শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্দ্রী পদ থেকে ইস্তফা মহিন্দ্রা রাজাপক্ষের, দাবি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের - Bangla Hunt

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্দ্রী পদ থেকে ইস্তফা মহিন্দ্রা রাজাপক্ষের, দাবি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের

By Bangla Hunt Desk - May 09, 2022

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিলেন মহিন্দা রাজাপক্ষে। সোমবার দুপুরে সংবাদ সংস্থা এএনআই খবরটি জানিয়েছে। শ্রীলঙ্কার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে এই খবর প্রকাশ্যে এসেছে বলে জানিয়েছে এএনআইএ।

আরো পড়ুন- Barasat: গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার বিজেপি, জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে বারাসাতে গন ইস্তফা

জানা যাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের অনুরোধ মেনে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করছেন মাহিন্দা। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের বাসভবনে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে রাজি হয়েছেন মাহিন্দা, সংবাদসংস্থা ANI সূত্রে এমনটাই জানা যাচ্ছে।

এপ্রিল থেকে আর্থিক সংকটে বেসামাল শ্রীলঙ্কা। জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। বিভিন্ন দেশের কাছে ঋণে জর্জরিত শ্রীলঙ্কা নিজেকে ‘অর্থনৈতিক ভাবে দেউলিয়া’ ঘোষণা করে। তারপর থেকেই প্রধানমন্ত্রী রাজাপক্ষের ইস্তফার দাবি জোরদার হয়েছিল ভারতের দক্ষিণের এই দ্বীপরাষ্ট্রে। দেশের অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন, ১৯৪৮ সালে শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি কখনও এমন চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে পড়েনি।

শনিবার থেকে সরকারি কর্মীসংগঠনগুলি সরকারবিরোধী আন্দোলনে আমজনতার সঙ্গে সামিল হয়েছে। ঘোষণা মাফিক রেল ও পরিবহণকর্মীরা দেশবাসীর সঙ্গেই রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ শুরু করেন। এর ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জনরোষ সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারির কথা ঘোষণা করেছেন গোতাবায়া রাজাপক্ষে।

প্রসঙ্গত, দেনার দায়ে কার্যত দেউলিয়া শ্রীলঙ্কা। চিনের থেকে যে পরিমাণ ঋণ নিয়েছে শ্রীলঙ্কা, তা শোধ করতে গিয়ে কালঘাম ছুটেছে সে দেশের। চিন সবথেকে বড় ঋণদাতা শ্রীলঙ্কার। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ঋণের দায়ে শ্রীলঙ্কার এই বেহাল দশার জন্য চিন অনেকাংশে দায়ী। শুধু চিন নয়, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন, জাপানের থেকেও ঋণ নিয়েছে এই দ্বীপরাষ্ট্র। এছাড়াও আন্তর্জাতিক সার্বভৌম বন্ডের থেকেও ঋণ নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ২০০৭ সাল থেকে এই ঋণ নিচ্ছে সে দেশ। গত ১৫ বছরে শ্রীলঙ্কায় বিনা প্রয়োজনে গজিয়ে উঠেছে নানা ধরনের প্রকল্প। যে প্রকল্পগুলোর আদৌ হয়ত কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই। আর এই প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ঋণের ভারে জর্জরিত হতে হয়েছে এই দ্বীপরাষ্ট্রকে। এদিকে ঋণ শোধ করার ঠেলায় সে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একধাক্কায় অনেকটা কমে গিয়েছে। যার জেরে কোনও সামগ্রী আমদানি করতে পারছে না শ্রীলঙ্কা। এর ফলে জ্বালানির সংকট দেখা গিয়েছে।২০১৯ সালে শ্রীলঙ্কার ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে অর্গানিক চাষে জোর দেন। রাসায়নিক সার আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। এর ফলে অর্গানিক চাষে ক্ষতির মুখে পড়ে দেশটি।পাশাপাশি করোনাকালে শ্রীলঙ্কার পর্যটন ব্যবসা কার্যত তলানিতে ঠেকেছে।

সব খবর পড়তে আমাদের WhatsApp গ্রুপে যুক্ত হোনএখানে ক্লিক করুন


প্রাসঙ্গিক খবর