নিজস্ব সংবাদদাতা: ভোট মিটতেই ফের উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ। বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে হিংসার অভিযোগ, আর তারই মধ্যে প্রাণ গেল তিন তৃণমূল কর্মীর—এমনই দাবি উঠেছে স্থানীয় সূত্র ও দলীয় মহল থেকে। ঘটনাগুলি ঘিরে চরম উদ্বেগ ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
বীরভূমের নানুরে আবির শেখ নামে এক তৃণমূল কর্মীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, গভীর রাতে কিছু দুষ্কৃতী তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, কলকাতা সংলগ্ন বেলেঘাটায় বিশ্বজিৎ পট্টনায়ক নামে আরেক তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। তিনি ভোট গণনার দিন এজেন্ট হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, সেই কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। রাতের অন্ধকারে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয় বলে পরিবারের দাবি।
এছাড়াও, উত্তরবঙ্গের একটি এলাকায় আরও এক তৃণমূল সমর্থকের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। যদিও ওই ঘটনার বিস্তারিত এখনও স্পষ্ট নয়, তবুও দলীয় সূত্রে দাবি—এটিও ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসার ফল।
এই ধারাবাহিক ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে বিরোধী শক্তি “বদলার রাজনীতি” চালাচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপির তরফে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে—এগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল।
ঘটনাগুলির তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। একাধিক জায়গায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও গ্রেফতারের খবর স্পষ্ট নয়।
রাজ্যে ভোট শেষ হলেও অশান্তির আবহ কাটছে না। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—গণতন্ত্রের উৎসব শেষে কেন রক্তপাত থামছে না? দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে বিভিন্ন মহল।