কাঁচরাপাড়ায় অটো রুটে দুর্নীতির অভিযোগ, কাউন্সিলরদের নামে গাড়ি নিয়ে উঠল প্রশ্ন

কাঁচরাপাড়া থেকে বাগমোর পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে চলা অটো পরিষেবা ঘিরে এবার নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয় অটো ইউনিয়নের একাংশের দাবি, এই রুটে চলা কিছু অটোর মধ্যে কাঁচরাপাড়া পৌরসভার কয়েকজন কাউন্সিলরের নামে নথিভুক্ত গাড়িও রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইউনিয়ন সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের আগে এই রুটে প্রায় ৩০টি অটো চলাচল করত। পরবর্তীতে যাত্রীসংখ্যা ও চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১১০-এ পৌঁছায়। তবে অভিযোগ, এই বৃদ্ধির মধ্যেই কিছু নতুন অটো রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে যুক্ত হয়েছে।

অটো ইউনিয়নের সদস্যদের দাবি অনুযায়ী, কাঁচরাপাড়া পৌরসভার কয়েকজন কাউন্সিলরের নামে নাকি একাধিক অটো চলাচল করছে। অভিযোগে যে নামগুলি উঠে এসেছে, সেগুলি হলো— কল্যাণ কর (WB25M1478), রিঙ্কু সিংহ রায় (WB25L9122), শীতেশ সাউ (WB25M1253), সোনালী সিংহ রায় (WB25M1450), এবং গোবিন্দ মল্লিক (WB25M0522)।

এছাড়াও অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একজন সিআইসি-র (CIC) আত্মীয়দের নামেও দুটি অটো চালানো হচ্ছে বলে স্থানীয়ভাবে চর্চা চলছে। তবে এই বিষয়ে প্রশাসনিক স্তরে এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, পুরোনো অটো চালকদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাজ করলেও অনেকেই অটো পারমিট বা গাড়ির মালিকানা পাননি। তাদের অভিযোগ, “আমরা বছরের পর বছর অন্যের গাড়ি চালাচ্ছি, অথচ প্রভাবশালীদের হাতে সহজেই একাধিক গাড়ি চলে যাচ্ছে।”

তাদের আরও দাবি, বিষয়টি যদি সত্য হয়, তাহলে এটি নিয়মের অপব্যবহার হতে পারে এবং প্রশাসনের উচিত বিষয়টি তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া।

এদিকে, অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ও স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরদের পক্ষ থেকে এখনো এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে, অটো রুটে মালিকানা বণ্টন নিয়ে ওঠা এই অভিযোগ এখন স্থানীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।

“মমতাই সর্বোচ্চ নেত্রী, চিঠি সইয়ের আগে কিছুই জানানো হয়নি”—বিস্ফোরক দাবি ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কদের

বাংলাহান্ট: বুধবার বিধানসভায় বিরোধী দলের ঘরে বসে তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, “আমরা মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমাদের প্রধান পরামর্শদাতা হিসাবে থাকবার অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি থাকুন আমাদের পরামর্শদাতা হিসাবে। তাঁর পরামর্শ পেলে আমরা গঠনমূলকভাবে বিরোধীর ভূমিকা খুব ভালো ভাবে পালন করতে পারব।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।

এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—নতুন করে কারা ফিরতে চাইছেন, আর কারা এই অবস্থানের বিরোধিতা করছেন। দলের অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে জল্পনা ও চাপানউতোর। এর মধ্যেই ঋতব্রতপন্থী বলে পরিচিত পাঁচলার বিধায়ক গুলশান মল্লিক বিস্ফোরক দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, তাঁরা যখন সংশ্লিষ্ট চিঠিতে সই করেছিলেন, তখন তাঁদের জানানো হয়নি যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘নেত্রী’ নয়, বরং ‘পরামর্শদাতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হবে।

গুলশান মল্লিক সাংবাদিকদের সামনে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নেত্রী—এটাই আমাদের বলা হয়েছিল। তখন বলা হয়নি উনি পরামর্শদাতা হবেন। সেটা জেনেই আমরা সই করেছি। পরামর্শদাতা আলাদা বিষয়। কে পরামর্শ দেবেন বা দেবেন না, সেটা অন্য ব্যাপার। দীর্ঘদিন ধরে যাঁর নেতৃত্বে আমরা রাজনীতি করেছি, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আমাদের সর্বোচ্চ নেত্রী।”

একই সুর শোনা যায় সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সঙ্গীতা বসুনিয়ার বক্তব্যেও। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, “আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন ছিলেন, তেমনই আছেন।” তবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমি দলনেতা নই, তাই এই বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব না।”

এদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আবার দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলে কোনো একক নেতা নেই। তাঁর বক্তব্য, “এটা একটি টিম। এখানে কেউ নেতা নন। দায়িত্ব ভাগ করে কাজ হয়—কেউ বিরোধী দলনেতা, কেউ মুখসচেতন, কেউ উপদলনেতা হতে পারেন, কিন্তু মূলত সবাই একটি টিম হিসেবে কাজ করেন।”

এই সমস্ত মন্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যের ফলে দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্ব কাঠামো ও চিঠির বিষয়বস্তু নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন ধোঁয়াশা। কার অবস্থান ঠিক, কার ব্যাখ্যা সঠিক—তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। তৃণমূলের অন্দরে এই বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সরকারের অনুমতি ছাড়া সংবাদমাধ্যমে মুখ খুললে চাকরিতে কোপ, নয়া নির্দেশিকা নবান্নের

রাজ্যের সরকারি কর্মীদের জন্য এবার বড়সড় কড়াকড়ি জারি করল নবান্ন। সরকারের অনুমতি ছাড়া সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলা, সরকারি নথি বা তথ্য ফাঁস করা, এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের সমালোচনা করাও কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়েছে নতুন নির্দেশিকায়। মুখ্যসচিব Manoj Agarwal-এর জারি করা এই সার্কুলার ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

নতুন সরকারের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশাসনে একের পর এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছিল। মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari আগেই কড়া প্রশাসনের বার্তা দিয়েছিলেন। এবার সরকারি কর্মীদের আচরণবিধি নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিল রাজ্য সরকার।

গত ১৯ মে জারি হওয়া নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মী সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না। প্রেস বা সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনও সরকারি নথি বা তথ্য সরাসরি বা পরোক্ষভাবে পৌঁছে দেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংবাদপত্র বা সাময়িকী সম্পাদনা, রেডিও বা টেলিভিশনে মতামত প্রকাশ কিংবা প্রকাশ্যে চিঠি লেখার ক্ষেত্রেও সরকারের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে সরকারের সমালোচনা সংক্রান্ত অংশ নিয়ে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনও সরকারি কর্মী সংবাদমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যম বা অন্য কোনও মাধ্যমে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নীতি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করতে পারবেন না। এমন কোনও বক্তব্যও দেওয়া যাবে না, যা কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক বা বিদেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শুধু আইএএস বা ডব্লিউবিসিএস আধিকারিক নন, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিস, জেল কর্মী, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মী, পুরসভা, পুরনিগম এবং বিভিন্ন স্বশাসিত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

সরকারি সূত্রের দাবি, প্রশাসনিক গোপনীয়তা বজায় রাখা এবং শৃঙ্খলা রক্ষার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, এর ফলে সরকারি কর্মীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর চাপ তৈরি হতে পারে।

নবান্ন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস কনডাক্ট রুলস ১৯৬৮ এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধি অনুযায়ী এই নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে এখন সরকারি মহলে জোর জল্পনা, এবার কি সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টও নজরদারির আওতায় আনবে প্রশাসন?

ভাটপাড়া পুরসভায় গণইস্তফার হিড়িক, পদ ছাড়লেন ২৯ জন কাউন্সিলার

কাঁচরাপাড়া, হালিশহরের পর এ বার ভাটপাড়া। বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে তৃণমূল পরিচালিত পুরসভাগুলিতে গণইস্তফার ধাক্কা ক্রমেই তীব্র আকার নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার ভাটপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান-সহ একযোগে পদত্যাগ করলেন ২৯ জন কাউন্সিলর। ঘটনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুরসভার ক্ষমতার সমীকরণ থেকে নাগরিক পরিষেবা— সব ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তার মেঘ ঘনিয়েছে।

সূত্রের খবর, শুক্রবার গারুলিয়া পুরসভাতেও একাধিক কাউন্সিলর পদত্যাগ করতে পারেন। সেই সম্ভাবনা ঘিরে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে।

একসময় ভাটপাড়া পুরসভা মানেই ছিল ‘বাহুবলী’ নেতা অর্জুন সিংয়ের প্রভাব বলয়। তিনি নিজেও ছিলেন পুরচেয়ারম্যান। বর্তমানে তাঁর পুত্র পবন সিং ভাটপাড়ার বিধায়ক। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই পুরসভার অন্দরে জটিলতা বাড়ছিল। চেয়ারম্যানের দীর্ঘ অনুপস্থিতি, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং নাগরিক পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছিল কাউন্সিলরদের একাংশের মধ্যে।

জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরেই অসন্তুষ্ট কাউন্সিলরদের মধ্যে একাধিক বৈঠক চলছিল। বৃহস্পতিবার সেই ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসে। ভাটপাড়া পুরসভার মোট ৩৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে দুই কাউন্সিলরের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ৩৩ জনের মধ্যে চেয়ারম্যান-সহ ২৯ জনের একযোগে পদত্যাগ কার্যত পুর প্রশাসনকে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

পুরসভার বিদায়ী ভাইস চেয়ারম্যান দেবজ্যোতি ঘোষ বলেন, “ভাটপাড়া পুরসভার অন্তর্গত ভাটপাড়া ও জগদ্দল— এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রেই তৃণমূলের পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল পুরসভার নাগরিক পরিষেবার ব্যর্থতা। এলাকায় একাধিক পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। নেতৃত্বের ঔদ্ধত্য ও অহংকারও মানুষের ক্ষোভ বাড়িয়েছে। তার উপর ফল ঘোষণার দিন থেকেই চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে পুরপরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে। সেই কারণেই আমরা ইস্তফা দিয়েছি।”

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার কাঁচরাপাড়া পুরসভায় ১৫ জন এবং বুধবার হালিশহর পুরসভায় ১৬ জন কাউন্সিলরের গণইস্তফার ঘটনায় ইতিমধ্যেই অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্যের শাসকদল। তার মধ্যেই ভাটপাড়ায় আরও বড় ভাঙন শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিল।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বারাকপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে পুর প্রশাসনের ভিত নড়ে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে এই ধারাবাহিক ঘটনায়। আগামী দিনে গারুলিয়া পুরসভাতেও যদি একই ছবি দেখা যায়, তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং বলেন, “নাগরিক পরিষেবা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।”

দিল্লিতে টানা ৩ দিনের অটো-ট্যাক্সি ধর্মঘট, চরম ভোগান্তিতে নিত্যযাত্রীরা

দেশজুড়ে পেট্রল-ডিজেলের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেই এবার আন্দোলনের আগুন জ্বলে উঠল রাজধানী দিল্লিতে। সিএনজি-র দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হল তিন দিনের পরিবহণ ধর্মঘট। আগামী ২৩ মে পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি। ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ‘অল ইন্ডিয়া মোটর ট্রান্সপোর্ট কংগ্রেস’ (AIMTC)। তাদের সঙ্গে সামিল হয়েছে প্রায় ৬৮টি ছোট-বড় পরিবহণ সংগঠন। ট্রাক, প্রাইভেট বাস, ট্যাক্সি থেকে শুরু করে একাংশ অটোচালকরাও নেমেছেন আন্দোলনে।

ধর্মঘটের জেরে সকাল থেকেই কার্যত স্তব্ধ রাজধানীর পরিবহণ ব্যবস্থা। রেলস্টেশন, বিমানবন্দর কিংবা অফিসপাড়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বহু জায়গায় অ্যাপ-ক্যাবের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কম গাড়ির সুযোগে বাড়তি ভাড়া বা ‘সার্জ প্রাইসিং’-এর অভিযোগও উঠেছে ওলা, উবার ও র‍্যাপিডোর বিরুদ্ধে।

কেন এই ধর্মঘট?

আন্দোলনকারীদের মূল অভিযোগ, দিল্লি সরকার পরিবেশ রক্ষার নামে মালবাহী গাড়ির উপর অতিরিক্ত ‘এনভায়রনমেন্ট কমপেনসেশন সেস’ চাপিয়েছে। পরিবহণ সংগঠনগুলির দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল—যে সব গাড়ি দিল্লিকে শুধু ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে, তাদের ক্ষেত্রেই এই কর প্রযোজ্য হবে। কিন্তু বাস্তবে দিল্লিতে প্রবেশ করা প্রায় সব মালবাহী গাড়ির উপরই এই সেস বসানো হয়েছে।

এছাড়াও আগামী ১ নভেম্বর থেকে দিল্লির বাইরে রেজিস্টার্ড BS-IV বাণিজ্যিক গাড়ির রাজধানীতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করছেন চালকেরা। তাঁদের বক্তব্য, এই নিয়ম কার্যকর হলে হাজার হাজার চালকের রুজি-রুটিতে টান পড়বে।

অ্যাপ-ক্যাব সংস্থার বিরুদ্ধেও ক্ষোভ

চালকদের একাংশের অভিযোগ, ওলা, উবার ও র‍্যাপিডোর মতো সংস্থাগুলি চালকদের উপার্জন ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে। কিলোমিটার-পিছু আয় ও ইনসেনটিভ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। অথচ জ্বালানির দাম, বিমা, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ লাগাতার বেড়েই চলেছে।

‘চালক শক্তি ইউনিয়ন’-এর সহ-সভাপতি অনুজ কুমার রাঠোর জানিয়েছেন, গত ১৫ বছরে দিল্লিতে ট্যাক্সি ভাড়া বাড়েনি। সরকারের কাছে দ্রুত নতুন ভাড়ার কাঠামো ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন তিনি। হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আগামী এক-দু’সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত না হলে আরও বড় আন্দোলনে নামবেন চালকেরা।

সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

ধর্মঘটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে নিত্যযাত্রীদের উপর। নতুন দিল্লি, পুরনো দিল্লি ও নিজামুদ্দিন স্টেশনের বাইরে বহু যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা গিয়েছে। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও একই ছবি। অনেক অটো ও ট্যাক্সি রাস্তায় না নামায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।

রাজধানীর বৃহত্তম পণ্য পরিবহণ কেন্দ্র ‘সঞ্জয় গান্ধী ট্রান্সপোর্ট নগর’-এ সকাল থেকেই কার্যত কাজ বন্ধ। সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ট্রাক।

অটোচালকদের মধ্যে বিভাজন

যদিও সব অটো ইউনিয়ন এই ধর্মঘটে সামিল হয়নি। ‘অটো রিকশ সঙ্ঘ’-এর সাধারণ সম্পাদক রাজেন্দ্র সোনির দাবি, এই সমস্যা মূলত ট্রাক ও মালবাহী গাড়ির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই তাঁদের সংগঠনের অটো ও ট্যাক্সি পরিষেবা চালু থাকবে। তবুও রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা কম থাকায় রাজধানীর বহু অংশে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।

জ্বালানির আগুনে বাড়ছে চাপ

এই ধর্মঘটের আবহেই এক সপ্তাহের মধ্যে দু’দফা বেড়েছে পেট্রল ও ডিজেলের দাম। শেষবার লিটার-পিছু ৯০ পয়সা বৃদ্ধি হয়েছে। বর্তমানে দিল্লিতে পেট্রলের দাম লিটার প্রতি ৯৮.৬৪ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৯১.৫৮ টাকা। কলকাতায় পেট্রলের দাম পৌঁছেছে ১০৯.৭০ টাকায়, যা দেশের বড় শহরগুলির মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে চেন্নাইয়ে ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৯৬.১১ টাকা।

তেলের আগুনে যখন নাজেহাল সাধারণ মানুষ, তখন নিজেদের অস্তিত্বের লড়াইয়ে রাস্তায় নেমেছেন চালকেরা। এই অচলাবস্থা কাটাতে সরকার কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজধানী।

হালিশহর পুরসভাতে বড়সড় ভাঙন, একযোগে ইস্তফা ১৬ কাউন্সিলরের

কাঁচরাপাড়ার পর এবার হালিশহরেও রাজনৈতিক অস্থিরতার বড় ছবি সামনে এল। একযোগে ১৬ জন কাউন্সিলরের গণইস্তফায় কার্যত চাপে পড়ল শাসক শিবির। বুধবার ব্যারাকপুর প্রশাসনিক ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে এই ইস্তফার কথা প্রকাশ্যে আনেন বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস। পদত্যাগীদের মধ্যে রয়েছেন পাঁচজন মহিলা কাউন্সিলরও। তবে এই গণইস্তফায় সামিল হননি হালিশহর পৌরসভার পৌরপ্রধান শুভঙ্কর ঘোষ।

কাঁচরাপাড়ার পর হালিশহর পৌরসভাতেও এমন বড়সড় ভাঙনের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। হঠাৎ করে এতজন কাউন্সিলরের পদত্যাগে প্রশাসনিক অন্দরে যেমন চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, তেমনই বিরোধীদের তরফে উঠতে শুরু করেছে একাধিক প্রশ্ন। যদিও বিধায়ক সুদীপ্ত দাস দাবি করেছেন, এই ইস্তফার প্রভাব সাধারণ মানুষের পরিষেবায় পড়বে না। তাঁর কথায়, পৌরসভার সমস্ত পরিষেবা আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে চলবে।

তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই দলের অন্দরে অসন্তোষ বাড়ছিল। দীর্ঘদিনের সেই ক্ষোভই এবার প্রকাশ্যে বিস্ফোরিত হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। কাঁচরাপাড়ার পর হালিশহরেও গণইস্তফার ঘটনায় জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজ্য রাজনীতির।

“পালাবদলে তৃণমূলে ধস, কাঁচরাপাড়া পুরবোর্ডে ভাঙন, একসঙ্গে ইস্তফা ১৫ কাউন্সিলরের”

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই কাঁচরাপাড়া পুরসভায় তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের জল্পনা চলছিল। মঙ্গলবার সেই জল্পনাই কার্যত সত্যি হল। একযোগে ইস্তফা দিলেন পুরসভার ১৫ জন তৃণমূল কাউন্সিলর। তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা পড়তেই বীজপুরের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের ভবিষ্যৎ নিয়েও।

সূত্রের খবর, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই কার্যত নেতৃত্বহীন অবস্থায় ছিল কাঁচরাপাড়া পুরসভা। চেয়ারম্যান কমল অধিকারীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে দলের অন্দরেই ক্ষোভ বাড়ছিল। একাংশ কাউন্সিলরের অভিযোগ, প্রশাসনিক স্তরে সমন্বয়ের অভাবে পুরসভার কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছিল। নাগরিক পরিষেবা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়।

এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি পুরসভায় গিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন বীজপুরের বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও তীব্র হয়। সূত্রের দাবি, রবিবার কল্যাণীতে তৃণমূল কাউন্সিলরদের একটি বৈঠকে ইস্তফার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। তারপর মঙ্গলবার একযোগে পদত্যাগ করেন ১৫ জন কাউন্সিলর।

যদিও ইস্তফার কারণ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি কেউই। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে কাঁচরাপাড়া পুরসভার ক্ষমতার সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। কাউন্সিলরদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তাঁদের একাংশ বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলেও গুঞ্জন ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস বলেন, “ঘটনাটি সত্যি কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সত্যতা প্রমাণিত হলে বোর্ড টিকবে না। সে ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কোনওভাবেই নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না।”

অন্যদিকে, গোটা ঘটনায় এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি তৃণমূল নেতৃত্ব। ফলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝেই এখন বড় প্রশ্ন— কীভাবে চলবে পুরসভার প্রশাসনিক কাজকর্ম? নাগরিক পরিষেবা বজায় রাখতেই বা কী পদক্ষেপ করা হবে? সেই উত্তর খুঁজছে কাঁচরাপাড়ার মানুষ।

রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে লাগু হল CAA, অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্য ছাড়া করার প্রক্রিয়া শুরু

বুধবার রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হল নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা CAA। মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari ঘোষণা করেন, আজ থেকেই সাতটি শরণার্থী জনজাতিকে নাগরিকত্বের আওতায় আনা হবে। একইসঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাঁদের নাম সরকারি নথি থেকে বাদ দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে BSF-এর হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরেই বাংলায় অনুপ্রবেশ ইস্যু রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah বাংলায় এসে অভিযোগ করেছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশের জেরে বদলে যাচ্ছে রাজ্যের জনবিন্যাস। গত বছর ১৪ মে BSF-এর তরফে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশিকাও জারি হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।

রাজ্যের বর্তমান সরকারের অভিযোগ, আগের সরকার সেই নির্দেশ কার্যকর করতে আগ্রহ দেখায়নি। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “রাজ্যে অনুপ্রবেশ রুখতেই CAA কার্যকর করা হচ্ছে। যাঁরা প্রকৃত শরণার্থী, তাঁরা নাগরিকত্ব পাবেন। কিন্তু যারা অবৈধভাবে এ দেশে প্রবেশ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিরোধিতা করে “তুষ্টিকরণের রাজনীতি” করেছে। সেই কারণেই বহু শরণার্থী নাগরিকত্বের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বর্তমান সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে এসে “কঠোর প্রশাসনিক নীতি” গ্রহণ করেছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, অসমে মুখ্যমন্ত্রী Himanta Biswa Sarma যেভাবে অনুপ্রবেশ ও জমি দখল ইস্যুতে কড়া অবস্থান নিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গেও সেই মডেলের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী Yogi Adityanath-এর প্রশাসনিক ধরন এবং অসমের নীতির মিশ্রণে রাজ্য পরিচালনার ইঙ্গিত মিলছে বলেও মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের।

একদিকে সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে অভিযান, অন্যদিকে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার পদক্ষেপ—তার মাঝেই এবার অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘোষণা সীমান্তবর্তী এলাকার একাংশের মানুষের মধ্যে নতুন করে আস্থা তৈরি করতে পারে।

“কত টাকা খেয়েছেন, সব হিসেব বের হবে” — GTA দুর্নীতি নিয়ে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

শিলিগুড়িতে দাঁড়িয়ে পাহাড় রাজনীতিতে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari। গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-র আর্থিক লেনদেন নিয়ে কড়া সুরে তিনি জানিয়ে দিলেন, অতীতের সমস্ত হিসেব খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর অভিযোগ, উন্নয়নের নামে পাঠানো কোটি কোটি টাকার বড় অংশই দুর্নীতির জালে হারিয়ে গিয়েছে। নতুন সরকার সেই সমস্ত ফাইল খুলে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

উত্তরবঙ্গ সফরে এসে বুধবার শিলিগুড়িতে প্রশাসনিক বৈঠকের ফাঁকেই মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় পাহাড়ের রাজনৈতিক মহলে। তিনি বলেন, “মানুষের টাকার হিসেব মানুষ পাবে। কত টাকা কোথায় খরচ হয়েছে, সব বের করা হবে।”

এর আগে উত্তরকন্যায় গিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নথি খতিয়ে দেখেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী Nisith Pramanik। সূত্রের খবর, একাধিক প্রকল্পে কাগজে কাজ সম্পূর্ণ দেখানো হলেও বাস্তবে তার অস্তিত্ব মেলেনি। অভিযোগ উঠেছে, ভুয়ো বিল ও অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর পরেই কয়েকটি ঠিকাদার সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জিটিএ-কে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই জিটিএ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে আসছে বিরোধীরা। সম্প্রতি গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা Bimal Gurung-ও জিটিএ সদর দফতর ‘লালকুঠি’ ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছিলেন। যদিও পর্যটনের মরশুমের কথা মাথায় রেখে সেই কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়।

এই আবহে জিটিএ ফাইল খোলার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া অবস্থান পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। বিশেষ করে Anit Thapa ও Binay Tamang-দের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

“দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার অভিষেক ঘনিষ্ঠ দেবরাজ চক্রবর্তী! অদিতি মুন্সির স্বামীকে আটক ঘিরে চাঞ্চল্য”

বাংলার রাজনৈতিক অন্দরে ফের চাঞ্চল্য। দুর্নীতির অভিযোগে শেষমেশ পুলিশের হাতে আটক হলেন বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর তথা এমআইসি দেবরাজ চক্রবর্তী। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং উত্তর ২৪ পরগনার যুব রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

ঘটনাচক্রে রাজনৈতিক মহলে আরও বেশি করে জল্পনা বাড়িয়েছে একটি বিশেষ সমাপতন। যেদিন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন, ঠিক সেই দিনই পুলিশের জালে ধরা পড়লেন দেবরাজ। ফলে শাসকদলের অভ্যন্তরে চাপা অস্বস্তি যে দ্রুত বাড়ছে, তা নিয়ে কোনও সংশয় রাখছেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই কার্যত বেপাত্তা ছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তী। ৪ মে-র পর থেকে তাঁর কোনও প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচি তো দূরের কথা, ঘনিষ্ঠ মহলেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে সূত্রের দাবি। প্রশাসনিক মহলে তখন থেকেই জোর গুঞ্জন ছিল—সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ এড়াতেই আত্মগোপনে গিয়েছেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ তাঁর সাময়িক আশ্রয়ে হানা দেয়। সেখান থেকেই তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও সরকারি ভাবে এখনও গ্রেফতার বা আটকের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি পুলিশ।

দেবরাজ শুধু বিধাননগরের এক কাউন্সিলর ছিলেন না। কামারহাটি থেকে বিধাননগর পর্যন্ত বিস্তৃত যুব তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোয় তাঁর প্রভাব ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। দলের অন্দরে তাঁকে অনেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডান হাত’ হিসেবেই দেখতেন। ক্যামাক স্ট্রিটের রাজনৈতিক গুডবুকে জায়গা করে নেওয়ার সুবাদে তাঁর ক্ষমতা ও দাপট নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলার সাহস খুব কম নেতারই ছিল।

তবে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত চলাকালীনই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজরে এসেছিলেন দেবরাজ। এবার অভিযোগ উঠেছে, বিধাননগর পুর এলাকায় নিয়োগ, টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া এবং আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে একাধিক অনিয়মের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছে। সূত্রের খবর, নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে বিস্তারিত ডসিয়ার তৈরি করছিল পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

অভিযোগ, গ্রেফতারি এড়াতে গত কয়েকদিন ধরে নিজের সমস্ত মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছিলেন দেবরাজ। এমনকি ঘনিষ্ঠ মহলের অনেকেই তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানতেন না। কিন্তু শেষরক্ষা হল না।

রাজনৈতিকভাবে এই ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। একদিকে কালীঘাট ও হরিশ মুখার্জি রোড ঘিরে পুরসভার নোটিশ, অন্যদিকে ফলতায় জাহাঙ্গির খানের সরে দাঁড়ানো—তার ঠিক পরেই দেবরাজের আটক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই সমস্ত ঘটনাই তৃণমূলের দ্বিতীয় সারির শক্তিকেন্দ্রকে ঘিরে প্রশাসনিক চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করছে।

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দুই দিক থেকেই তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত দুর্বল করার কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি। দেবরাজ চক্রবর্তীর এই আটক পর্ব ভবিষ্যতে আরও বড় কোনও রাজনৈতিক পদক্ষেপের পূর্বাভাস কিনা, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।

ধর্মের ভিত্তিতে অনুদান বন্ধ! সংখ্যালঘু দফতরের একাধিক প্রকল্পে কাঁচি অগ্নিমিত্রার

নবান্নে সোমবারের মন্ত্রিসভার বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari-র নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ক্যাবিনেট বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়েছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই বৈঠক রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় নতুন রাজনৈতিক বার্তা বহন করল।

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুর, নগরোন্নয়ন এবং নারী ও শিশু সমাজকল্যাণ মন্ত্রী Agnimitra Paul ঘোষণা করেন, ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে চালু থাকা সমস্ত সরকারি সহায়তামূলক প্রকল্প ধাপে ধাপে বন্ধ করে দেওয়া হবে। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের অধীন বিভিন্ন প্রকল্প আগামী ১ জুন থেকে আর কার্যকর থাকবে না বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে। চলতি মাস পর্যন্তই কেবল এই সুবিধা মিলবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বিজেপির দীর্ঘদিনের ‘তুষ্টিকরণ বিরোধী’ অবস্থানকেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে নতুন সরকার। যদিও বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।

তবে শুধু কড়া প্রশাসনিক বার্তাই নয়, সাধারণ মানুষের জন্য একাধিক জনমুখী ঘোষণাও এসেছে সোমবারের বৈঠক থেকে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশন গঠনের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। ফলে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহলে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

এছাড়াও, আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যের সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াত পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নারীকল্যাণে আরও এক ধাপ এগিয়ে নারী ও শিশু উন্নয়ন দফতরের অধীনে নতুন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্পও নীতিগত ছাড়পত্র পেয়েছে।

নবান্ন সূত্রে খবর, সোমবারের বৈঠক ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘক্ষণ ধরে একাধিক প্রশাসনিক ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত ও কৃষি বিপণন মন্ত্রী Dilip Ghosh, ক্রীড়া ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী Nisith Pramanik, খাদ্যমন্ত্রী Ashok Kirtania এবং আদিবাসী উন্নয়ন মন্ত্রী Khudiram Tudu। প্রশাসনিক রূপরেখা নির্ধারণে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়ালও।

সব মিলিয়ে, সোমবারের নবান্ন বৈঠক একদিকে যেমন প্রশাসনিক সংস্কারের কড়া বার্তা দিল, তেমনই অন্যদিকে জনমুখী একাধিক প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনোর রাজনৈতিক কৌশলও স্পষ্ট করে দিল।

পেটের দায়ে গুজরাটে সাফাই কর্মীর কাজ, তবুও উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যে নবম হয়েছে সাগর!

উচ্চমাধ্যমিকের মেধাতালিকায় নবম স্থান। মোট নম্বর ৪৮৮। ইংরেজি ও অর্থনীতিতে ৯৯ করে নম্বর। সাধারণত এমন ফল প্রকাশের দিন কোনও বাড়িতে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। আত্মীয়দের ফোন, পাড়ার অভিনন্দন, মিষ্টির বাক্স— সব মিলিয়ে আনন্দের রেশ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। কিন্তু পূর্ব বর্ধমানের কালনার সাগর মণ্ডলের জীবনে সেই ছবিটা ছিল একেবারেই অন্যরকম।

ফল প্রকাশের দিন সে নিজের বাড়িতে ছিল না। ছিল প্রায় দু’হাজার কিলোমিটার দূরে গুজরাটের আমেদাবাদে। হাতে বই নয়, ছিল কাজের দায়িত্ব। কারণ সংসারের বাস্তবতা তাকে অনেক আগেই শিখিয়ে দিয়েছে— শুধু পড়াশোনা নয়, রোজগারের লড়াইটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী সাগর। মাধ্যমিক পরীক্ষাতেও সে পেয়েছিল ৬৪৬ নম্বর। কিন্তু ভালো ফলাফল সবসময় জীবনকে সহজ করে দেয় না। তার বাবা-মা দু’জনেই গুজরাটে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। দীর্ঘদিন ধরে সাফাইয়ের কাজের সঙ্গে যুক্ত তাঁরা। সংসারের আর্থিক অবস্থা এমন নয় যে, ছেলেকে নিশ্চিন্তে বাড়িতে বসিয়ে শুধুই পড়াশোনা করানো যাবে। তাই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হতেই সাগরও পাড়ি দেয় গুজরাটে।

আমেদাবাদের একটি হোটেলে কাজ শুরু করে সে। সাফাই থেকে শুরু করে নানা ছোটখাটো দায়িত্ব সামলাত প্রতিদিন। প্রথম মাসে তার বেতন ছিল প্রায় ১৩ হাজার টাকা। পরে সেই বেতন ১৫ হাজার টাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল। সেই অর্থই ছিল তার ভবিষ্যতের স্বপ্নের প্রথম ভিত্তি।

কারণ সাগরের স্বপ্ন শুধুই চাকরি করা নয়। সে চায় UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে। ভবিষ্যতে IAS অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখে সে। আর সেই স্বপ্নের কোচিংয়ের খরচ জোগাড় করতেই এত অল্প বয়সে বাড়ি ছেড়ে অন্য রাজ্যে কাজ করতে যেতে হয়েছে তাকে।

ফল প্রকাশের দিন যখন জানতে পারে যে সে রাজ্যের প্রথম দশে জায়গা করে নিয়েছে, তখন আবেগ সামলাতে পারেনি সাগর। কয়েকদিন আগেও যে ছেলেটা হোটেলের কাজে ব্যস্ত ছিল, সেই ছেলেই হঠাৎ হয়ে উঠল গোটা বাংলার গর্ব।

তবে এই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক কঠিন সামাজিক বাস্তবতা। বাংলার বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রী এখনও অর্থের অভাবে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করতে বাধ্য হয়। কেউ ইটভাটায়, কেউ কারখানায়, কেউ আবার ভিনরাজ্যের হোটেলে। সাগরের গল্প যেন সেই বৃহত্তর বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি।

তবু সবচেয়ে বড় কথা, অভাব তার স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। সাগর জানিয়েছে, ওপেন ইউনিভার্সিটি থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক স্তরের পড়াশোনা করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। কাজের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাবে সে। কারণ তার কাছে শিক্ষা শুধুমাত্র নম্বর নয়, জীবনের পথ বদলে দেওয়ার একমাত্র হাতিয়ার।

আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় সাফল্যের গল্প খুব দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। কিন্তু সাগর মণ্ডলের গল্প মানুষকে অন্যভাবে নাড়া দেয়। এখানে নেই কোনও বিলাসিতা, নেই বড় কোচিং সেন্টারের চাকচিক্য। আছে শুধু এক সাধারণ পরিবারের অসাধারণ লড়াই।

সংসারের টানাপোড়েনের মধ্যেও যে ছেলে রাজ্যের মেধাতালিকায় জায়গা করে নিতে পারে, তার সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়। এটা সেই সব ছাত্রছাত্রীদের জন্যও এক বড় অনুপ্রেরণা, যারা প্রতিদিন অভাবের সঙ্গে লড়াই করেও স্বপ্ন দেখতে ছাড়ে না।

সাগরের গল্প তাই শুধু একজন মেধাবী ছাত্রের সাফল্যের কাহিনি নয়। এটা সেই ভারতবর্ষের গল্প, যেখানে অনেক সময় স্বপ্ন দেখার আগেই পেটের দায় মানুষকে বড় করে দেয়।