Bangla Hunt Digital

আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই

আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই<

তেহরান/ওয়াশিংটন/জেরুজালেম: দীর্ঘ উত্তেজনার পর শনিবার ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানে ভয়ংকর মিসাইল হামলা। দাবি, আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানে নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই (Ali Khamenei)। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu জানিয়েছেন, ‘অপারেশন লায়ান্স রোর’-এর লক্ষ্য ছিল খামেনেইয়ের নিরাপত্তা বলয়ের কেন্দ্রবিন্দু। হামলায় সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে তেহরানের সেই সুরক্ষিত কম্পাউন্ড।

সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, শনিবার সকালে ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা ছিল খামেনেইয়ের। গোয়েন্দা সূত্রে সেই তথ্য পেয়ে সময় নষ্ট করেনি ইজরায়েল। আশঙ্কা ছিল, বৈঠকের পরেই তিনি নিরাপদ বাঙ্কারে চলে যেতে পারেন। সেই কারণেই দ্রুত প্রথম স্ট্রাইক। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছে, বিস্ফোরণে গুঁড়িয়ে গিয়েছে পুরো এলাকা।

কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই নিহত। পরে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট Donald Trump সমাজমাধ্যমে লেখেন, “ইতিহাসের অন্যতম কুখ্যাত ব্যক্তির অবসান হল।” ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থাও পরে মৃত্যুর খবর স্বীকার করে নেয় বলে দাবি।

শুধু খামেনেই নন, হামলায় নিহত হয়েছেন তাঁর মেয়ে, জামাই ও নাতনি—এমনই খবর ইরান-ঘনিষ্ঠ সূত্রের। পাশাপাশি ইরানের সেনাপ্রধান আব্দুল রহিম মৌসাভি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদার মৃত্যুর কথাও শোনা যাচ্ছে। ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) শোকবার্তায় বলেছে, “আমরা এক মহান নেতাকে হারালাম।”

ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “এই অপরাধের জবাব দেওয়া হবে। ইসলামিক বিশ্বের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় শুরু হবে।” ইতিমধ্যেই তেহরানে পাল্টা সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলেছে। ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে ইরান সরকার।

বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কোথাও উল্লাস, কোথাও শোক। শ্রীনগরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের খবর মিলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আবহ ঘনিয়েছে। কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা, এই ঘটনা পশ্চিম এশিয়ায় বৃহত্তর সংঘাতের সূচনা করতে পারে।

পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। রাষ্ট্রসংঘ এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে বিশ্বশক্তিগুলির কূটনৈতিক তৎপরতা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।