এই ৯টি লক্ষণ থাকলে বুঝবেন আপনার এক মাসের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে - Bangla Hunt

এই ৯টি লক্ষণ থাকলে বুঝবেন আপনার এক মাসের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে

By Bangla Hunt Desk - December 19, 2020

বাংলা হান্ট ডেস্ক ; বর্তমানে হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক একটা সাধারণ রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ হার্টের সমস্যায় ভুগছে। প্রায়ই শোনা যায়, হার্ট অ্যাটাকের ফলে মৃত্যুর খবর। বেশিরভাগ বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা দেয়। সবচেয়ে প্রচলিত কার্ডিওভাসকুলার রোগগুলির মধ্যে এটি একটি। ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষ এবং ৫৫ বা তার বেশি বয়সের নারীদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা, কম বয়সী পুরুষ ও নারীদের থেকে বেশি থাকে।

আরো পড়ুন- দাঁতের হোলদে ভাব দাগ দুর করতে ৫টি অব্যর্থ ঘরোয়া পদ্ধতি জেনে নিন

হঠাত্‍ করে হার্ট অ্যাটাক হয় না। বলে কয়েই আসে হার্ট অ্যাটাক। লক্ষণ জানতে পারলে বিপদ এড়ানো সম্ভব। কিন্তু সচেতনতার অভাবে কিংবা গাফিলতিতেই ঘটে যায় বড়সড় ক্ষতি। এমনকী মৃত্যুও। হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুটা এখন আকছার ঘটে। বয়স মানে না। তিরিশের তরতাজা প্রাণও নিমেষে চলে যেতে পারে। তবে বুকে শুধু চিনচিনে ব্যথাই নয়, হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ একাধিক।

হার্ট অ্যাটাক কী?

যখন আমাদের হার্টে রক্ত ​​প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় তখন হার্ট অ্যাটাক হয়। আমাদের হৃদপিণ্ডের নিজস্ব রক্তনালি থাকে। এই রক্তনালিতে চর্বি, কোলেস্টেরল জমে গেলে এর ওপর রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করে। ফলে, রক্তনালিগুলো পুরোপুরি ব্লক হয়ে যায়, রক্ত প্রবাহের পথে বাধা পায়। এর ফলে, হঠাৎ করে বুকে ব্যথা এবং সেখান থেকে পরিস্থিতি জটিল হলে মৃত্যুও হতে পারে। একেই আমরা হার্ট অ্যাটাক বলি। একে মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন-ও বলা হয়। এককথায় বলা যায়, রক্তনালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে হার্টের কার্যক্ষমতা বন্ধ হয়ে গেলে হার্ট অ্যাটাক হয়।
হৃদপিণ্ডের ভেতর দিয়ে অক্সিজেন প্রবাহিত না হতে পারলেই হার্ট অ্যাটাক হয়। হার্ট অ্যাটাক এমন গুরুতর অসুখ, যার জন্য তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন। না হলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে এমন ৯টি লক্ষণ আছে যেগুলো দেখা গেলে বুঝবেন আপনি শিগগিরই হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হতে পারেন । এই লক্ষণগুলো দেখা গেলে দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

আসুন জেনেনি হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ গুলি কি কি

১. অস্বাভাবিক রকমের ক্লান্তি অনুভূত হওয়া: শরীরে রক্তপ্রবাহ কমে গেলে ও রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে এমনটা হয়। রক্তের শিরা-উপশিরাগুলোতে অতিরিক্ত চর্বি জমে বাধা সৃষ্টি করলে এবং মাংসপেশী দুর্বল হয়ে পড়লে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা থাকে।

২. ঠাণ্ডা ঘাম: রক্তপ্রবাহ কমে গেলে দেহে ঘাম ঝরলে স্যাঁতসেতে ও ঠাণ্ডা ভাব অনুভূত হবে।

৩. ঝিমুনি ভাব: দেহে রক্তের প্রবাহ কমে গেলে ঝিমুনি ভাব দেখা দেয়। মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ কমে গেলে ঝিমুনির সৃষ্টি হয়।

৪. বুকে পিঠে ব্যথা:</str ong> বুকে, পিঠে বা কাঁধে ব্যাথা অনুভূত হলে দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। বুকে ব্যথা এবং হৃৎপিণ্ডের সংকোচন হার্ট অ্যাটাকের একটি বড় লক্ষণ।

৫. শ্বাসকষ্ট: ফুসফুসে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন এবং রক্ত সরবরাহ না হলে এই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। হার্টের সমস্যা থাকলে ফুসফুসে রক্ত চলাচল কমে যায়। শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস ছোট হয়ে আসার মতো সমস্যা দেখা যায়।

৬. ঠাণ্ডা বা ফ্লু: হার্ট অ্যাটাকের শিকার অনেককেই এক মাস আগে থেকে ঠাণ্ডা-সর্দি বা ফ্লু-তে আক্রান্ত হতে দেখা গিয়েছে।

৭. বমি, বদহজম, তলপেটে ব্যথা: বমিভাব, বদহজম, বুক ও হৃৎপিণ্ডে জ্বালাপোড়া করা বা তলপেটে ব্যথাও অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে।

৮. দ্রুত অথবা অনিয়মিত হার্টবিট।

৯. উদ্বেগ বা ঘুমের ব্যাঘাতও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ।

সুতরাং এই লক্ষণগুলি দেখা দিলে অবহেলা না করে সঙ্গে সঙ্গে চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কম বয়সে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো রোগকে আশি শতাংশ ক্ষেত্রেই প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে মত চিকিত্সকদের। এ ছাড়াও পরিমিত আহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, ফল। কমিয়ে ফেলতে হবে মাত্রাতিরিক্ত চিনি, নুন, ফ্যাট জাতীয় খাবার। নিয়মিত শরীরচর্চাও সুস্থ হার্টের অন্যতম উপায়। যে কোনও প্রকারেই এড়িয়ে চলতে হবে তামাক জাতীয় দ্রব্যের সেবন।

সব খবর পড়তে আমাদের WhatsApp গ্রুপে যুক্ত হোনএখানে ক্লিক করুন


প্রাসঙ্গিক খবর