পশ্চিম এশিয়ায় একাধিক দেশে হামলা ইরানের! উদ্বেগে বিশ্ব - Bangla Hunt

পশ্চিম এশিয়ায় একাধিক দেশে হামলা ইরানের! উদ্বেগে বিশ্ব

By Bangla Hunt Desk - March 01, 2026

পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে হামলা ইরানের, আরব আমিরশাহির আবুধাবি, দুবাই, কাতারের দোহা এবং সৌদি আরবেও হামলা চালিয়েছে ইরান।

এক বছরের ব্যবধানে ফের লাল মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ। তেহরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে এ বার পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইরান। প্রথম ধাক্কা সামলেই অল্প সময়ের মধ্যে ইজরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে দেয় তেহরান। শুধু তা-ই নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক শহরেও হামলার দাবি উঠেছে ইরানি বাহিনীর বিরুদ্ধে।

ইরানের সংবাদসংস্থা ‘ফারস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর দুবাই ও আবু ধাবি, কুয়েত, কাতার এবং বাহরিনে আঘাত হেনেছে ইরান। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা এএফপি-কে স্থানীয় সূত্রের দাবি, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধ এবং কাতারের দোহা থেকেও লাগাতার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে।

প্রশ্ন উঠছে, ইজরায়েল–আমেরিকার হামলার জেরে তৈরি হওয়া ক্ষোভ কেন উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের দিকে ঘুরল? কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, লক্ষ্য ছিল সরাসরি ওই দেশগুলি নয়, বরং তাদের মাটিতে থাকা মার্কিন সামরিক উপস্থিতি।

আবু ধাবিতে যেখানে হামলার দাবি, সেখানেই রয়েছে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি—আল দাফরা এয়ারবেস। ওই ঘাঁটিতে সৌদি ও মার্কিন বাহিনী যৌথ ভাবে কার্য পরিচালনা করে। একই ভাবে দোহায় যে এলাকায় আঘাতের কথা শোনা গিয়েছে, সেখানে বিস্তীর্ণ মার্কিন এয়ারবেস রয়েছে। ফলে হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে কৌশলগত বার্তা দেওয়াই ছিল তেহরানের উদ্দেশ্য—এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে অন্তত এক জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি ঘিরে কাতারের রাজধানী দোহায় ভারতীয় দূতাবাস সতর্কবার্তা জারি করেছে। সকল ভারতীয় নাগরিককে আপাতত বাড়ির মধ্যে বা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার সকালে। তেহরানে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইজরায়েল। সেই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, আমেরিকাও ওই অভিযানে অংশ নিয়েছে। পাশাপাশি ইরানকে পরমাণু প্রকল্প বন্ধ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত বছরের জুন মাসে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই তীব্র সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছিল। সেই পুরনো বিবাদের আগুন আবার জ্বলে উঠল কি না, তা নিয়েই এখন জল্পনা।

উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব পড়তে বাধ্য আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে, বিশ্ববাণিজ্যে এবং প্রবাসী ভারতীয়দের উপর। কূটনৈতিক মহলের প্রশ্ন—এ কি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক সংঘাতের পূর্বাভাস, নাকি সীমিত পাল্টা আঘাতেই থামবে দুই পক্ষ?

পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। নজর এখন তেহরান, ওয়াশিংটন ও তেল আভিভের পরবর্তী পদক্ষেপে।

সব খবর পড়তে আমাদের WhatsApp গ্রুপে যুক্ত হোনএখানে ক্লিক করুন


প্রাসঙ্গিক খবর