

জলপাইগুড়ি; বন্দীদের তাণ্ডবে উত্তাল হল জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার। করোনা আতঙ্কের জেরে অবিলম্বে নিজেদের মুক্তির দাবি তুলেছেন বন্দীদের একাংশ। এই দাবি নিয়ে সংশোধনাগারের ভেতরে তুমুল বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। শনিবার দুপুর বারোটার পর থেকে বিক্ষোভের পারদ ক্রমশই চড়তে থাকে। করোনা ভাইরাসের আতঙ্কের জন্য জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার থেকে প্যারোলে মুক্তির দাবি তোলেন একাংশ বন্দী। সংশোধনাগারের ভেতর থেকে এদিন কয়েকশো বন্দী মিলে লাগাতার ঢিল ছুঁড়তে থাকে। ভেঙে ফেলা হয় বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, বিকেল পর্যন্ত জেলের ভেতরেই ঢুকতে পারেননি জেলকর্মীরা। বন্দীদের এই বিক্ষোভ দমাতে সংশোধনাগারে অনবরত সাইরেন বাজানো হয়।
সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, এদিন সকাল থেকে সংশোধনাগারের ভেতরে চিৎকার ও হইচই শুরু করে কয়েকশো জেলবন্দী। তাদের মধ্যে অনেকেই বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত বন্দী রয়েছে। বন্দীরা হুড়োহুড়ি ও বিক্ষোভ শুরু করায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয় সংশোধনাগারের ভেতরে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় জেল কর্তৃপক্ষকে। সঙ্গে সঙ্গে জলপাইগুড়ি জেলা পুলিসকে খবর দেন তারা। কিছুক্ষণের মধ্যেই সংশোধনাগার চত্বরে বিশাল পুলিশ বাহিনী নামানো হয়। পুলিশ ও র্যাফ বাহিনী দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় গোটা এলাকা। এদিকে ভেতর থেকে লাগাতার ইট বৃষ্টি শুরু হয়। সংশোধনাগারের ভেতরে থাকা বাগানের চারপাশের ইট খুলে ঢিল ছুঁড়তে থাকে কয়েদিরা। পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন জেলের ভেতরে থাকা কারারক্ষীরা। বন্দীদের নিয়ে উত্তাল পরিস্থিতির জন্য অনবরত সাইরেন বাজানো হয় সংশোধনাগারে। শেষে সন্ধে নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে পুলিশ ও জেল কর্তৃপক্ষ।
আলোচনার মাধ্যমে প্রায় চার ঘন্টা বন্দিদের হাতে আটকে থাকা পাচ কারারক্ষী কে মুক্ত করলো পুলিশ।শনিবার দুপুর বারোটা নাগাদ বন্দি বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জলপাইগুড়ি সেন্ট্রাল জেল। জামিনে মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে বন্দিরা।কারারক্ষীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে এলে মারমুখী হয়ে ওঠে বন্দিরা।পাচজন রক্ষীকে আটকে জেলের নিউ কমপ্লেক্সের গেট ভেতর থেকে আটকে দেয় বন্দিরা।গতিবিধি আড়াল করতে ভেঙে ফেলে ভেতরের সিসি ক্যামেরা। খবর পেয়ে ছুটে আসে পুলিশ, র্যাফ।আসেন জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার অভিষেক মোদি, এ আইজি কারা বিপ্লব দাসগুপ্ত ।জেলের চারপাশ পুলিশ কর্মীরা ঘিরে ফেললেও ভেতরে আটকে থাকা কারারক্ষীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আলোচনার রাস্তায় হাটে পুলিশ।জেলের গেটের এক প্রান্ত থেকে ভেতরে থাকা বন্দিদের সাথে কথা বলেন পুলিশ সুপার। দীর্ঘ আলোচনার পর আটকে থাকা রক্ষীদের মুক্ত করে বন্দিরা।এরপর পুলিশ ভেতরে গিয়ে বাইরে থাকা বন্দিদের সেলের ভেতর ঢুকিয়ে দেয়।তাদের খাবারের ব্যবস্থা করে।জানাগিয়েছে জেলের নিউ কমপ্লেক্সে সাড়ে পাচশো বন্দি আছে। এদের মধ্যে এনডিপিএস মামলায় অভিযুক্ত প্রায় পঞ্চাশ জন বন্দি প্রথম জামিনের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে তাদের সাথে যোগ দেয় আরও শতাধিক বন্দি।
জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের চিফ ডিসিপ্লিন অফিসার অসীম আচার্য বলেন, বন্দীরা ভেতর থেকে লাগাতার ঢিল ছুঁড়েছিল। বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়েছে। জানান, এই ঘটনার মূলে রয়েছে ৫০-৬০ জন মাদক পাচারকারী বিচারাধীন বন্দী।পরিস্থিতি জটিল হতে দেখে আমরা সংশোধনাগারের মূল গেট বন্ধ করে দিয়েছি। পুলিশ প্রশাসন ঘিরে রাখে সংশোধনাগারের চারদিকে। বন্দীদের এই বিক্ষোভ দমানোর জন্য সবরকম চেষ্টা করা হয়। শেষে বিকেলের দিকে জেলের ভেতরে ঢোকেন জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ সুপার অভিষেক মোদি সহ অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকরা। ছিলেন কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের আধিকারিকরাও। বিক্ষোভকারী বন্দীদের সঙ্গে কথা বলেন তারা।
জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ সুপার অভিষেক মোদি বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। যারা গন্ডগোল করেছিল প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডলারের বিকল্প পথে কি BRICS? ডিজিটাল মুদ্রা সংযোগের প্রস্তাব দিল RBI

প্রোটোকল ভেঙে ‘বিশেষ বন্ধুত্বের’ বার্তা: বিমানবন্দরে ইউএই রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে নিজে হাজির মোদি

“শারীরিক মিলনের আগে এই ৩ ভুল একেবারেই নয়”

আর্মেনিয়ার পথে ভারতের পিনাকা, প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে নতুন মাইলফক

কাঁচরাপাড়া দিনবসু লেনের মুখে গভীর রাতে বাইক দুর্ঘটনা, গুরুতর জখম যুবক

মাসিক হওয়ার কতদিন পর সহবাস করলে বাচ্চা হতে পারে?

ছয় দশক পরে বড় কৌশলগত সাফল্য! পূর্ব লাদাখে হারানো জমিতে ফের টহলাধিকার পেল ভারত

Ajit Doval: ‘আমাদের মন্দির লুট হয়েছিল, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিশোধ নিতে হবে’—বার্তা ডোভালের

তেহরানের রাস্তায় লাখো মানুষের ঢল, বিক্ষোভের জেরে বন্ধ ইন্টারনেট

যুদ্ধের সংজ্ঞা বদলাচ্ছে: মাল্টি-ডোমেইন অপারেশনের পথে ভারতীয় সেনার স্পেশাল ফোর্স