বাঙ্কার বাস্টার–টমাহকের আঘাতে কাঁপল ইরান, হামলার ফুটেজ প্রকাশ ইজরায়েলের - Bangla Hunt

বাঙ্কার বাস্টার–টমাহকের আঘাতে কাঁপল ইরান, হামলার ফুটেজ প্রকাশ ইজরায়েলের

By Bangla Hunt Desk - March 01, 2026

দীর্ঘ কূটনৈতিক টানাপোড়েন, লাগাতার হুঁশিয়ারি আর যুদ্ধের আবহের পর অবশেষে শনিবার ভোরে বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল ইরানের আকাশ। সরাসরি ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালাল আমেরিকা ও ইজরায়েল। ক্ষেপণাস্ত্রের পর ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ল একাধিক স্থাপনায়। বহু সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হামলার প্রথম ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে Israel Defense Forces (আইডিএফ)। যদিও সেই ভিডিওর স্বতন্ত্র যাচাই এখনও সম্ভব হয়নি। তবু ফুটেজে দেখা গিয়েছে—একটির পর একটি বিস্ফোরণে ধসে পড়ছে বহুতল ইমারত, কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যাচ্ছে চারপাশ, আতঙ্কে রাস্তায় ছুটছেন সাধারণ মানুষ।

সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দপ্তর ছিল টার্গেট?

হামলার পর আইডিএফের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei এবং প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian-এর দপ্তর লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। যদিও তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, গত ১২ ঘণ্টায় ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় আছড়ে পড়েছে আমেরিকার দূরপাল্লার ‘টমাহক’ ক্ষেপণাস্ত্র। সমুদ্রপথে অবস্থান নেওয়া মার্কিন রণতরী থেকেই নিক্ষেপ করা হয় সেগুলি। অত্যন্ত কম উচ্চতায়—মাটি থেকে মাত্র ৩০-৩৫ মিটার উপরে—উড়ে গিয়ে রাডার এড়িয়ে লক্ষ্যভেদ করে এই ক্ষেপণাস্ত্র। প্রায় ৮০০ কিলোমিটার গতিতে ধেয়ে যাওয়া, ১৬০০ কেজি ওজনের এই অস্ত্র নিখুঁত আঘাতে বিধ্বস্ত করেছে একাধিক স্থাপনা।

২০০ যুদ্ধবিমান, ৫০০ লক্ষ্যবস্তু

শুধু ক্ষেপণাস্ত্র নয়, আকাশপথেও ছিল জোরদার হামলা। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ইজরায়েলের প্রায় ২০০ যুদ্ধবিমান একযোগে আক্রমণ চালায় ইরানে। অন্তত ৫০০টি জায়গা ছিল তাদের লক্ষ্যবস্তু। সামরিক ঘাঁটি থেকে প্রশাসনিক ভবন—কোথাও রেহাই মেলেনি।

প্রাথমিক হিসেব বলছে, এই হামলায় প্রায় ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।

ব্যবহৃত হয়েছে ‘বাঙ্কার বাস্টার’?

খবর মিলছে, ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে জিবিইউ-২৮ ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমাও। ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার ধ্বংসে বিশেষভাবে তৈরি এই শক্তিশালী বোমা প্রায় ২০০ ফুট গভীরে লুকিয়ে থাকা লক্ষ্যবস্তুকেও নিশ্চিহ্ন করতে সক্ষম। প্রায় ১৩,৬০৭ কেজি ওজনের এই বোমা ইস্পাতের মোড়কে আবদ্ধ এবং প্রায় ২৪০০ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বোমা সাধারণত স্টেলথ বোমারু বিমান দ্বারা বহন করা হয়, যা রাডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। যদি সত্যিই এই অস্ত্র ব্যবহার হয়ে থাকে, তা হলে হামলার লক্ষ্য ছিল গভীর সুরক্ষিত সামরিক বা কৌশলগত স্থাপনা।

উত্তেজনার নতুন অধ্যায়

এই হামলার জেরে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা চরমে। আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। কূটনৈতিক মহলের একাংশের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত সংঘর্ষের দিকে গড়াতে পারে।

প্রশ্ন উঠছে—এ কি কেবল শক্তিপ্রদর্শন, না কি বৃহত্তর যুদ্ধের সূচনা? বিশ্বরাজনীতির অগ্নিগর্ভ এই মুহূর্তে তার উত্তর এখনও সময়ের গর্ভে।

সব খবর পড়তে আমাদের WhatsApp গ্রুপে যুক্ত হোনএখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


প্রাসঙ্গিক খবর