রাজ্যের সরকারি কর্মীদের জন্য এবার বড়সড় কড়াকড়ি জারি করল নবান্ন। সরকারের অনুমতি ছাড়া সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলা, সরকারি নথি বা তথ্য ফাঁস করা, এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের সমালোচনা করাও কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়েছে নতুন নির্দেশিকায়। মুখ্যসচিব Manoj Agarwal-এর জারি করা এই সার্কুলার ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
নতুন সরকারের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশাসনে একের পর এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছিল। মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari আগেই কড়া প্রশাসনের বার্তা দিয়েছিলেন। এবার সরকারি কর্মীদের আচরণবিধি নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিল রাজ্য সরকার।
গত ১৯ মে জারি হওয়া নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মী সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না। প্রেস বা সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনও সরকারি নথি বা তথ্য সরাসরি বা পরোক্ষভাবে পৌঁছে দেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংবাদপত্র বা সাময়িকী সম্পাদনা, রেডিও বা টেলিভিশনে মতামত প্রকাশ কিংবা প্রকাশ্যে চিঠি লেখার ক্ষেত্রেও সরকারের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে সরকারের সমালোচনা সংক্রান্ত অংশ নিয়ে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনও সরকারি কর্মী সংবাদমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যম বা অন্য কোনও মাধ্যমে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নীতি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করতে পারবেন না। এমন কোনও বক্তব্যও দেওয়া যাবে না, যা কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক বা বিদেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শুধু আইএএস বা ডব্লিউবিসিএস আধিকারিক নন, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিস, জেল কর্মী, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মী, পুরসভা, পুরনিগম এবং বিভিন্ন স্বশাসিত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, প্রশাসনিক গোপনীয়তা বজায় রাখা এবং শৃঙ্খলা রক্ষার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, এর ফলে সরকারি কর্মীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর চাপ তৈরি হতে পারে।
নবান্ন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস কনডাক্ট রুলস ১৯৬৮ এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধি অনুযায়ী এই নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে এখন সরকারি মহলে জোর জল্পনা, এবার কি সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টও নজরদারির আওতায় আনবে প্রশাসন?