প্রোটোকল ভেঙে 'বিশেষ বন্ধুত্বের’ বার্তা: বিমানবন্দরে ইউএই রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে নিজে হাজির মোদি - Bangla Hunt

প্রোটোকল ভেঙে ‘বিশেষ বন্ধুত্বের’ বার্তা: বিমানবন্দরে ইউএই রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে নিজে হাজির মোদি

By Bangla Hunt Desk - January 19, 2026

নিউদিল্লি: দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে বুধবার সন্ধ্যায় দৃশ্যটা ছিল একটু আলাদা। কূটনৈতিক প্রোটোকলের বাঁধাধরা নিয়ম ছাপিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে স্বাগত জানাতে নিজে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আন্তর্জাতিক কূটনীতির ভাষায় যা নিঃসন্দেহে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত।

সাধারণত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের অভ্যর্থনার দায়িত্ব থাকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাঁধে। প্রধানমন্ত্রী নিজে বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকেন কেবলমাত্র হাতে গোনা কিছু ক্ষেত্রে—যখন সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক নয়, কৌশলগত ও আস্থাভিত্তিকও বটে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এ দিন মোদির উপস্থিতি সেই ‘বিশেষ সম্পর্ক’-এরই স্পষ্ট বার্তা দিল।

গত এক দশকে ভারত–ইউএই সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এক সময় যা ছিল মূলত জ্বালানি ও বাণিজ্যকেন্দ্রিক, এখন তা বিস্তৃত হয়েছে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সমন্বয়, প্রযুক্তি, পরিকাঠামো ও বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও। পশ্চিম এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি জোরদার করতে ইউএই যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী, তা আর অজানা নয়।

এই সফরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা রয়েছে। কৌশলগত প্রকল্প, বিনিয়োগ, আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রবাসী ভারতীয়দের স্বার্থ—সব বিষয়েই আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।

বিমানবন্দরের উষ্ণ অভ্যর্থনা তাই নিছক সৌজন্য নয়। বরং তা বুঝিয়ে দিল—ইউএই ভারতের কাছে কেবল আরেকটি বন্ধু রাষ্ট্র নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ‘বিশেষ অংশীদার’। কূটনীতির নীরব ভাষায়, প্রোটোকল ভেঙে দেওয়া এই মুহূর্তই সেই সম্পর্কের সবচেয়ে জোরালো প্রকাশ।

সব খবর পড়তে আমাদের WhatsApp গ্রুপে যুক্ত হোনএখানে ক্লিক করুন


প্রাসঙ্গিক খবর