করোনা থেকে বাঁচতে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে নিতে, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শ জেনে নিন - Bangla Hunt

করোনা থেকে বাঁচতে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে নিতে, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শ জেনে নিন

By Bangla Hunt Desk - March 26, 2020

সারা বিশ্বে জুড়ে দিন দিন করোনার প্রকোপ বাড়ছে। করোনা এখন মহামারির আকার ধারণ করেছে। বিশ্বের সমস্ত উন্নতশীল দেশ গুলোতে এখন করোনার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃতের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এখনো পর্যন্ত এর কোন প্রতিষেধক বা টিকা আবিষ্কার হয়নি। তাই এই রোগ থেকে বাঁচতে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, আমাদের খাদ্যাভাসের কিছু পরিবর্তন দরকার।

করোনা ভাইরাস (কোভিড -19) প্রতিরোধ সহ শরীরের রোগ -প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডাঃ মোঃ কামরুল হাসান মিলন কি বলছেন আসুন জেনেনি-

তিনি বলছেন করানোর সংক্রমণ থেকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আমাদের রোজকার খাদ্যতালিকায় কিছু পরিবর্তন দরকার।

কি কি খাবার তালিকায় প্রতিদিন রাখতে হবে চলুন জেনে নি;

আমাদের শরীরে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন কিংবা ফ্যাট এর পাশাপাশি মিনারেলস ও ভিটামিন এর ভূমিকা অন্যতম। শরীরের প্রয়োজনীয় যাবতীয় ভিটামিন ও মিনারেলস রয়েছে শাক-সবজিতে। তাই শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত শাক-সবজি খেতে হবে। শাকসবজি, ফলমূল, বাদামজাতীয় খাবার শরীরে নিউটোভ্যাক্স ভ্যাকসিনের অ্যান্টিবডি প্রক্রিয়াকে বাড়িয়ে তোলে।

সব্জিঃ- করলা [বিটা ক্যারোটিনসমৃদ্ধ], পারপেল/লাল পাতা কপি, বিট, ব্রোকলি, গাজর, টমেটো, মিষ্টি আলু, ক্যাপসিকাম, ফুলকপি ইত্যাদি প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন।

শাকঃ- লালশাক,পালংশাক, কলমিশাক,ডাঁটাশাক ইত্যাদি সহ সকল ধরনের শাক খেতে হবে।

ভিটামিন-এঃ- ভিটামিন এ মূলত রেটিনল নামক রাসায়নিক যৌগ , যা ডায়েট সহায়ক হিসাবে ব্যবহার হয়। ভিটামিন-এ যে সকল খাবারের পাওয়া যায় যেমন,মিষ্টিকুমড়া,মিষ্টিআলু, গাজর, পালংশাক, জাম্বুরা, ডিম, কলিজা, দুধজাতীয় খাবার খেতে হবে।

ভিটামিন-ইঃ- আটটি ফ্যাট দ্রবণীয় যৌগের একটি যার মধ্যে চারটি টোকোফেরল এবং চারটি টোকোট্রা্ইনল। বাদাম তেল, পেস্তাবাদাম, কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, বিচিজাতীয় ও ভেজিটেবল অয়েল, জলপাইয়ের আচার, সবুজ শাকসবজি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-ই থাকে।

ভিটামিন সিঃ- L-ascorbic acid এল-অ্যাস্করবিক এসিড) কিংবা শুধু অ্যাস্করবেট (অ্যাস্করবিক এসিডের অ্যানায়ন) হল মানুষসহ বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য একটি প্রয়োজনীয় পুষ্টিপদার্থ।অ্যাস্করবেট জারণজনিত পীড়ন (oxidative stress) রোধে একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। কমলা,মাল্টা,লেবু, আমলকী, সবুজ মরিচ, করোলা ইত্যাদি তে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এ ধরনের খাবার প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে।

ভিটামিন বিঃ- জল-দ্রবণীয় ভিটামিনগুলির এক শ্রেণি যা কোষ বিপাকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জিংক–জাতীয় খাবার, বিচি জাতীয়, বাদাম, সামুদ্রিক খাবার, দুধ ইত্যাদি আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে, তাতে কোষ বৃদ্ধি করে। এজন্য ধরনের খাবার প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে।

এছাড়া পেঁপেতে প্রচুর পেপেন এনজাইম আছে, যা আমাদের পাকস্থলীতে আমিষ হজমে সাহায্য করে। এছাড়াও পেঁপেতে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, আঁশ, ভিটামিন এ,বি,সি,ডি, পটাশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম ও অ্যালবুমিন এনজাইম থাকে পেঁপেতে যা আমাদের হৃদপিন্ড ভালো রাখে ও রোগ- প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

ফল:- কমলালেবু, পেঁপে, আঙুর, আম, কিউই, আনার, তরমুজ, বেরি, জলপাই, আনারস ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় রাখুন।

মসলাঃ রসুন, হলুদ,গোলমরিচ, দারুচিনি,আদা, ইত্যাদি।

প্রচুর পরিমাণে জল খেতে হবে।

এছাড়াও শিম বিচি, মটরশুঁটি, বিচিজাতীয় খাবার, বার্লি, ওটস, লাল চাল ও আটা, বাদাম জাতীয় খাদ্য তালিকায় রাখুন।

আমিষ জাতীয় খাবার,মাছ, ডিম, মুরগির মাংস, ইত্যাদি ভালো করে সেদ্ধ খেতে হবে।

টক দইঃ এটি প্রোবায়োটিকস, যা আমাদের শ্বাসযন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্র সংক্রমণের ঝুঁকি প্রতিরোধ করে থাকে।

চাঃ লাল চা, সবুজ চায়ে এল-থেনিন এবং ইজিসিজি (EGCG) নামক অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট থাকে, যা আমাদের শরীরে জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অনেক যৌগ তৈরি করে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।

অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের গুনগত মান ঠিক রাখতে হলে খাবার রান্নার সময় অতিরিক্ত তাপে বা বেশি সময় ধরে রান্না না করে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রায় রান্না করতে হবে।

যে ধরনের খাবার খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিতে সেগুলি হলঃ-

সকল প্রকার কার্বনেটেড বা আল্যকোহল জাতীয় ড্রিংকস ও ধুমপান সহ যে কোন ধরনের মাদক গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

এছাড়াও জর্দা, তামাক, সাদাপাতা, খয়ের ইত্যাদি খাওয়া বাদ দিতে হবে। ঠান্ডা খাবার, আইসক্রিম, চিনি ও চিনির তৈরি খাবার,কারণ এগুলো আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় বাধা দিয়ে ফুসফুসে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়, যা ভাইরাস বা অন্য রোগ সংক্রমণে সহায়তা করে।

ঘুম বা বিশ্রামঃ- এর সঙ্গে দরকার পর্যাপ্ত ঘুম। অপর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম শরীরে কর্টিসল হরমোনের চাপ বাড়িয়ে দেয়। এতে করে আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই সকল পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে।

১/. শাক সবজি রান্না করা আগে ভালো করে ধুয়ে নেবেন।
২/. ফলমূল খাওয়া আগে ভালোভাবে ধুয়ে নেবেন।
৩/.প্রতিবার খাওয়া আগে ভালোভাবে সাবান/ হ্যান্ড স্যানিটাজার দিয়ে হাত ধুয়ে নেবেন।
৪/. বাড়ির থেকে বেরোনোর সময় মুখে মাস্ক ও হাতে গ্লাভস ব্যবহার করবেন।
৫/. অকারণে বাড়ি থেকে বেরোবেন না।

শরীরে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে উপরোক্ত খাবার গ্রহণ ও নিয়মাবলী মেনে চলে হবে। যাতে করে শুধু করোনা ভাইরাস নয়, সকল প্রকার ভাইরাসের সংক্রমণ থেকেই আমরা রক্ষা পেতে পারি।

সব খবর পড়তে আমাদের WhatsApp গ্রুপে যুক্ত হোনএখানে ক্লিক করুন


প্রাসঙ্গিক খবর