত স্থাপনা।

উত্তেজনার নতুন অধ্যায়

এই হামলার জেরে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা চরমে। আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। কূটনৈতিক মহলের একাংশের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত সংঘর্ষের দিকে গড়াতে পারে।

প্রশ্ন উঠছে—এ কি কেবল শক্তিপ্রদর্শন, না কি বৃহত্তর যুদ্ধের সূচনা? বিশ্বরাজনীতির অগ্নিগর্ভ এই মুহূর্তে তার উত্তর এখনও সময়ের গর্ভে।

“We Cannot Let a Terror State Go Nuclear”: Donald Trump Confirms U.S. Strike on Iran

Washington: In a dramatic and defiant address to the nation, U.S. President Donald Trump publicly acknowledged America’s role in a major military operation inside Iran, declaring that the United States “cannot allow a terror state to possess nuclear weapons.”

Speaking shortly after the strikes began, Trump described Iran’s ruling establishment as a “dangerous regime run by very bad people,” and asserted that the objective of the operation was to neutralise threats emanating from Tehran. “A short while ago, U.S. forces launched a large-scale military operation in Iran,” he said. “Our goal is to eliminate the threat posed by this evil regime and to protect American citizens.”

Nuclear Warning and Failed Diplomacy

Referring to last year’s U.S. airstrikes on three Iranian nuclear facilities, the President said Washington had issued stern warnings to Tehran following those operations. According to Trump, Iran had been clearly told not to continue its pursuit of nuclear weapons capability.

“We tried repeatedly to reach an agreement,” he said. “But they refused. We cannot tolerate this any longer.”

Trump accused Iran of using its nuclear programme and long-range missile development to intimidate U.S. allies in Europe, warning that America itself could soon face direct threats. Calling the matter one of “national security,” he vowed decisive action. “We will reduce their missile capabilities to dust,” he declared, adding that Iran-backed militant groups would not be allowed to destabilise West Asia.

‘Number One Sponsor of Terror’

The President reiterated long-standing American allegations that Iran is the world’s “number one state sponsor of terrorism.” He cited Tehran’s alleged support for groups such as Hamas and Hezbollah, accusing them of spreading violence across the region.

Trump also invoked historical flashpoints in U.S.–Iran tensions. He referenced the 1979 hostage crisis at the U.S. Embassy in Tehran, during which 444 days of captivity for American diplomats deeply scarred bilateral relations. He further recalled the 1983 bombing of the U.S. Marine barracks in Beirut, in which 242 American servicemen were killed — an attack Washington has long linked to Iran-backed elements.

“For 47 years, the Iranian regime has chanted ‘Death to America,’” Trump said. “They have shed blood, carried out mass killings, and attacked American soldiers and civilians.”

Gaza, Israel and Broader Regional Tensions

Expanding the scope of his remarks, Trump linked Iran’s alleged regional influence to the ongoing conflict in Gaza. He accused Iran-backed Hamas of launching repeated attacks on Israel, claiming that over a thousand people had been killed in recent violence, including dozens of Americans.

The President also pointed to threats against American shipping interests and overseas bases, suggesting that Iran’s actions endangered not only the United States but its allies as well.

A Defining Moment

Framing the strikes as a necessary and principled stand, Trump insisted that the United States had always remained firm in its strategic commitments. “We will ensure that they never obtain a nuclear weapon,” he said.

The development marks a sharp escalation in already fraught U.S.–Iran relations and is likely to reverberate across global diplomatic and security circles. As tensions mount, the international community watches closely, aware that the consequences of this confrontation could extend far beyond the region.

Bangladesh–Pakistan Defence Ties Deepen: Air Force Chief Meets Field Marshal Asim Munir in Rawalpindi

Dhaka: Dhaka and Islamabad appear to be moving closer on the defence front. In a significant development, Bangladesh Air Force Chief Air Chief Marshal Hasan Mahmud Khan on Thursday met Pakistan’s Chief of Defence Forces and Field Marshal Asim Munir. The meeting took place at the Pakistan Army Headquarters in Rawalpindi during Mahmud’s official visit to Pakistan.

According to a statement issued by the Pakistan Army, the two sides discussed issues of mutual interest, regional security concerns and avenues for strengthening bilateral defence cooperation. Both leaders underlined the importance of enhancing professional collaboration, training exchanges and sustained military engagement between the two countries.

Mahmud acknowledged Pakistan Army’s role in regional peacekeeping efforts, while Field Marshal Munir reaffirmed Islamabad’s commitment to maintaining and further deepening defence ties with Bangladesh.

The meeting comes close on the heels of Mahmud’s interaction with Pakistan Air Force Chief, where discussions reportedly included the possible acquisition of China-made JF-17 fighter aircraft. These engagements signal a growing defence dialogue between Dhaka and Islamabad.

On the same day, the Bangladesh Air Chief also held a separate meeting with Pakistan Navy Chief Admiral Naveed Ashraf. Their discussions focused on bilateral defence cooperation and regional maritime security. Admiral Ashraf assured that the Pakistan Navy remains committed to ensuring peace and stability along vital sea routes. Both sides reiterated their intent to strengthen military-to-military relations.

Meanwhile, diplomatic engagements between the two countries have also picked up pace. On Wednesday night, Bangladesh’s Foreign Affairs Adviser Touhid Hossain spoke over the phone with Pakistan’s Deputy Prime Minister and Foreign Minister Ishaq Dar. The conversation covered bilateral issues as well as recent regional developments, according to a post by Pakistan’s Foreign Office on social media.

In another sign of improving ties, direct air connectivity between Dhaka and Karachi is set to resume. The first flight on the route is scheduled for January 29. Bangladesh’s national carrier, Biman Bangladesh Airlines, has received clearance from Islamabad to operate the service on a trial basis.

J-10C-এর পর SY-400 ক্ষেপণাস্ত্র: সেনা আধুনিকীকরণে চিনের থেকে একের পর এক অস্ত্র কিনছে বাংলাদেশ

বাংলাহান্ট ডেক্স: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ কর্মসূচিকে সামনে রেখে চিনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করল ঢাকা। J-10C যুদ্ধবিমান কেনার পর এবার চিনের তৈরি SY-400 স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে সেনাবাহিনীকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনীতে রূপান্তর করাই সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।

এই লক্ষ্য পূরণের অংশ হিসেবেই চিন থেকে আধুনিক অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর কিছুদিন আগেই বেইজিংয়ের সঙ্গে J-10C যুদ্ধবিমান সংক্রান্ত চুক্তিতে সই করেছিল বাংলাদেশ সরকার।

SY-400 ব্যালিস্টিক মিসাইল: কী এই অস্ত্র

দ্য উইক ম্যাগাজিনের তথ্য অনুযায়ী, SY-400 ক্ষেপণাস্ত্র চিনে DF-12A নামেও পরিচিত। ২০০৮ সালে ঝুহাই এয়ারশোতে প্রথমবার এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রকাশ্যে প্রদর্শিত হয়। ইতিমধ্যেই মিয়ানমার ও কাতারের মতো একাধিক দেশের কাছে এই ক্ষেপণাস্ত্র রপ্তানি করেছে চিন। সর্বশেষ সেই তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ।

SY-400 একটি স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যার পাল্লা আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ কিলোমিটার। এটি ২০০ থেকে ৩০০ কিলোগ্রাম ওজনের ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। প্রায় ৬ মিটার লম্বা এই ক্ষেপণাস্ত্র ম্যাক ৫ গতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। উন্নত গাইডেন্স সিস্টেম ও শেষ মুহূর্তে সক্রিয় রাডার ব্যবস্থার কারণে একে অত্যন্ত নির্ভুল অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্রকে অনেক বিশেষজ্ঞ ‘স্টিলথ মিসাইল’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ কেন চিন থেকে অস্ত্র কিনছে

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিদেশ থেকে যে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করছে, তার প্রায় ৭০ শতাংশই চিনা উৎসের। ফলে প্রশ্ন উঠছে—কেন চিনের ওপর এতটা নির্ভরতা?

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নতুন কৌশলগত ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা করছে। সেই প্রেক্ষিতেই চিনের সঙ্গে একাধিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তুলনামূলকভাবে কম খরচ, দ্রুত সরবরাহ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার কারণেই চিন বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অংশীদার হয়ে উঠেছে।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর তথ্য অনুযায়ী, চিন ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের মতো দেশগুলির প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী। গত পাঁচ বছরে পাকিস্তান তার মোট অস্ত্র আমদানির প্রায় ৮০ শতাংশই চিন থেকে করেছে।

বাংলাদেশ সরকার অবশ্য বারবার জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা নীতি আত্মরক্ষামূলক এবং কোনো দেশকে লক্ষ্য করে নয়। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রেখেই সেনা আধুনিকীকরণই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

Former Pakistani Prime Minister Imran Khan Nominated for the Nobel Peace Prize

Banglahunt Desk: Former Pakistani Prime Minister Imran Khan has been nominated for the Nobel Peace Prize in recognition of his contributions to the establishment of human rights and democracy in the country.

In December last year, an advocacy group called the “Pakistan World Alliance” (PWA) was established. This group is associated with the Norwegian political party Partiet Sentrum. Members of the PWA announced Imran Khan’s nomination through a social media post.

On Sunday, Partiet Sentrum stated in a social media post, “Imran Khan has been nominated for the Nobel Peace Prize in recognition of his contributions to human rights and democracy in Pakistan.”

Every year, hundreds of nominations are submitted to the Norwegian Nobel Committee. After an eight-month-long selection process, the committee members choose the recipient. In 2019, Imran Khan, the chairman of Pakistan Tehreek-e-Insaf (PTI), was also nominated for his significant efforts in establishing peace in South Asia.

In April 2022, Imran Khan lost his position as the Prime Minister of Pakistan. He has been in prison since August 2023. In January this year, a Pakistani court sentenced him to 14 years in prison on charges of abuse of power and corruption. Additionally, he has been convicted in three other cases. However, the “Kaptaan” (Captain) has rejected all allegations against him.

ইটালিতে জি৭ বৈঠকে জেলেনস্কি-মোদী বৈঠক, যুদ্ধ বন্ধের জন্য কী বললেন?

ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের আবহে জি৭ সম্মেলনে যোগ দিতে ইটালি গিয়ে শুক্রবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির সঙ্গে পার্শ্ববৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

বিদেশ মন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে, সংঘাতে ইতি টানতে ভারতের তরফে প্রয়োজনীয় প্রয়াস নেওয়া হবে বলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন মোদী। প্রসঙ্গত, এর আগে গত বছর জাপানে জি৭ বৈঠকে গিয়েও জ়েলেনস্কির সঙ্গে পার্শ্ববৈঠক করেছিলেন মোদী। বলেছিলেন, “আমি মনে করি না, এটি (রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ) কোনও রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক বিষয়। আমার কাছে এটি মানবিকতার বিষয়। মানবিক মূল্যবোধের ব্যাপার।”

আরো পড়ুন- রাজ্যের ৪ বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রার্থীর নাম ঘোষনা তৃণমূলের

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে পুতিনবাহিনীর হামলা শুরু ইস্তক রাষ্ট্রপুঞ্জ-সহ কোনও আন্তর্জাতিক মঞ্চে মস্কোর বিপক্ষে অবস্থান নেয়নি নয়াদিল্লি। যদিও একাধিক বার প্রকাশ্যে যুদ্ধ বন্ধের জন্য সওয়াল করেছেন মোদী। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে উজবেকিস্তানে শাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর বৈঠকের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে প্রথম বার মুখোমুখি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই বৈঠকেই মোদী পুতিনকে বলেছিলেন, ‘‘এটা যুদ্ধের সময় নয়।’’

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করতে গিয়ে পুতিন যে কারণগুলির উল্লেখ করেছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম ছিল জ়েলেনস্কি সরকারের তরফে নেটোর সদস্যপদ লাভের চেষ্টা। যদিও এর আগেই ইউক্রেন বার্তা দিয়েছে, তারা সেই প্রচেষ্টা থেকে সরে আসতে রাজি। তবে এ ক্ষেত্রে আমেরিকা-সহ পশ্চিমী দুনিয়ার থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস পেতে চায় জ়েলেনস্কি সরকার। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার জি৭ বৈঠকে ইউক্রেনকে ৫,০০০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার জন্য আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। পাশাপাশি, আমেরিকার সঙ্গে ১০ বছরের নিরাপত্তা চুক্তি সই করেছেন জ়েলেনস্কি।

পরপর বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল পাকিস্তান, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নৌবিমান ঘাঁটিতে হামলা

বাংলাহান্ট ডেস্কঃ হোলির দিন সকালে রক্তাক্ত হল পাকিস্তান। পরপর বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম নৌবিমানঘাঁটি টুর্ব্যাট। মঙ্গলবার ভোরে অতর্কিত হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অসংখ্য পাক সেনা। লাগাতার বিস্ফোরণে বিমানঘাঁটিতে অন্তত ৪টি অ্যাটাক হেলিকপ্টার ও ৩টি ড্রোন ধ্বংস হয়ে গেছে বলে খবর।

জঙ্গি হামলায় পরপরই হামলাকারীদের সঙ্গে পাক সেনার গুলির লড়াই শুরু হয়। হামলার দায় স্বীকার করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি’ (BLA)। এই নিয়ে চলতি সপ্তাহে দু-বার এবং চলতি বছরে তিনবার হামলা চালাল বিএলএ!

আরো পড়ুন- কেজরিওয়ালের গ্রেফতারের প্রতিবাদে, মোদীর বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচি আপের, সরগরম দিল্লি

পাক সেনা সূত্রে খবর, এদিন ভোররাতে টুর্ব্যাট নৌ-বিমাঘাঁটিতে হামলা চালায় বিএলএ বিদ্রোহীরা। তারা বিমানঘাঁটিতে ঢোকার চেষ্টা করতেই বাধা দেয় নিরাপত্তারক্ষীরা। শুরু হয়ে যায় গুলির লড়াই। বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুঁড়তে থাকে হামলাকারীরা। তাতেই আগুন ধরে যায় বিমানঘাঁটিতে দাঁড়িয়ে থাকা হেলিকপ্টারগুলিতে। গোলাগুলিতে বালোচ বিদ্রোহীদের চার জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। অন্তত ১২ জন পাক সেনার মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে। হামলাকারীদের কাছ থেকে হ্যান্ড গ্রেনেড-সহ অনেক স্বয়ংক্রিয় আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলে খবর।

প্রসঙ্গত, গত বুধবারই বালোচ হামলার কবলে পড়েছিল পাকিস্তান। আরব সাগরের তীরে এই গোদার বন্দরটি চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের (Belt and Road) অন্তর্ভুক্ত। বন্দরের উন্নয়নেও বিপুল বিনিয়োগ করেছে শি জিনপিংয়ের প্রশাসন। বালোচিস্তানে প্রবল অশান্তি, জঙ্গি হামলা সত্ত্বেও এই বন্দরের উন্নয়ন হয়েছে বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের মাধ্যমে। সেই হামলায় আটজন বালোচ বিদ্রোহী এবং দুই পাক সেনার মৃত্যু হয়। মাত্র ছদিনের মাথায় ফের হামলা চালাল বিএলএ।

নাইট ক্লাবে ঢুকতে বাধা, আমেরিকায় ঠান্ডায় জমে মৃত্যু ভারতীয় বংশোদ্ভূত ছাত্রের

নাইট ক্লাবে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তার পরে প্রবল ঠান্ডার কবলে পড়ে মৃত্যু হয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত ছাত্রের। মৃত্যুর একমাস পরে প্রকাশ্যে এল তাঁর মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত অকূল ধাওয়ান। গত ২০ জানুয়ারি বন্ধুদের সঙ্গে একটি নাইট ক্লাবে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দেননি নাইট ক্লাবের কর্তৃপক্ষ। তার পরেই নিখোঁজ হয়ে যান অকূল। দীর্ঘক্ষণ ধরে ফোন করেও অকূলের খোঁজ পাননি বন্ধুরা। বাধ্য হয়েই পুলিশের দ্বারস্থ হন তাঁরা। পরের দিন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকেই উদ্ধার হয় অকূলের মৃতদেহ।

আরো পড়ুন- রণবীর কোলেপিঠে করে মানুষ করেছেন, কাপুর খানদানের এই সুন্দরী কন্যের পরিচয় জানেন?

প্রাথমিকভাবে পুলিশের তরফে বলা হয়, স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে ওই ভারতীয় বংশোদ্ভূত পড়ুয়ার। কিন্তু মাসখানেক পরে প্রকাশ্যে আসা পুলিশি রিপোর্টে উঠে আসছে অন্য় তথ্য। মৃত্যুর কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, প্রচুর অ্যালকোহল মিলেছে অকূলের দেহে। তার পর অনেকটা সময় প্রবল ঠান্ডার মধ্যে ছিলেন তিনি। দুই কারণ মিলিয়েই মৃত্যু হয়েছে ওই পড়ুয়ার।

উল্লেখ্য, বারবার মার্কিন মুলুকে হামলার মুখে পড়ছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা। মাত্র এক মাসে চার পড়ুয়ার মৃত্যুতে প্রশ্ন উঠেছে সেদেশে। স্বভাবতই আঙুল উঠেছে প্রশাসনের দিকেও। বিতর্কের আবহেই গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন হোয়াইট হাউসের অন্যতম শীর্ষ আধিকারিক জন কিরবি। জানান, “প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তাঁর প্রশাসন কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন। সমস্ত রকম হিংসা রুখতে চেষ্টা করছি।” তার পরেই প্রকাশ্যে এল ভারতীয় বংশোদ্ভূত পড়ুয়ার মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট।

মুইজ্জুর ‘ভারত-বিরোধী’ অবস্থানে নিজের ঘরেই কোনঠাসা মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট

বাংলাহান্ট ডেস্কঃ ভারত-বিরোধী অবস্থানের জন্য নিজের ঘরেই প্রবল সমালোচনা মুখে পড়ল মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু। মলদ্বীপের ‘ভারত-বিরোধী অবস্থান’ দ্বীপরাষ্ট্রের জন্য ‘অত্যন্ত ক্ষতিকর’ বলে মুইজ্জুকে আক্রমণ করলেন সে দেশের প্রধান দুই বিরোধী দলের নেতারা।

ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়ে সম্প্রতি মুইজ্জু সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, মলদ্বীপে ঘাঁটি গাড়তে চলেছে চিনা গুপ্তচর জাহাজ। ‘শিয়াং ইয়াং হং-৩’ নামে ওই জাহাজটি ইতিমধ্যেই দক্ষিণ চিন সাগর থেকে মলাক্কা প্রণালী পেরিয়ে ইন্দোনেশিয়ার জাভা এবং সুমাত্রা দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী সুন্দা প্রণালীতে পৌঁছেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সেটি ভারত মহাসাগরে ঢুকে পড়তে পারে। ৮ ফেব্রুয়ারি ওই চিনা জাহাজ মলদ্বীপের রাজধানী মালেতে পৌঁছতে পারে।

মলদ্বীপের তরফে চিনা জাহাজের নোঙর করার কথা প্রকাশ্যে আনার পরেই মুইজ্জু সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সে দেশের বিরোধী নেতারা। জনগণের একাংশও সরকারের সমালোচনা শুরু করেছেন।

আরো পড়ুন- মমতাকে লাগাতার নিশানা! অধীরের কারনে তৃণমূল ছাড়ছে INDIA জোট

‘মালদ্বীভিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি (এমডিপি)’ এবং ‘দ্য ডেমোক্র্যাট’ দলের নেতাদের মতে, মুইজ্জুর ‘ভারত-বিরোধী অবস্থান’ দেশকে বড়সড় বিপদের মধ্যে ফেলতে পারে।

এমডিপি এবং ডেমোক্রেট দলের পক্ষে একটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘এমডিপি এবং ডেমোক্রেট, উভয় দলই বিশ্বাস করে যে উন্নয়নে সাহায্য করে এমন বন্ধুকে দূরে সরিয়ে দেওয়া এবং বিশেষ করে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুকে দূরে ঠেলে দেওয়া আমাদের দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে।’’

মলদ্বীপের বিরোধী দলগুলির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের দাবি, মলদ্বীপের বিদেশ নীতি অনুয়ায়ী, সে দেশের সরকারের উচিত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে, এমন বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে পথ চলা।

ভারত মহাসাগরে স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা মালদ্বীপের স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার জন্যও অত্যাবশ্যক বলে বিরোধী দুই দল যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে।

Maldives: ভারতীয়দের ‘বয়কট মালদ্বীপে’র ডাক! চিনের কাছে পর্যটক চেয়ে কাতর আর্জি বিপন্ন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অবমাননার জেরে নেটদুনিয়ায় ট্রেন্ডিং ‘বয়কট মালদ্বীপ’ (Maldives)। বলিউড তারকা থেকে ক্রিকেটার- সকলেই একবাক্যে বলছেন, ছুটি কাটাতে মালদ্বীপ নয়, গন্তব্য হোক ভারতের লাক্ষাদ্বীপ। একমত দেশের আমজনতাও। মালদ্বীপের টিকিট কাটা থাকলেও তা বাতিল করে দিচ্ছেন অনেকে। এমনকী মালদ্বীপে যাওয়ার কোনও বুকিং করতে রাজি নয় বলেও জানিয়েছে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি। এই পরিস্থিতিতে বেজিং সফরে গিয়ে মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জু চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সরকারের কাছে পর্যটক চেয়ে ‘দরবার’ করলেন!

পাঁচ দিনের চিন সফরের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার ফুজিয়ান প্রদেশের মলদ্বীপ বিজনেস ফোরামে বক্তৃতা করেন মুইজ্জু। সেখানে চিনা বণিকসভাগুলির প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘প্রাক অতিমারি পর্বে চিন আমাদের প্রধান বাণিজ্য সহযোগী ছিল। আমরা আবার সেই পরিস্থিতিতে ফিরতে চাই।’’ মলদ্বীপে চিনা পর্যটকদের আরও বেশি করে যাওয়ার আবেদন জানান মুইজ্জু। জানান, মলদ্বীপে বিশেষ পর্যটন অঞ্চল গড়ার জন্য চিনের সঙ্গে ৫ কোটি ডলারের (প্রায় ৪১৫ কোটি টাকা) একটি চুক্তি সই করেছেন তিনি।

আরো পড়ুন- রাশিয়াতে মৃত্যু উপত্যকা! ডিয়াটলোভ পাস রহস্য

গত সেপ্টেম্বরে মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ‘চিনপন্থী’ নেতা তথা ‘পিপল্‌স ন্যাশনাল কংগ্রেস’-এর প্রধান প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভারতের বিরুদ্ধে একের পর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। যা নিয়ে নয়াদিল্লি-মালে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। এই আবহে সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লক্ষদ্বীপে গিয়েছিলেন মোদী। সেই সফরের বেশ কিছু ছবি এবং ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। অভিযোগ, মলদ্বীপের তিন মন্ত্রী, মরিয়ম শিউনা, মালশা শরিফ এবং মাহজ়ুম মাজিদ কিছু ছবিতে মোদীকে ‘পুতুল’ এবং ‘জোকার’ বলে মন্তব্য করেন। ভারত-ইজ়রায়েল সম্পর্ক নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়। পরে অবশ্য বিতর্কের মুখে পোস্টগুলি মুছে দেওয়া হয়।

ঘটনার পরেই মলদ্বীপের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম সোলি (যাঁকে পরাজিত করে মুইজ়ু সম্প্রতি ক্ষমতায় এসেছেন) এবং আর এক প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মহম্মদ নাসিদ মোদীর সমালোচনা করা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি তোলেন। তাঁরা জানান, ভারত মলদ্বীপের গুরুত্বপূর্ণ ‘মিত্র’। সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে এমন মন্তব্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এর পরই ঘরে-বাইরে চাপের মুখে রবিবার মুইজ্জু সরকার তিন মন্ত্রীকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেয়।

কয়েকমাস আগে ‘চিনপন্থী’ মুইজু মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই ক্রমশ খারাপ হতে শুরু করেছে ভারতের সঙ্গে সেদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। এহেন পরিস্থিতিতেই চিনে লম্বা সফরে গিয়েছেন মালদ্বীপ প্রেসিডেন্ট। যদিও দীর্ঘদিন ধরে মালদ্বীপের নানা প্রকল্পে প্রচুর সাহায্য করেছে ভারত। তা সত্ত্বেও চিনের প্রতি বেশি আস্থা রাখতে চাইছে মালদ্বীপ, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

ঘটনাচক্রে, মুইজ্জু চিন সফরের গোড়াতেই সোমবার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায় বেজিং। কমিউনিস্ট পার্টি শাসিত একদলীয় চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ভারতের বিরোধিতা করার জন্য মালেকে কোনও উস্কানি দেয়নি বেজিং। লেখা হয়, ‘‘আমরা মলদ্বীপকে সমান স্তরের সহযোগী ভাবি এবং তাদের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করি।’’

Khalistani Attack: আমেরিকায় হিন্দু মন্দিরে হামলা! ‘মোদি একজন জঙ্গি’ দেওয়ালে লিখলেন খালিস্তানি সন্ত্রাসীরা

বাংলাহান্ট ডেস্কঃ আমেরিকায় হিন্দু মন্দিরে হামলা! ক্যালিফোর্নিয়ায় মন্দিরের গায়ে লিখে দেওয়া হল ‘খালিস্তান জিন্দাবাদ’ এবং ‘মোদি ইজ টেররিস্ট’ (মোদি হলেন জঙ্গি)। উল্লেখ্য, গত মাসেই আক্রান্ত হয়েছিল ক্যালিফোর্নিয়ার স্বামীনারায়ণ মন্দির এবং এবং শিব দুর্গা মন্দির। আমেরিকায় পরপর এমন হামলায় উদ্বিগ্ন সেদেশের হিন্দুরা।

৫ জানুয়ারি, শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার হেওয়ার্ডে অবস্থিত শেরাওয়ালি মন্দিরে হামলা চালিয়েছে খালিস্তানিরা (Khalistan)। মন্দিরের সামনের দেওয়ালে কালো রঙে একাধিক স্লোগান ও গ্রাফিটি এঁকে এবং লিখে দেওয়া হয়েছে। ‘খালিস্তান জিন্দাবাদ’ লেখার পাশাপাশি স্লোগান লেখা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধেও। ‘জঙ্গি’ তকমা দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

আরো পড়ুন- ডিভোর্স দিতে না চাওয়ায় নিজেদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে স্ত্রীকে ডিভোর্স দেওয়ার চাপ স্বামীর

ছবিটি সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছে আমেরিকার হিন্দু ফাউন্ডেশন। তাদের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে যে, মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই ক্যালিফোর্নিয়ার স্বামীনারায়ণ মন্দির এবং শিব দুর্গা মন্দিরে হামলা করা হয়েছিল। আবারও আক্রান্ত হল আরেকটি হিন্দু মন্দির। খালিস্তানিদের হামলা রোখার জন্য মন্দিরগুলির নিরাপত্তা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে হিন্দু সংগঠনটি।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই ভারত সরকারের বিরোধিতা করার দরুন কানাডার একাধিক হিন্দু মন্দির লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে খলিস্তানপন্থীরা। মন্দিরের গায়ে বিতর্কিত স্লোগান লেখা থেকে শুরু করে হামলা বিষয়ক একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপও নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে চিন্তা বাড়ছে কানাডার প্রতিবেশী দেশ আমেরিকার ।