বাংলাহান্ট ডেক্স: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই উত্তর ২৪ পরগনার দমদম-ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল শিবিরে বাড়ছে অস্বস্তি। দলের অন্দরেই এখন ঘুরছে একটাই প্রশ্ন—কোথায় পার্থ ভৌমিক? ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে কার্যত জনসমক্ষে দেখা মেলেনি জেলার এই প্রভাবশালী নেতার। অভিযোগ, উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কর্মীরা আক্রান্ত হলেও পাশে নেই নেতৃত্ব।
দমদম, ব্যারাকপুর, বীজপুর-সহ একাধিক এলাকায় ভোট-পরবর্তী উত্তেজনার আবহে বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক বাড়িছাড়া বলেও দাবি স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশের। তাঁদের অভিযোগ, এতদিন যাঁর নির্দেশেই চলত গোটা সাংগঠনিক জেলা, সেই পার্থ ভৌমিক এখন সম্পূর্ণ নীরব। ফোন ধরছেন না, কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন না বলেও অভিযোগ উঠছে।
দলের এক ব্লক স্তরের নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দলের এই বিপর্যয়ের পর এখন কর্মীদের বাড়িতে হামলা হচ্ছে, অনেকে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু জেলার সভাপতি কোথাও নেই। এই সময় নেতৃত্বের পাশে থাকা দরকার ছিল।”
যদিও তৃণমূলের অন্য একটি অংশ অবশ্য এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় পার্থ ভৌমিক প্রকাশ্যে না এলেও সাংগঠনিক স্তরে যোগাযোগ রাখছেন। দলের এক নেতা বলেন, “পরিস্থিতি সামাল দিতেই তিনি ব্যস্ত। বিরোধীরা ইচ্ছাকৃত ভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।”
তবে জেলাজুড়ে বাড়তে থাকা গুঞ্জন থামছে না। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে পার্থ ভৌমিককে নিয়ে কটাক্ষের সুর ক্রমশ চড়ছে। অনেক কর্মীই প্রশ্ন তুলছেন, “দলের সুসময়ে সামনে থাকলে দুঃসময়েও কি নেতাদের দায়িত্ব নেই?”
রাজ্যের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনা বরাবরই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই সংগঠনের ভিতেই যে চাপা অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, পার্থ ভৌমিককে ঘিরে জল্পনা যেন আরও একবার তা স্পষ্ট করে দিল।