​"দিল্লির স্কুলে ৩ বছরের ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন, কাঠগড়ায় স্কুলেরই কর্মী!" - Bangla Hunt

​”দিল্লির স্কুলে ৩ বছরের ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন, কাঠগড়ায় স্কুলেরই কর্মী!”

By Bangla Hunt Desk - May 09, 2026

রাজধানী দিল্লির জনকপুরী এলাকায় এক বেসরকারি স্কুলে তিন বছরের এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে স্কুলেরই এক কর্মীকে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

পরিবারের দাবি, ঘটনাটি ঘটে ২৮ এপ্রিল, ২০২৬। আর ১ মে তারিখে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হয়। তিন বছর বয়সী ওই শিশুটি প্রতিদিনের মতো স্কুলে গিয়েছিল, কিন্তু সেদিন স্কুল থেকে ফেরার পর তার আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন তার মা। শিশুটি অত্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছিল এবং শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। মায়ের সন্দেহ হওয়ায় তিনি শিশুটির সঙ্গে কথা বলেন এবং বুঝতে পারেন যে স্কুলের ভেতরেই কোনো এক পুরুষ কর্মী তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে শিশুটির মা তৎক্ষণাৎ জনকপুরী থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত শুরু করে দিল্লি পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং পকসো আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়। তদন্তকারীরা স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু করেন। পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদও চলে। তদন্তের এক পর্যায়ে শিশুটির বয়ান এবং প্রাথমিক মেডিক্যাল রিপোর্টের ভিত্তিতে স্কুলের এক অশিক্ষক কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। অভিভাবকদের একাংশের অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষ কর্মীদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই এবং নজরদারির ক্ষেত্রে গাফিলতি করেছে। যে প্রতিষ্ঠানে ছোট ছোট শিশুদের নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকে, সেখানে কীভাবে এমন অভিযোগ উঠল, তা নিয়েই ক্ষোভ বাড়ছে।

এদিকে মামলায় নতুন মোড় আসে আদালতে। বৃহস্পতিবার দ্বারকা আদালতে অভিযুক্তের জামিনের শুনানি হয়। সরকারি আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করে জানান, অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং অভিযুক্ত বাইরে থাকলে তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করে আদালত।

আদালতের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দিল্লি পুলিশের একাংশ সূত্রে খবর, জামিনের লিখিত নির্দেশ হাতে পাওয়ার পর উচ্চতর আদালতে যাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হতে পারে। তদন্ত এখনও চলছে। ফরেনসিক রিপোর্ট, ডিজিটাল প্রমাণ এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

শিশু সুরক্ষা নিয়ে আবারও বড় প্রশ্ন তুলে দিল জনকপুরীর এই ঘটনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সিসিটিভি বসালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। স্কুলের প্রতিটি কর্মীর চরিত্র যাচাই, শিশুদের ‘গুড টাচ’ ও ‘ব্যাড টাচ’ সম্পর্কে সচেতন করা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ—সবই সমান জরুরি।

তিন বছরের এক শিশুর উপর এমন অভিযোগ শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, সমাজের নিরাপত্তা কাঠামোর দিকেও আঙুল তুলছে। এখন নজর তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার দিকে—দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কত দ্রুত এবং কতটা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটাই দেখার।

সব খবর পড়তে আমাদের WhatsApp গ্রুপে যুক্ত হোনএখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


প্রাসঙ্গিক খবর