ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে প্রেমিকাকে খুন। ছক মাফিকই পালানোর চেষ্টা করেছিল সুশান্ত চৌধুরী। কিন্তু লাভ হয়নি। কয়েকঘণ্টার মধ্যে কার্যত সিনেমার কায়দায় বহরমপুর তরুণী খুনের (Baharampur Murder Case) অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পায়ে লেগে থাকা রক্ত চিনিয়ে দিয়েছে অপরাধীকে।
আরো পড়ুন- গণধর্ষণের অভিযোগ জানাতে যাওয়া ১৩ বছরের নাবালিকাকেই ধর্ষণ করল পুলিশ! চাঞ্চল্য যোগীরাজ্যে
বিষয়টা ঠিক কী? মেসের সামনে সুতপাকে খুনের আগেই পালানোর পথ ঠিক করে রেখেছিল সুশান্ত। যে বাড়ির পাঁচিল টপকে এলাকা ছেড়েছিল, সেই পাঁচিলের উপর পেরেক বেঁকিয়ে রেখেছিল যাতে পালাতে সমস্যা না হয়। খুনের পর সেই পাঁচিল টপকে সুশান্ত এলাকা ছাড়ে বলে খবর। এরপর যায় একটি হোটেলে। সেখানে পালটে নেয় পোশাক। তবে এরই মাঝে প্রেমিকার ফোনে ফোন করেছিল সুশান্ত। এদিকে ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তকে ধরতে তৎপর হয় পুলিশ। শুরু হয় নাকা চেকিং। যুবকের বাড়ি মালদহ হওয়ায় মালদহগামী সব গাড়ি আটকে চেকিং শুরু করে পুলিশ।
রাত দশটা নাগাদ একটি ভ্যানে করে কয়েকজন শ্রমিক ফিরছিলেন। তাঁদের মধ্যেই ত্রিপল গায়ে দেওয়া অবস্থায় এক যুবককে দেখতে পায় পুলিশ। তাঁর দিকে টর্চের আলো ফেলতেই জুতোয় রক্ত দেখতে পান আধিকারিকরা। সঙ্গে সঙ্গে ভ্যান থেকে নামানো হয় যুবককে। জামা পালটে ফেললেও সুশান্তকে চিনতে অসুবিধা হয়নি পুলিশের। জানা গিয়েছে, ধরা পড়ার পর নির্লিপ্ত কন্ঠে সুশান্ত জিজ্ঞেস করেছিল, প্রেমিকা বেঁচে আছে কি না।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জেরায় সুশান্ত স্বীকার করেছেন সোমবার সন্ধ্যায় বহরমপুর আসার সময় তার ব্যাগে পুরে আর খেলনা বন্দুকের সঙ্গে ছিল দুটি জামা। পরিকল্পনামাফিক খুনের পর রক্তে ভিজে যাওয়া জামা বদল করে নেয় সে। এর পর একটি লাক্সারি ট্যাক্সি ভাড়া করে বহরমপুর থেকে মালদহের উদ্দেশে রওনা দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, পালানোর সময় সকলকে বিভ্রান্ত করতে তিন বার গাড়ি বদল করেছিল সুশান্ত। পুলিশের দাবি, সুতপার মৃত্যু নিশ্চিত করতেই বার বার ছুরি দিয়ে হামলা চালিয়েছিল সে।
পুলিশের দাবি, ধৃতের মোবাইল পরীক্ষা করে বিভিন্ন খুনের দৃশ্যের ভিডিয়ো পাওয়া গিয়েছে। জেরায় সুশান্ত জানিয়েছে, গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে সুতপাকে মন্দিরে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছিল সে। তবে গত চার মাস ধরে সেই সম্পর্ক আর এগিয়ে নিয়ে যেতে সুতপা ইচ্ছুক ছিলেন না বলেও জেরায় জানিয়েছে সুশান্ত। সে আরও জানিয়েছে, অন্য কারও সঙ্গে সুতপার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল। তার জেরে সুশান্তের আচরণেও বদল আসে বলে তার পরিবারের দাবি। সুশান্তের ভাই শুভদীপ চৌধুরীর বক্তব্য, “মাসখানেক আগেও দাদা বাড়িতে এসেছিল। ও বাড়ির কারও কথা শুনত না। এমনকি, মা কিছু বললেও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তেড়ে যেত। ওকে গত মাস দুয়েক ধরে এমন দেখছি। তার আগে ভাল ছিল।”
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তারির পরও নির্বিকার সুশান্ত। চেহারায় অনুশোচনার লেশমাত্র নেই। এমনকী ঘটনার দিনের কথা নিজেই জানাচ্ছে সে। জানিয়েছে, যে বন্দুক দিয়ে সকলকে ভয় দেখিয়েছিল সেটা আসলে খেলনা ছিল! যদিও কখনও কখনও সুশান্তর চোখে জলও দেখা গিয়েছে। কখনও আত্মহত্যার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছে সে। সব মিলিয়ে ধৃতকে জেরা করতে গিয়ে হতবাক তদন্তকারীরা। এদিকে ধৃতের থেকেই পুলিশ জানতে পেরেছে, খুনের তিনদিন আগে থেকে বহরমপুরেই থাকতে শুরু করেছিল সুশান্ত। জানা গিয়েছে, সম্পর্কে টানাপোড়েনের পর প্রেমিকাকে বিভিন্ন ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিল অভিযুক্ত যুবক। মীমাংসায় সালিশি সভাও বসেছিল। কিন্তু লাভ কিছুই হল না।

কাঁচরাপাড়ায় অটো রুটে দুর্নীতির অভিযোগ, কাউন্সিলরদের নামে গাড়ি নিয়ে উঠল প্রশ্ন

“মমতাই সর্বোচ্চ নেত্রী, চিঠি সইয়ের আগে কিছুই জানানো হয়নি”—বিস্ফোরক দাবি ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কদের

সরকারের অনুমতি ছাড়া সংবাদমাধ্যমে মুখ খুললে চাকরিতে কোপ, নয়া নির্দেশিকা নবান্নের

ভাটপাড়া পুরসভায় গণইস্তফার হিড়িক, পদ ছাড়লেন ২৯ জন কাউন্সিলার

দিল্লিতে টানা ৩ দিনের অটো-ট্যাক্সি ধর্মঘট, চরম ভোগান্তিতে নিত্যযাত্রীরা

হালিশহর পুরসভাতে বড়সড় ভাঙন, একযোগে ইস্তফা ১৬ কাউন্সিলরের

“পালাবদলে তৃণমূলে ধস, কাঁচরাপাড়া পুরবোর্ডে ভাঙন, একসঙ্গে ইস্তফা ১৫ কাউন্সিলরের”

রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে লাগু হল CAA, অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্য ছাড়া করার প্রক্রিয়া শুরু

“কত টাকা খেয়েছেন, সব হিসেব বের হবে” — GTA দুর্নীতি নিয়ে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

“দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার অভিষেক ঘনিষ্ঠ দেবরাজ চক্রবর্তী! অদিতি মুন্সির স্বামীকে আটক ঘিরে চাঞ্চল্য”